Published : 05 Feb 2026, 06:19 PM
খাবার বা প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কেনাকাটার সময় বিজ্ঞাপন, সীমিত সময়ের ছাড়, নতুন পণ্যের প্রচারণা দেখে অনেকের জন্যই কেনাকাটার প্রলোভন এড়ানো কঠিন।
কোনো কোনো সময় এমন জিনিস কিনে ফেলা হয়, যা ওই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় লাগলেও পরে মনে হয় সেটা খুব একটা দরকার ছিল না। ফলে ঘরে জমে অপ্রয়োজনীয় জিনিস।
আর বাড়ে আর্থিক চাপ এবং মানসিক অস্বস্তি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিপণন ও ভোক্তা আচরণ বিষয়ে অধ্যাপক এবং গবেষক ড. নিকোল আর্নেট স্যান্ডার্স রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার বড় লক্ষণ হল- কেনা জিনিস ব্যবহার না করা। অনেকের ঘরে দাম লেখা ট্যাগ লাগানো পোশাক পড়ে থাকে, কখনও খোলা হয়নি এমন প্যাকেট থাকে। কিংবা একই ধরনের জিনিস একাধিকবার কেনা হয়।”
অন্যদিকে আর্থিক শিক্ষা বিষয়ক মার্কিন বিশেষজ্ঞ ও লেখক কিম স্কলার একই প্রতিবেদনে বলেন, “সমস্যা শুধু কেনাকাটা নয়, বরং কেনাকাটার মাধ্যমে অনেক সময় নিজের আবেগ সামলানোর চেষ্টা করা হয়।”
যে কারণে প্রয়োজন ছাড়াই জিনিস কেনা হয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার পেছনে থাকে আবেগ। ক্লান্তি, মানসিক চাপ, একঘেয়েমি বা মন খারাপ থাকলে দ্রুত ভালো লাগার কিছু খোঁজ করা হয়। আর কেনাকাটা তখন সহজ সমাধান হিসেবে সামনে আসে।
মানুষ অনেক সময় জিনিস কেনে বাস্তব প্রয়োজনের জন্য নয়, বরং নিজেকে ভালো অনুভব করার জন্য। নতুন কিছু কিনলে সাময়িক আনন্দ পাওয়া যায়, তবে সেটি বেশিক্ষণ থাকে না। তখন আবার নতুন কিছু কেনার ইচ্ছা তৈরি হয়।
এছাড়া মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থার সঙ্গেও এই অভ্যাস জড়িত। নতুন কিছু কেনার আগে যে উত্তেজনা কাজ করে, সেটাই আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। তবে জিনিসটি হাতে পাওয়ার পর সেই আনন্দ দ্রুত কমে যায়, ফলে আবার নতুন কেনার ইচ্ছে জন্মায়।
অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার প্রভাব
প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুতর মনে না হলেও দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে অনেক ধরনের সমস্যাই তৈরি হয়।
ঘরে অগোছালো অবস্থা তৈরি হয়, অর্থ সঞ্চয় কমা এবং পরে কেনাকাটার জন্য অপরাধবোধও জন্ম নিতে পারে।
কেনার আগে একটু সময়
কিম স্কলার পরামর্শ দেন, “কোনো জিনিস কিনতে ইচ্ছে হলে সঙ্গে সঙ্গে না কিনে অন্তত একদিন অপেক্ষা করা উচিত। অনেক সময় মুহূর্তের ইচ্ছা পরের দিন আর ততটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না।”
ড. স্যান্ডার্স বলেন, “দোকানে পছন্দের জিনিস দেখলে সেটির ছবি তুলে রেখে চলে আসা যায়। একদিন পরও যদি সেটি সত্যিই প্রয়োজনীয় মনে হয়, তখন কিনতে পারেন। এতে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে কেনাকাটা কমে যায়।”
নিজের আবেগের কারণ খোঁজা
অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার পেছনে কোন পরিস্থিতি কাজ করছে, তা বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ। হয়ত কাজের চাপের পরে, একা লাগলে অথবা সামাজিক মাধ্যমে সময় কাটাতে গিয়ে কেনাকাটার ইচ্ছে তৈরি হয়।
যদি বোঝা যায় কোন আবেগ কেনাকাটার ইচ্ছা বাড়ায়, তাহলে সেই পরিস্থিতিতে বিকল্প কিছু করা যায়। যেমন- হাঁটতে যাওয়া, বন্ধুর সঙ্গে কথা বলা বা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া।
বড় লক্ষ্য ঠিক করলে ছোট খরচ কমে
যদি সামনে কোনো বড় লক্ষ্য থাকে, যেমন- বাড়ি কেনা, ভ্রমণ বা ঋণ পরিশোধ— তাহলে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো সহজ হয়। কারণ তখন প্রতিটি খরচের আগে মনে হয়, এই টাকা অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগানো যায়।
বড় লক্ষ্য চোখের সামনে থাকলে ছোটখাটো হঠাৎ কেনাকাটার প্রলোভন কমে যায়।
কেনাকাটার বদলে অন্য আনন্দের পথ খোঁজা
অনেকেই কেনাকাটা পছন্দ করেন কারণ এতে ভালো বোধ তৈরি হয়। তাই একে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে বিকল্প আনন্দের পথ খুঁজে নেওয়া দরকার।
হাঁটা, ব্যায়াম, প্রিয় বই পড়া, বন্ধুর সঙ্গে কথা বলা বা কোনো শখের কাজে সময় কাটানোও একই রকম মানসিক স্বস্তি দিতে পারে।
এমনকি যে টাকা খরচ করা হয়, সেটি সঞ্চয় হিসাবে জমা রাখলেও একধরনের সন্তুষ্টি পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন
বাসার যেসব জিনিস কেনা মানে অর্থের অপচয়