Published : 02 Apr 2026, 03:06 PM
সাধারণত ‘টি-জোন’ বলতে মুখের কপাল ও নাকের মাঝের অংশকে বোঝানো হয়, যেখানে ত্বক বেশি তেলতেলে হয়ে থাকে। তবে মাথার ত্বকেও এমন একটি ‘টি-জোন’ আছে এবং চুল পাতলা হওয়ার প্রবণতা অনেক সময় এখান থেকেই শুরু হয়।
চুল পাতলা হওয়া বন্ধে ও যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা এটি। কারণ চুল পড়া বা পাতলা হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় মাথার এই নির্দিষ্ট অংশেই।
মাথার ত্বকের ‘টি-জোন’
মাথার ত্বকের ‘টি-জোন’ বলতে মূলত দুই পাশের কপালের দিক এবং মাথার মাঝ বরাবর চুলের সিঁথির অংশকে বোঝানো হয়। এই অংশটি ইংরেজি অক্ষর ‘টি’-এর মতো আকৃতির হওয়ায় একে ‘টি জোন’ বলে।
বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপ-বিশারদ শারমিন কচি বলেন, “মাথার ত্বকের এই অংশেই নারীদের ক্ষেত্রে চুল পাতলা হওয়ার লক্ষণ সবচেয়ে আগে চোখে পড়ে। বিশেষ করে কপালের দুই পাশের কোণ এবং সিঁথির জায়গায় চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়ার বিষয়টি দ্রুত বোঝা যায়।”
যে কারণে এই অংশে চুল দ্রুত পাতলা হয়
মাথার এই অংশ জৈবিকভাবে একটু বেশি সংবেদনশীল। এখানে চুলের গোড়া বা ‘ফলিকল’ হরমোনের পরিবর্তনের প্রতি বেশি প্রতিক্রিয়াশীল।
ফলে সন্তান জন্মের পর, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমোনের ওঠানামা, এমনকি মানসিক চাপ এসবের প্রভাব প্রথমে এই অংশেই দেখা যায়।
শারমিন কচি ব্যাখ্যা করেন, “কপালের দুই পাশের চুল স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কম ঘন হয়। তাই এই জায়গায় সামান্য পরিবর্তনও খুব দ্রুত চোখে পড়ে।”
যে কারণে আলাদা যত্ন প্রয়োজন
চুলের যত্নে অনেক সময় পুরো মাথায় সমানভাবে তেল বা অন্যান্য পণ্য ব্যবহার করা হয়।
তবে এই রূপচর্চাকরের মতে, “এতে সবসময় সমান ফল পাওয়া যায় না। বরং যেসব অংশ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে আলাদা করে যত্ন নেওয়াই বেশি কার্যকর। তাই চুল পাতলা হওয়ার প্রবণতা যেখানে বেশি, সেখানেই যত্ন নেওয়া উচিত।”
সঠিকভাবে যত্ন নেওয়ার উপায়
মাথার এই অংশে যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমেই প্রয়োজন পরিষ্কার রাখা। নিয়মিতভাবে মাথার ত্বক পরিষ্কার করলে চুলের গোড়ায় জমে থাকা ময়লা ও তেল দূর হয়, যা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
এছাড়া এই অংশে রক্তসঞ্চালন বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।
হালকা মালিশ বা বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে রক্তসঞ্চালন বাড়ানো গেলে চুলের গোড়া শক্ত হয়।
প্রতিদিনের অভ্যাসের প্রভাব
প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসও এই অংশের চুল পাতলা হওয়ার কারণ হতে পারে। যেমন- খুব টান দিয়ে চুল বাঁধা, চুলে ভারী ‘এক্সটেনশন’ ব্যবহার করা বা নিয়মিত একইভাবে চুল সিঁথি করা, এসব কারণে চুলের গোড়ায় চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে চুল দুর্বল হয়ে যায়।
এই ধরনের অভ্যাস পরিবর্তন করলে অনেক ক্ষেত্রেই চুল পড়া বা পাতলা হওয়ার সমস্যা কমানো সম্ভব।
আরও পড়ুন
চুল নরম ও উজ্জ্বল করতে নতুন কৌশল