Published : 20 Jul 2026, 04:40 PM
অনলাইনে বা দোকানে গিয়ে নিজের গায়ের রংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন, কনসিলার বা লিপস্টিক কেনার পরও অনেক সময় মুখে ঠিকমতো মানায় না।
মেইকআপ করার কিছুক্ষণ পরই পুরো মুখ কালচে, মলিন বা অতিরিক্ত ফ্যাকাশে দেখায়।
রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, এর মূল কারণ গায়ের রংয়ের ওপরের স্তর বা ‘স্কিন টোন’ মিললেও, ত্বকের ভেতরের আসল রং, মানে ‘স্কিন আন্ডারটোন’ না মিলিয়ে মেইকআপ বেছে নেওয়া।
মার্কিন সেলিব্রিটি মেইকআপ আর্টিস্ট ইয়োলান্ডা ফ্রেডরিক সেল্ফ ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “কড়া রোদ বা শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমাদের ত্বকের ওপরের রং সাময়িক পরিবর্তিত হতে পারে। তবে ত্বকের ঠিক নিচের স্তরের রং বা ‘আন্ডারটোন’ সারাজীবন একই থাকে। তাই নিখুঁত মেইকআপের জন্য নিজের আন্ডারটোন জানা জরুরি।”
সাধারণত ত্বকের ‘আন্ডারটোন’ চার ধরনের হয়ে থাকে: ‘ওয়ার্ম’ বা উষ্ণ, ‘কুল’ বা শীতল, ‘নিউট্রাল’ বা স্বাভাবিক এবং ‘অলিভ’।
ঘরেই ৩টি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে নিজের আন্ডারটোন চিনে নেওয়া সম্ভব।
আন্ডারটোন চেনার ৩টি সহজ ঘরোয়া পরীক্ষা
কবজির রগ বা শিরা পরীক্ষা
দিনের আলোতে নিজের হাতের কবজির শিরার রং লক্ষ করা উচিত। শিরার রং যদি নীল বা বেগুনি দেখায়, তবে বুঝতে হবে আন্ডারটোনটি শীতল। যদি শিরাগুলো সবুজ আভাযুক্ত দেখায়, তবে তা উষ্ণ আন্ডারটোন। আর যদি নীল এবং সবুজ দুই রংয়ের শিরাই স্পষ্ট হয়, তবে আন্ডারটোনটি স্বাভাবিক বা ‘অলিভ’।
গয়না পরীক্ষা
সোনার নাকি রুপার গয়না, কোনটিতে বেশি মানায়, তা খেয়াল করা উপকারী।
যাদের ত্বকে সোনার গয়না বেশি উজ্জ্বল দেখায়, তাদের আন্ডারটোন সাধারণত উষ্ণ। আর যাদের রুপা বা ডায়মন্ডের গয়নায় বেশি ভালো দেখায়, তাদের আন্ডারটোন শীতল।
যদি সোনা এবং রুপা দুই ধরনের গয়নাই সমানভাবে মানিয়ে যায়, তবে তা স্বাভাবিক বা অলিভ আন্ডারটোন নির্দেশ করে।
পোশাকের রং পরীক্ষা
আলমারিতে থাকা পোশাকের রংয়ের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। কমলা, হলুদ, গাঢ় সবুজ কিংবা অফ-হোয়াইট পোশাকে যাদের বেশি প্রাণবন্ত দেখায়, তারা উষ্ণ আন্ডারটোনের অধিকারী।
অন্যদিকে বেগুনি, গোলাপি, ধবধবে সাদা এবং নীল রংয়ের পোশাকে যাদের বেশি ভালো দেখায়, তাদের আন্ডারটোন শীতল।
আর স্বাভাবিক বা অলিভ আন্ডারটোনের ক্ষেত্রে প্রায় সব রংয়ের পোশাকই মানিয়ে যায়।
আন্ডারটোন অনুযায়ী সঠিক মেইকআপ বেছে নেওয়ার নিয়ম
অ্যাটলান্টা-ভিত্তিক মেইকআপ বিশেষজ্ঞ কনর নিউম্যান একই প্রতিবেদনে জানান জানান, অনেক ব্র্যান্ডের ফাউন্ডেশন বা কনসিলারের গায়ে আন্ডারটোন নির্দেশক কোড যেমন— ‘সি’ মানে ‘কুল’ বা শীতল, ‘ডব্লিউ’ মানে ‘ওয়ার্ম’ বা উষ্ণ এবং ‘এন’ মানে ‘নিউট্রাল’ বা স্বাভাবিক লেখা থাকে, যা দেখে কেনা সুবিধাজনক।
শীতল আন্ডারটোন: ফাউন্ডেশন কেনার সময় আইভরি, ভ্যানিলা বা পার্ল নামযুক্ত শেইডগুলো বেছে নেওয়া উচিত। ব্লাশ এবং লিপস্টিকের ক্ষেত্রে লাল বা নীল রং যেমন: রোজ-গোল্ড, প্লাম, বেরি বা চেরি রেড ব্যবহার করা উপকারী।
উষ্ণ আন্ডারটোন: গোল্ডেন, হানি, ক্যারামেল বা সিনামন নামযুক্ত মেইকআপ শেইডগুলো এদের জন্য নিখুঁত। ব্লাশ ও লিপস্টিকের জন্য পিচ, ব্রোঞ্জ, কোরাল বা কমলাভ লাল রং বেছে নেওয়া ভালো।
স্বাভাবিক ও অলিভ আন্ডারটোন: মেইকআপের নামের সঙ্গে ‘ন্যাচারাল’, ‘বেইজ’ বা ‘ন্যুড’ লেখা থাকলে তা সহজেই মানিয়ে যায়। লিপস্টিক ও ব্লাশের ক্ষেত্রে পিচ, অ্যাপ্রিকট বা রোজ রং ব্যবহার করা বেশ মানানসই।
তবে অলিভ ত্বকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ‘কুল’ বা লালচে ফাউন্ডেশন এড়িয়ে চলা উচিত, অন্যথায় মুখ ছাই রংয়ের দেখাতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
দোকানের কৃত্রিম তীব্র আলোতে ফাউন্ডেশন পরখ না করে দিনের স্বাভাবিক আলোতে পরীক্ষা করা উচিত। গালের নিচের অংশে বা ‘জ-লাইন’-এ ফাউন্ডেশন লাগানোর পর, যদি ত্বকের সঙ্গে মিশে অদৃশ্য হয়ে যায়, তবে সেটি সঠিক শেইড হিসেবে ধরে নেওয়া যায়।
আরও পড়ুন
পাপড়ি না ঝরিয়ে চোখের মেইকআপ তোলার উপায়