Published : 08 Mar 2024, 07:30 PM
কথায় বলে- শখের তোলা আশি টাকা। তবে ঘরের জিনিস কেনার ক্ষেত্রে দামের চাইতে ব্যবহারের দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সোফা বা বিছানার চাদর কিংবা ম্যাট্রেস প্রয়োজনীয়। একইভাবে ঘরে পর্দাও দরকার। তবে দামি রড আর পর্দা কি খুব বেশি জরুরি অথবা কার্পেট?
তাই ঘরের প্রয়োজনে অতিরিক্ত খরচ না করে দরকারী জিনিসে অর্থ ব্যয় করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় জানা থাকা দরকার।
দামি রাগস বা গালিচা
যে কোনো ধরনের গালিচা বা কার্পেটের দাম অনেক। বিশেষ করে যেগুলোর কারুকাজ বেশি।
এই বিষয়ে মার্কিন অন্দরসজ্জাকর কেট ডসন বলেন, “এই ধরনের গালিচা কেনা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়।”
রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিউ জার্সি নিবাসী এই ঘরসজ্জাকর ব্যাখ্যা করেন, “পার্সিয়ান, হাতে বোনা ও ‘অ্যান্টিক’ ধর্মী গালিচা দেখতে সুন্দর। তবে এসব শৌখিন বস্তু কি খুব বেশি কাজে লাগে? বরং অর্থের অপচয় হয়। কারণ মার্কেটে অনেক সস্তায় গালিচা কিনতে পাওয়া যায়।”
তিনি আরও বলেন, “সাধারণত পাঁচ-ছয় বছর পর পর ঘরের সজ্জা পরিবর্তন করার ইচ্ছে জাগতে পারে। তাই বেশি দাম দিয়ে কার্পেট বা গালিচা কিনে সেটা কয়েক বছর পর ফেলে রাখা ছাড়া আর কোনো কাজে আসবে না।”
পর্দা ও রড
জানালার জন্য আলাদাভাবে তৈরি করা পর্দা ও রডের খরচ অনেক। এত টাকা খরচ করার কী দরকার যেখানে সস্তায় ‘তৈরি পর্দা’ কিনতে পাওয়া যায়।
“বিভিন্ন নকশার পর্দা ও রড এখন বাজারে সয়লাব। সেসব থেকে মন মতো বেছে নেওয়া যায়। আর সাধারণের চাইতে জানালার আকৃতি যদি বেশি বড় হয়, সেক্ষেত্রে উপায় হল কয়েকটা পর্দা বেশি কেনা। তাছাড়া বড় পর্দাও কিনতে পাওয়া যায় যেগুলো তুলনামূলক অনেক সস্তা”- বলেন ডসন।
ঘর সাজানোর বালিশ
যেখানে বালিশের প্রয়োজন হয় ঘুমাতে, সেখানে সাজানোর জন্য বালিশ কেনা মানে অপচয়। তাছাড়া বড় দামি দোকান থেকে নকশাদার বালিশ কেনার চাইতে, সাধারণ দোকান থেকেই ভালো মানের সাজানোর বালিশ কেনা যায় কম দামে।
শিল্পকর্ম
ঘরের দেয়াল সাজাতে চিত্রকর্ম ঝোলাতে অনেকেই পছন্দ করেন। তবে সেগুলোর যেমন দাম বেশি তেমনি রক্ষণাবেক্ষণেও খরচ রয়েছে।
“বাসার জন্য দামি শিল্পকর্ম কেনার কোনো মানে হয় না। যদি না আপনি অনেক ধনী হন”- মন্তব্য করেন ডসন।
এরচেয়ে নানান ধরনের উচ্চমানের প্রিন্ট করা ছবি ফ্রেম করে সাজালে খরচ কম হবে।
মৌসুমি সজ্জা
“কোনো জিনিস সারা বছর কাজে না লাগলে সেটা কেনার দরকার নেই”- একই প্রতিবেদনে পরামর্শ দেন অন্দরসজ্জা-বিষয়ক মার্কিন টিভি চ্যানেল ‘এইচজি টিভি’র উপস্থাপক ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার শেয় হল্যান্ড।
তিনি বলেন, “যে কোনো উৎসব উপলক্ষ্যে দামি কোনো কিছু কেনা বোকামি। যেমন- নতুন বছর, ক্রিসমাস বা এরকম কোনো উৎসবে লাল টেবিল ক্লথ দেখতে বেশ লাগে। তবে সেটা ওই দিনের জন্যই। তারপর তো আবার সেটা গুটিয়ে রাখা হবে পরের বছরের জন্য। সেকারণে এরকম মৌসুম-ভিত্তিক কোনো কিছু কেনার ক্ষেত্রে বাজেট কমানোই হবে শ্রেয়।”
আলোকসজ্জা
ঘরের আলোর জন্য দামি নকশাদার আলোকদানি কেনার দরকার মনে করেন না- মার্কিন অন্দরসজ্জার প্রতিষ্ঠান ‘ডিয়ানা লেঞ্জ ইন্টেরিয়র্স’য়ের ডিয়ানা লেঞ্জ।
তার কথায়, “সাধারণ দোকানে নানান ধরনের সাশ্রয়ী সুন্দর আলোকসজ্জার সরঞ্জাম পাওয়া যায়। বরং সেগুলো লাগানো মানে অর্থ বাঁচানো।”
আরও পড়ুন
পুরানো খবর:
যেভাবে ঘর সাজালে পরিষ্কার করা সহজপুরানো খবর:
ঘর গোছানোর প্রচলিত ভুল ধারণাপুরানো খবর:
গ্রীষ্মে ঘরে আনুন সতেজ অনুভূতিপুরানো খবর:
ঘরের দেয়ালে ‘ড্যাম্প’ রোধ করতে