Published : 19 Jul 2026, 12:51 PM
স্পেনের চিরন্তন ঐতিহ্য ‘ফ্ল্যামেনকো’ শুধু এক টুকরো সংগীত বা নাচ নয়; এ হলো তীব্র আবেগ আর নিখুঁত ছন্দের এক জাদুকরী যুগলবন্দি। ফ্ল্যামেনকো পারফর্মারদের পায়ের দ্রুত ও নিখুঁত কাজ, প্রতিটি লয়ের ওপর অখণ্ড নিয়ন্ত্রণ আর হুট করে গতি পরিবর্তনের সম্মোহন দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধের মতো ধরে রাখে। তালের এই যে মসৃণতা এবং পুরো পরিবেশনজুড়ে যে সুশৃঙ্খল ছন্দ, ঠিক একই শিল্পের দেখা মেলে স্পেনের সবুজ ঘাসের বুকেও। স্প্যানিশ ফুটবল যেন মাঠের বুকে মঞ্চস্থ হওয়া আরেকটি ফ্ল্যামেনকো।
ফ্ল্যামেনকোতে যেমন প্রতিটি মুদ্রার পেছনে থাকে গভীর সাধনা, তেমনি স্প্যানিশ ফুটবলারদের পায়ে বলের দখল রাখা ও ক্রমে ক্রমে প্রতিপক্ষের ব্যূহে প্রবেশ করাটাও এক পরম নান্দনিকতা। ছোট ছোট, নিখুঁত পাসের বুননে তারা যখন মাঠজুড়ে বলের এক সম্মোহনী জাল বিস্তার করে, তখন প্রতিপক্ষ দিশেহারা হয়ে বলের পেছনে ছুটে ছুটে ক্লান্ত হতে থাকে। এই ফুটবল কোনো তাড়াহুড়োর গল্প নয়; এ যেন এক দীর্ঘ সুরের সাধনা, যেখানে বলের পজিশন ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি অবশ করে দেওয়া হয়। আর ঠিক মোক্ষম সময়ে, ফ্ল্যামেনকো নৃত্যের চূড়ান্ত ও তীব্র সমাপ্তির মতোই, নিখুঁত ফিনিশিংয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে ম্যাচের জয় ছিনিয়ে আনা হয়। স্পেনের ফুটবল তাই কেবল একটি খেলা নয়, এ যেন বুট আর বলের ছন্দে বোনা এক চিরন্তন স্প্যানিশ সিম্ফনি।

স্পেনের এই নান্দনিক ফুটবল এমন একটি চিন্তার প্রতিফলন, যা দর্শনের মর্যাদা পায়। ‘টিকিটাকা’ নামের সেই দর্শনের সফল প্রয়োগ ২০১০ সালে স্পেন ফুটবল দলকে দিয়েছে অন্যতম বিশ্বসেরার মর্যাদা। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত স্পেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে যে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল, তা শুধু দুটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও একটি বিশ্বকাপ বিজয়েই সীমাবদ্ধ নয়; তারা ফুটবলের ভাষাটাই বদলে দিয়েছিল। এর ফলে যেন পৃথিবী একযোগে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল, বল যার পায়ে, ম্যাচও তার নিয়ন্ত্রণে।
২.
তবে ট্রফি জেতাই তো শেষ কথা নয়। সবচেয়ে কঠিন কাজ, নিজের আবিষ্কৃত একটি সফল দর্শনকে সময়ের সঙ্গে বাঁচিয়ে রাখা। ইতিহাস বলে, প্রায় সব বড় ফুটবল বিপ্লবই একসময় নিজের সাফল্যের ভারে নুইয়ে পড়েছে। প্রতিপক্ষ শিখেছে, বিশ্লেষণ করেছে, পাল্টা কৌশল তৈরি করেছে। ফলে গতকালের বিপ্লব আজকের পাঠ্যবইয়ে জায়গা পেলেও মাঠে তার কার্যকারিতা কমে যায়। একসময় প্রেসিং, দ্রুত ট্রানজিশন এবং শারীরিক তীব্রতা নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠল; সেই সঙ্গে টিকিটাকার সীমাবদ্ধতাগুলোও স্পষ্ট হতে শুরু করল। দীর্ঘ সময় বল দখলে রেখেও অনেক দল গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। শত শত পাসের পরও প্রতিপক্ষের ঘন রক্ষণ ভাঙা কঠিন হয়ে উঠছিল। তখন বোঝা গেল, বলের দখল নিজে কোনো গন্তব্য নয়; এটি কেবল একটি পথ।
এখানেই স্পেনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এসে দাঁড়ায়। তারা কি নিজেদের ইতিহাস আঁকড়ে ধরে থাকবে, নাকি নিজেদের ইতিহাসকেই নতুন করে লিখবে? প্রশ্নটি শুধু ফুটবলীয় ছিল না, এটি ছিল সাংস্কৃতিকও; কারণ কোনো সভ্যতা, কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো ধারণার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আসে তার সাফল্যের পরে। তখন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, অতীতকে স্মৃতিস্তম্ভ বানানো হবে, নাকি ভিত্তি বানানো হবে।
স্পেন দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছে। এই কারণেই ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে মাঠে নামা স্পেনকে দেখে ২০১০ সালের দলের কথা মনে পড়লেও, তাদেরকে একই দল মনে হয় না। দর্শনের শিকড় একই, কিন্তু গাছটি বদলে গেছে। পুরোনো শেকড় নতুন ডালপালা তৈরি করেছে। ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বদলে যাওয়া স্পেন।

স্পেনের এই রূপান্তরের সবচেয়ে বড় স্থপতি দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তিনি নতুন কোনো মতবাদ আবিষ্কার করেননি; বরং তিনি বুঝেছেন, একটি দর্শনকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে কখনও কখনও তার রূপান্তর জরুরি। বলের দখল থাকবে, কিন্তু সেটি আর আত্মতৃপ্তির বিষয় নয়। প্রতিটি পাসের একটি উদ্দেশ্য থাকবে, প্রতিটি আক্রমণের একটি গন্তব্য থাকবে এবং প্রতিটি অবস্থান পরিবর্তনের লক্ষ্য হবে প্রতিপক্ষের কাঠামো ভেঙে দেওয়া। স্পেনের নতুন ফুটবল এখান থেকেই শুরু।
৩.
স্পেনের এই বিবর্তনকে বোঝার জন্য ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির দিকে আরেকবার তাকাতে হয়; কারণ বর্তমান স্পেনকে বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, তারা কোথা থেকে এসেছে তা বোঝা। দক্ষিণ আফ্রিকার সেই বিশ্বকাপে স্পেন মাত্র আটটি গোল করেছিল। সাতটি ম্যাচের মধ্যে চারটিই জিতেছিল ১-০ ব্যবধানে। পরিসংখ্যান বলছে, সেটি ইতিহাসের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের একটি ছিল না; অথচ সেটিই ছিল আধুনিক ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী দল। তারা নিয়ন্ত্রণ করত ম্যাচের সময়, ছন্দ এবং মানসিকতা। জাভি, ইনিয়েস্তা, বুসকেতস কিংবা আলোনসো শুধু পাস দিতেন না, প্রতিটি পাস দিয়ে প্রতিপক্ষকে নতুন একটি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতেন।
এটি ছিল ধৈর্যের ফুটবল, অপেক্ষার ফুটবল। এটি ছিল প্রতিপক্ষকে নিজের ছন্দে টেনে আনার ফুটবল। কিন্তু আধুনিক ফুটবল সেই অপেক্ষার সময়টুকু কমিয়ে দিয়েছে। আজ প্রতিপক্ষ আপনাকে শত পাস খেলতে দেবে, কিন্তু বক্সের সামনে জায়গা দেবে না। আজ একটি দল বল হারানোর তিন সেকেন্ডের মধ্যেই ছয় কিংবা সাতজন খেলোয়াড় নিয়ে চড়াও হতে পারে। স্পেন যদি আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে থাকত, তাহলে হয়তো তারা এখনও সুন্দর ফুটবল খেলত, কিন্তু আর ভয়ংকর থাকত না। লুইস দে লা ফুয়েন্তের সবচেয়ে বড় সাফল্য এখানেই। তিনি টিকিটাকার আত্মাকে রক্ষা করেছেন, কিন্তু তার শরীর বদলে দিয়েছেন। তারা বলকে আর অলংকার বানায় না, অস্ত্র বানায়; এই পার্থক্যটি সূক্ষ্ম, কিন্তু গভীর।
আগের স্পেন প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে সুযোগ তৈরি করত; বর্তমান স্পেন প্রতিপক্ষের এক মুহূর্তের ভারসাম্যহীনতাকেই সুযোগে পরিণত করে। তারা শুধু পজিশনাল দল নয়, শুধু কাউন্টার অ্যাটাকিং দলও নয়—তারা পরিস্থিতির ভাষা বুঝতে পারে। এই বিশ্বকাপে সেটিই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। কেপ ভার্ডের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র অনেকের কাছে হতাশার ছিল; কিন্তু বড় দলকে বিচার করতে হয় তাদের প্রথম ম্যাচ দিয়ে নয়, প্রথম ধাক্কার পর তারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা দিয়ে। সেই প্রতিক্রিয়াই স্পেনকে আলাদা করেছে।
সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয় ছিল শুধু একটি বড় জয় নয়, এটি ছিল একটি ঘোষণা। স্পেন দেখিয়ে দিল, তারা চাইলে খেলার গতি মুহূর্তের মধ্যে বদলে দিতে পারে। উইং ব্যবহার, দ্রুত ট্রানজিশন এবং অ্যাটাকিং থার্ড জোনে সাহসী দৌড় আগের চেয়ে অনেক বেশি দেখা গেল। উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় আবার অন্য গল্প বলল। সেখানে সৌন্দর্যের চেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল শৃঙ্খলার; স্পেন সেটিও দেখাল।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তারা আক্রমণাত্মক, পর্তুগালের বিপক্ষে কৌশলী, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ধৈর্যশীল এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রায় নির্ভুল। এই চারটি ম্যাচের মধ্যে মিল খুব কম; কিন্তু স্পেনের ভেতরের দর্শন একই থেকেছে। নিজেদের পরিচয় ও চিন্তা বজায় রেখেই প্রতিপক্ষ অনুযায়ী প্রকাশভঙ্গি বদলেছে। আর সেই চিন্তার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, এটি অতীতকে অস্বীকার করে জন্ম নেয়নি; বরং অতীতকে বুঝেই নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলেছে।
৪.

এই বিশ্বকাপে স্পেন দলে প্রতিভার অভাব নেই। দারুণ পারফর্ম করছে তারা। কিন্তু প্রতিভার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিটি প্রতিভা একটি বৃহত্তর কাঠামোর ভেতরে কাজ করছে। ব্যক্তিগত উজ্জ্বলতা এখানে কখনও সমষ্টিগত শৃঙ্খলার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে না, বরং তারই সম্প্রসারণ।
স্পেনের এই পুরো কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু রদ্রি। তাকে শুধু ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বললে ভুল হবে; তিনি খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। কখন খেলা ধীর হবে, কখন হঠাৎ গতি পাবে, কখন ঝুঁকি নেওয়া যাবে কিংবা কখন বল ঘুরিয়ে নতুন জায়গা খুঁজতে হবে—এসব সিদ্ধান্ত তার পায়ের স্পর্শে নির্ধারিত হয়। রদ্রির পাশে রয়েছেন পেদ্রি। ছোট জায়গায় শরীর ঘুরিয়ে জায়গা তৈরি করা, দুই লাইনের মাঝখানে বল গ্রহণ করা, এক স্পর্শে খেলার দিক বদলে দেওয়া কিংবা অসম্ভব মনে হওয়া একটি পাস বের করে আনা—এই কাজগুলো তিনি অনায়াসে করেন।
ডান প্রান্তে ইয়ামাল এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত তরুণদের একজন; কিন্তু তার প্রকৃত গুরুত্ব গোল কিংবা অ্যাসিস্টে সীমাবদ্ধ নয়। ইয়ামাল জায়গা তৈরি করেন। একজন ডিফেন্ডার যখন তাঁকে থামাতে নিজের অবস্থান ছেড়ে বেরিয়ে আসেন, তখন স্পেনের আক্রমণভাগের অন্য খেলোয়াড়দের জন্য নতুন পথ খুলে যায়। দলের আরেক বড় শক্তি ওয়ারজাবাল। কখন বক্সে ঢুকতে হবে, কখন একটু পেছনে সরে জায়গা তৈরি করবেন, কখন প্রথম পোস্টে দৌড় দিতে হবে বা কখন সতীর্থের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে—এগুলো দারুণ বোঝেন তিনি।
এই বিশ্বকাপে মার্ক কুকুরেয়ার কথাও আলাদা করে বলতে হয়। তিনি একইসঙ্গে উইঙ্গার, মিডফিল্ডার এবং ডিফেন্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন। বাম প্রান্ত দিয়ে ওভারল্যাপ করেন, মাঝেমধ্যে ভেতরে ঢুকে অতিরিক্ত মিডফিল্ডার হয়ে ওঠেন, আবার বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই রক্ষণে ফিরে গিয়ে প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণ থামিয়ে দেন। অন্য প্রান্তে পেড্রো পোরো একই দর্শনের আরেকটি রূপ। তার সাহসী দৌড় স্পেনকে আক্রমণে বাড়তি একজন খেলোয়াড় দেয়, আবার দ্রুত নেমে এসে রক্ষণকে ভারসাম্য দেয়।
এখানেই শেষ নয়। বড় টুর্নামেন্টের ইতিহাস বলে, শিরোপা জেতে শুধু প্রথম একাদশ নয়, শিরোপা জেতে পুরো স্কোয়াড। মিকেল মেরিনো সেই সত্যের জীবন্ত উদাহরণ। তিনি মাঠে নামেন, আর ম্যাচের চরিত্র বদলে যায়। মাঝমাঠে বাড়তি শক্তি, আকাশপথে আধিপত্য, শেষ দিকে বক্সে অতিরিক্ত উপস্থিতি—প্রতিটি ভূমিকায় তিনি কার্যকর "সুপারসাব"। এই দলটির দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে; এখানে কোনো একক নায়ক নেই, আছে একটি সুসংগঠিত ধারণা।
৫.
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াইকে শুধু অভিজ্ঞতা বনাম তারুণ্যের লড়াই নয়, এটি অতীত বনাম ভবিষ্যতের লড়াইও নয়; বরং এটি দুই ধরনের পরিণতির লড়াই। একটি দল বহু ঝড় পেরিয়ে নিজেদের পরিণত করেছে, অন্য দলটি নিজেদের পুনর্নির্মাণ করে পরিণত হয়েছে।
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু মেসির প্রতিভাই নয়, তাদের সমষ্টিগত স্মৃতিও। ২০২১ ও ২০২৪ সালে তারা কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে, মাঝখানে ২০২২ সালে জিতেছে বিশ্বকাপ। অসংখ্য চাপের ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছে তারা। তারা জানে, বড় ম্যাচে আবেগকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়; কখন ম্যাচের গতি ভাঙতে হবে, কখন প্রতিপক্ষকে অপেক্ষা করাতে হবে, আবার কখন একটি মুহূর্তকে ইতিহাসে পরিণত করতে হবে।
আবার স্পেনের শক্তি অন্য জায়গায়। তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো, তারা এখনও নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছে, নিজেদের আবিষ্কার করছে। ফুটবলে এটি ভয়ংকর একটি অবস্থা। যে দল প্রতিটি ম্যাচকে শেখার অংশ মনে করে, তার সম্ভাবনার শেষ থাকে না। স্পেনের দিকে তাকালে সেই ক্ষুধাটিই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। তারা শুধু জিততে চায় না, তারা আরও ভালো খেলতে চায় এবং এই মানসিকতাই হয়তো তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
৬.
আধুনিক ফুটবলে প্রায়ই বলা হয়, সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা একসঙ্গে পাওয়া যায় না। বর্তমান স্পেন সেই ধারণাটিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তারা দেখাচ্ছে, ফুটবলকে সুন্দর করেও কার্যকর হওয়া যায়; আবার কার্যকর হয়েও নান্দনিক থাকা যায়। এই কারণেই ২০২৬ সালের স্পেন সম্ভাব্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, সেই সঙ্গে একটি বিবর্তিত ধারণা। একসময় তারা পৃথিবীকে শিখিয়েছিল, বলের দখল কীভাবে আধিপত্যে রূপ নেয়; আজ তারা শেখাচ্ছে, বলের দখলের চেয়েও বড় বিষয় হলো খেলার দখল।
২০০৮ থেকে ২০১২ সালের স্পেন ফুটবলের অভিধানে যোগ করেছিল নতুন শব্দ ‘টিকিটাকা’। এবারে সেই দর্শনের বিবর্তিত রূপ তাদের এনে দিতে পারে আরেকটি বিশ্বশিরোপা। যদি তাই হয়, তাহলে বলতেই হবে, "টিকিটাকা"র গল্প এখনও ফুরায়নি।
জয় প্রকাশ সরকার লেখক ও সাংবাদিক। ইমেইল: [email protected]