১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘মিনিমালিস্ট গিফ্ট’: অপচয় রোধে অর্থপূর্ণ উপহার

পরিমিত ও পরিবেশবান্ধব উপহারের ভাবনায় পাল্টে যায় উৎসবের রং।

‘মিনিমালিস্ট গিফ্ট’: অপচয় রোধে অর্থপূর্ণ উপহার
ছবি: রয়টার্স।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jun 2025, 04:58 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:15 PM

সব মানেই যেন উপহারের বাহার। আর এই চর্চা সমাজে বহুদিনের। তবে বর্তমান সময়ে এসে অনেকেই ভাবছেন, এত আয়োজনের মধ্যে আসল ভালোবাসা কতটা থাকে?

উপহার মানে কি সত্যিই বড় কিছু হতে হবে? এই প্রশ্ন থেকেই তৈরি হয়েছে ‘মিনিমালিস্ট গিফটিং’ ধারাটি। অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে চাহিদা বাড়িয়ে ফেলে, সেখানে এই ধারা হতে পারে একটি নতুন ও সচেতন পথ।

কী এই মিনিমালিস্ট গিফটিং?

‘মিনিমালিস্ট’ মানে হল কম জিনিসে অধিক মান। ‘মিনিমালিস্ট গিফটিং’ বলতে বোঝায় এমন উপহার দেওয়া, যা প্রয়োজনীয়, অর্থবোধক। আর এর মাধ্যমে অতিরিক্ত খরচ বা অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয় না।

এই ধারায় উপহার হয় ছোট, সরল, তবে মনের মতো। এর মূল ভাবনা ‘কম দাও, কিন্তু বুঝে দাও’।

কেন এই ট্রেন্ড জনপ্রিয় হচ্ছে?

রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে অনেক মানুষ এমন উপহার পান যা তারা কখনও ব্যবহারই করেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২২ সালের একটি জরিপ বলছে, প্রতি চার জনের মধ্যে তিন জন এমন উপহার পান যা তারা পছন্দ করেন না, আর ১৭ শতাংশ তা ফেলে দেন।

তাই অনেক সময় উপহার বিনিময় হয় লোক দেখানো বা সামাজিক চাপে পড়ে। ফলে সম্পর্কের আন্তরিকতা কমে যায়, বাড়ে অপচয়।

চারটি বিষয়ের ওপর জোর

অনেকে একটি বিশেষ নিয়ম মেনে উপহার নির্বাচন করেন। যেখানে গুরত্ব দিতে হবে প্রিয়জনের কোনো একটি ‘ইচ্ছার’ জিনিসের উপর, যা সে ‘প্রয়োজনে’ ব্যবহার করবে, পরিধানযোগ্য কিছু যেমন- স্কার্ফ, পাঞ্জাবি, জুতা, একটি বই, যা তার চিন্তায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে এই চার বিষয়ে।

এই চার বিভাগের মধ্যে থেকে প্রতিটি জনের জন্য একটি করে উপহার দিলেই উসবের আনন্দ বজায় থাকে, আবার চটকদার নয় বরং চিন্তাশীল হয় উপহারের ধরন।

জিনিসের চেয়ে অভিজ্ঞতা উপহার

জিনিস একসময় পুরানো হয়ে যায়। তবে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিন মনে থাকে। তাই এই ধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া।

এমন অনেক দারুণ উপায় খুঁজে বের করা সম্ভব। যেখানে ঘুরে আসা যায় কাছের কোনো প্রাকৃতিক স্থানে যেমন- সাজেক, পঞ্চগড়, সুন্দরবন।

এছাড়া পুরো পরিবারের জন্য সিনেমা দেখা বা নাটক উপভোগের দিন ঠিক করা যায়। বাসায় বিশেষ খাবার রান্না করে ঘরোয়া ‘খাবার উসব’ আয়োজন ভালো উপায়।

আবার ছোটদের জন্য একটি চিত্রাঙ্কন বা মাটির শিল্প কর্মশালায় নাম লেখানোও যেতে পারে। এমন অভিজ্ঞতা কিন্তু অর্থ ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি মূল্যবান হয়ে ওঠে মনের দিক থেকে।

ভোজ্য বা ব্যবহৃত হয়ে যাওয়ার মতো উপহার

যে উপহার একসময় শেষ হয়ে যাবে সেই উপহারও মনের মতো হতে পারে। এমন উপহারের মধ্যে পড়বে বাড়িতে বানানো পিঠা, আচাড় বা জ্যাম।

প্রিয় চায়ের প্যাকেট দেওয়া, যা দেশীয় ব্র্যান্ড হলেই ভালো। আবার প্রিয় ‘বিউটি প্রোডাক্ট’ বা ঘরোয়া ত্বক পরিচর্যার উপাদান দেওয়া যায়। প্রিয়জনের জন্য সুগন্ধি মোমবাতি বা ‘হ্যান্ডক্রাফটেড’ সাবান কেনাও ভালো বুদ্ধি।

এগুলো উপহার হিসেবে কম দামি হলেও ব্যক্তিগত স্পর্শ থাকায় এর মূল্য অনেক বেশি। তাছাড়া ঘর ভর্তি করে রাখে না অর্থা, জঞ্জাল বাড়ায় না।

দানমূলক উপহার: মনের প্রশান্তি

যারা সবই পেয়ে গেছেন জীবনে তাদের জন্য হতে পারে ভিন্নধর্মী উপহার। যাকে বলা যায় দানমূলক কিছু।

এটি হতে পারে কোনো শিশুশিক্ষা কার্যক্রমে অনুদান, পথশিশুদের খাবারের জন্য দান, গৃহপালিত প্রাণীর আশ্রয়কেন্দ্রে অনুদান বা কোনো বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা।

যদি ছোট একটি কার্ডের মাধ্যমে প্রিয়জনকে জানাতে পারেন যে তার নামে এ সহায়তা করা হয়েছে। এতে উপহারের সঙ্গে থাকে মানবিকতা।

নিজের হাতে বানানো উপহার

এক কাপ চা আর সঙ্গে প্রিয়জনের হাতে বানানো কিছু- এর চেয়ে মধুর উপহার আর কী হতে পারে?

ঘরোয়া পরিবেশে এমন অনেক উপায় আছে। যেমন- নিজের তোলা ছবি ফ্রেমে সাজিয়ে দেওয়া, কাঠ বা মাটির হস্তশিল্প, উল দিয়ে বানানো স্কার্ফ, হাতে লেখা কবিতা বা গল্প। এসব উপহার দামি নয়, তবে স্মৃতিময়, মায়াভরা।

স্থানীয় ও ক্ষুদ্র ব্যবসার পাশে দাঁড়ানো

সবের সময় বড় বড় ‘সুপারশপ’ বা ‘ই-কমার্স’ নয়, বরং পাশের হস্তশিল্প দোকান, স্থানীয় জামদানির দোকান বা কোনো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার কাছ থেকে উপহার কিনলে অর্থ যায় সেই মানুষের ঘরে, যিনি সত্যিই কষ্ট করে সেগুলো তৈরি করেছেন।

এতে যেমন দেশের ক্ষুদ্র অর্থনীতি চাঙা হয়, তেমনি পাওয়া যায় একান্ত ও অনন্য উপহার।

আরও পড়ুন

ফিটনেস-প্রেমী বন্ধুর জন্য সেরা উপহার

উপহার দেওয়ার কৌশল

শিশুর জন্য অন্যরকম উপহার