Published : 20 Jul 2026, 01:17 AM
অভিন্ন প্রশ্নে চলা এইচএসসি পরীক্ষার রসায়ন প্রথম পত্রের প্রশ্নে ‘অসঙ্গতি’ ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন পরীক্ষার্থীদের একাংশ।
তাদের অভিযোগ, রোববার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত রসায়ন প্রথম পত্র পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণের প্রশ্ন এক ছিল না, যদিও অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে।
ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাংলা ভার্সন ও ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার প্রশ্নে ৩(ঘ) প্রশ্নটি এক ছিল না। তারা ওই প্রশ্নের চার নম্বর দাবি করেছেন।
রাজধানীর মতিঝিলের একটি কলেজের ইংরেজি ভার্সনের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী রোববার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইংরেজি ভার্সনের সৃজনশীল অংশের ৩ নম্বর প্রশ্নে পি, কিউ এবং আর তিনটি মৌলের বহিস্তরের ইলেক্ট্রন বিন্যাস তুলে ধরা হয়।
‘ঘ’ প্রশ্নে বলা হয়, কিউ ও আরের মধ্যে কোনটি রঙিন যৌগ গঠন করে তা বিশ্লেষণ করতে হবে।
“সে অনুযায়ী উত্তর দিয়েছি। কিন্তু রাতে ঢাকা বোর্ডের বাংলা ভার্সনের পরীক্ষার প্রশ্নটি সামনে আসে। সেখানে একই বহিস্তরের ইলেক্ট্রন বিন্যাস থাকা ওই তিনটি মৌলের উল্লেখ থাকলেও সেখানে পি ও আরের মধ্য কোনটি রঙিন যৌগ গঠন করে তা বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে,” বলেন ওই শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, “শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় যেহেতু বলেছেন অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা হচ্ছে, সেখানে একই বোর্ডের দুই ভার্সনের প্রশ্ন এসেছে। এটা নিশ্চয়ই ভুল।”
ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীরা ওই প্রশ্নের জন্য নম্বব পাবেন না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, “অভিন্ন প্রশ্ন হলেও যেহেতু বাংলা ভার্সনের পরীক্ষার্থী বেশি, তাদের প্রশ্নটি ইংরেজিতে ট্রান্সলেট করে ইংরেজি ভার্সনে সবরাহ করার কথা। দুটি প্রশ্ন দুই রকম হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন।”

এ অসঙ্গতির জন্য তিনি ওই প্রশ্নে ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার দাবি জানান।
তবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের একটি রসায়ন প্রথমপত্র বইয়ের লেখক ও রাজধানীর পল্লবী সরকারি কলেজের অধ্যপক বিদ্যুৎ কুমার রায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ওই প্রশ্নটি আলাদা হলেও কোনটিই ভুল নয়।
তিনি বলেন, “প্রশ্নে তিনটি মৌলের বহিস্তরের যে ইলেক্ট্রন বিন্যাস তুলে ধরা হয়েছে তাতে বাংলা ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের পি ও আরের মধ্যে একটি রঙিন যৌগ গঠন করে। আবার কিউ ও আরের মধ্যেও একটি মৌল রঙিন যৌগ গঠন করে।
“তাই রসায়ন বিজ্ঞানের হিসাবে কোনটিই ভুল না। দুইটি আলাদা প্রশ্ন হতে পারে। কিন্তু তারা কোনটিই ভুল নয়।”
অধ্যপক রায় বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষা যেহেতু অভিন্ন প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা এসছে, সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে এটা একটি অসঙ্গতি, যা ট্রান্সলেশনের সময় হয়ত অসাবধানতাবশত হয়েছে। কিন্তু দুটি প্রশ্নের কোনটিই ভুল নয়।”
শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে কথা বলতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।
যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামালউদ্দিন হায়দারও ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে ঢাকা বোর্ডের এইচএসসির একাধিক পরীক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করা রাজধানীর একটি কলেজের রসায়ন বিষয়ের একজন শিক্ষক নাম না প্রকাশ করার অনুরোধ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ দুটি প্রশ্নে কোনোটিই ভুল নয়। তবে একটু ভিন্নতা আছে। এটি শিক্ষা বোর্ডের নজরে এলে তা বড় ধরনের সমস্যা করবে না।
“কারণ ইংরেজি ভার্সনের খাতা ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষকরা দেখবেন, আর বাংলা ভার্সনের খাতা বাংলা ভার্সনের পরীক্ষকরা দেখবেন। বোর্ড থেকে দুই ভার্সনের পরীক্ষকদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হলে আর জটিলতা হবে না।”
তিনি বলেন, “পাবলিক পরীক্ষার খাতা দেখার সময় আমরা পরীক্ষার্থীদের বেনিফিট অব ডাউট দেই। তাই বোর্ড থেকে নির্দেশনা দেওয়া হলে এ প্রশ্নে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা সব পরীক্ষার্থীকেই পূর্ণ নম্বর দেওয়ার রেওয়াজ আছে।”
এর আগে গত ১৩ জুলাই পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষা দুটি ভুল প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় পরীক্ষার্থীদের। পরে দুই প্রশ্নের জন্য সবাইকে পুরো নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।