Published : 21 Jun 2026, 05:13 PM
ঘন ও উজ্জ্বল চুল শুধু সৌন্দর্যের অংশই নয়, বরং চুলের সুস্থতারও প্রতিচ্ছবি।
তবে দামি প্রসাধনী ব্যবহার মানেই চুল ভালো থাকবে তা নয়। চুল সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের ছোট যত্ন হলেই চলে।
প্রতিদিন চুল আঁচড়ানো
চুল আঁচড়ানোর উদ্দেশ্য শুধু জট ছাড়ানো। তাই এই যত্নকে ছোট মনে হলেও উপকারিতা অনেক বেশি।
জারা’স বিউটি লাউঞ্জ অ্যান্ড ফিটনেস সেন্টারের প্রধান ও রূপবিশেষজ্ঞ ফারহানা রুমি বলেন, “প্রতিদিন চুল আঁচড়ালে মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়ে। ফলে চুলের গোড়া সুস্থ থাকে এবং নতুন চুল গজানোর জন্য অনুকূল পরিবেশও তৈরি হয়।”
এছাড়া মাথার ত্বকে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল, মৃত কোষ ও বিভিন্ন প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশও সহজে দূর হয় এই ছোট যত্নে। ফলে মাথার ত্বক পরিষ্কার থাকে এবং ত্বকজনিত সমস্যার ঝুঁকিও কমে।

কোমলভাবে চুল আঁচড়ানো
চুল আঁচড়ানোর সময় তাড়াহুড়া বা জোর প্রয়োগ করা খারাপ। কারণ এতে চুল ভেঙে যেতে পারে। বিশেষ করে ভেজা চুল অনেক বেশি নরম ও সংবেদনশীল থাকে।
এই রূপসজ্জাবিদের মতে, “বড় ফাঁকযুক্ত চিরুনি বা এমন ব্রাশ ব্যবহার করা উচিত, যা চুলে অযথা টান সৃষ্টি করে না। চুল ধোয়ার আগে আলতোভাবে আঁচড়ালে ময়লা ও জট সহজে দূর হয়।”
“আবার চুলে পরিচর্যার উপকরণ লাগানোর পর ভেজা অবস্থায় ধীরে ধীরে জট ছাড়ালে ক্ষতির আশঙ্কা অনেক কম থাকে”, বলেন তিনি।
মাথা ও চুলে আলাদা নিয়মে উপকরণ ব্যবহার
চুল পরিষ্কার করার উপকরণ এবং কোমল রাখার উপকরণের কাজ এক নয়। তাই ব্যবহারেও পার্থক্য থাকা দরকার।
চুল পরিষ্কার করার উপকরণ, মাথার ত্বককে গুরত্ব দিয়ে ব্যবহার করতে হবে। শ্যাম্পু ব্যবহার করলে, আঙুলের নরম অংশ দিয়ে আলতোভাবে মালিশ করতে হবে।
ফেনা ধুয়ে যাওয়ার সময় স্বাভাবিকভাবেই চুলের বাকি অংশ পরিষ্কার হয়ে যায়। চুলের আগায় আলাদা করে অনেক বেশি ঘষে পরিষ্কার করলে শুষ্কতা ও ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ে।
অন্যদিকে কোমল রাখার উপকরণ সাধারণত চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে আগা পর্যন্ত ব্যবহার করা উচিত। এতে চুল মসৃণ থাকে এবং সহজে জট বাঁধে না।

খুব গরম পানি এড়িয়ে চলা
মনে হতে পারে গরম পানি দিয়ে চুল ধুলে বেশি পরিষ্কার হয়। তবে অতিরিক্ত গরম পানি, চুলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা নষ্ট করে দিতে পারে।
ফারহানা রুমির মতে, “অতিরিক্ত গরম পানি চুলের বাইরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দেয়। এতে চুল শুষ্ক, রুক্ষ ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে যাদের খুশকি, ত্বকের প্রদাহ বা সংবেদনশীল মাথার ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।”
হালকা গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করলে, চুলের উজ্জ্বলতা বজায় থাকে এবং মাথার ত্বকও আরামদায়ক থাকে।
ভেজা চুল মুছতে হবে ধীরে
চুল ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষে পানি মোছার অভ্যাস অনেকের আছে। তবে এটি চুলের জন্য ক্ষতিকর।
ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে দুর্বল থাকে। তাই ঘষার পরিবর্তে, তোয়ারে বা গামছা দিয়ে আলতোভাবে চেপে অতিরিক্ত পানি শুষে নেওয়া উচিত।
হালকা ও নরম কাপড়ের তোয়ালে ব্যবহার করলে চুলে ঘর্ষণ কম হয় এবং ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।
আবার চুল সম্পূর্ণ শুকানোর আগেই শক্তভাবে বাঁধাও ঠিক নয়। এতে গোড়ায় চাপ পড়ে এবং চুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

সূর্যের তাপ থেকেও চুলের সুরক্ষা দরকার
ত্বকের মতো চুলেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায় এবং চুল রুক্ষ হয়ে পড়ে।
অতিবেগুনি রশ্মি চুলের গঠনকারী উপাদানের ক্ষতি করে। যে কারণে চুলের রং ফিকে হয়ে যেতে পারে এবং চুলে আসতে পারে শুষ্কতা ও ভঙ্গুরতা। পাশাপাশি মাথার ত্বকেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে।
তাই রোদে বের হলে টুপি বা মাথা ঢাকার ব্যবস্থা করলে চুল ও মাথার ত্বক দুটিই সুরক্ষিত থাকে।
পুষ্টিকর খাবার বাড়ায় চুলের শক্তি
চুলের যত্নে খাবারর বিষয়টিকে অনেক সময় গুরত্ব দেওয়া হয় না। শুধু বাইরে থেকে যত্নই যথেষ্ট নয়, শরীরের ভেতর থেকেও সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।
চুলের প্রধান গঠনকারী উপাদান হল, প্রোটিন। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল, সয়াবিনজাত খাবার এবং দইয়ের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত।
এছাড়া ওমেগা–থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডস, লোহ, দস্তা, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবারও চুলের বৃদ্ধি ও শক্তি ধরে রাখতে বেশ সহায়ক।
“শরীরে এসব পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চুল পাতলা হওয়া বা অতিরিক্ত ঝরে পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে”- বলেন, বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের সাবেক প্রধান ও পুষ্টি কর্মকর্তা আখতারুন নাহার আলো।
শক্ত করে চুল বাঁধার অভ্যাস বদলানো প্রয়োজন
খুব শক্ত করে খোঁপা বা পনিটেইল করলে, দীর্ঘদিনের মধ্যে চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত টান পড়ে। এতে ধীরে ধীরে চুল পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
নরম কাপড়ে মোড়ানো বাঁধার ফিতা ব্যবহার করা ভালো। এতে চুলে ঘর্ষণ কম হয় এবং গোড়ায় অপ্রয়োজনীয় চাপও পড়ে না।
রাতে ঘুমানোর আগেও দরকার যত্ন
দিনের পরিচর্যার পাশাপাশি রাতের যত্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভেজা চুল নিয়ে ঘুমাতে গেলে চুল সহজেই ভেঙে যেতে পারে। তাই ঘুমানোর আগে চুল সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া উচিত।
পাশাপাশি মসৃণ কাপড়ের বালিশের কভার বা খোল ব্যবহার করলে চুলে ঘর্ষণ কম হয়। এতে সকালে ঘুম থেকে উঠে চুলে জট লাগে কম এবং ভাঙার পরিমাণ কমে।
আরও পড়ুন