Published : 28 Jun 2026, 07:54 PM
ওজন কমানোর লড়াইয়ে নারী ও পুরুষ উভয়েই শামিল হন।
তবে অনেক সময়ই দেখা যায়, একই ডায়েট বা ব্যায়াম করে পুরুষেরা যত দ্রুত মেদ ঝরাতে পারছেন, নারীদের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। বিশেষ করে পেটের চর্বি বা ভুঁড়ি কমানোর ক্ষেত্রে নারীদের অনেক বেশি কাঠখড় পোড়াতে হয়।
বিজ্ঞান বলছে, নারী ও পুরুষের মেদ ঝরানোর ধারা এবং গতি কখনোই এক নয়।
নারী বনাম পুরুষ: মেদ ঝরানোর পার্থক্য যেথায়
তুরস্কের ডকুজ এলুল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের পরিচালিত এবং ইউরোপিয়ান কংগ্রেস অন ওবেসিটি (ইসিও ২০২৬)-এ উপস্থাপিত গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ওবেসিটি’ বা স্থূলতা নারী ও পুরুষকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে প্রভাবিত করে।
পুরুষদের মেদ: পুরুষদের চর্বি মূলত জমে পেটের ভেতরে, যাকে বলা হয় ‘ভিসারাল ফ্যাট’। এই চর্বি ক্ষতিকর হলেও ডায়েট ও ব্যায়াম শুরু করলে পুরুষদের শরীর থেকে এটি খুব দ্রুত গলতে শুরু করে।
নারীদের মেদ: অন্যদিকে, নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে চর্বি জমে ত্বকের ঠিক নিচে, যাকে বলে ‘সাবকুটেনিয়াস ফ্যাট’। এটি মূলত পেট, উরু ও নিতম্বে জমা হয়।
এই চর্বিটি সহজে গলতে চায় না। ফলে নারীদের পেটের মেদ ঝরানো তুলনামূলক ধীরগতির হয়।
তাই নারীদের এই জেদি পেটের চর্বি দূর করার পদ্ধতিও পুরুষদের থেকে আলাদা হয়।
উচ্চ-প্রোটিন ও কম-কার্বোহাইড্রেইটের ডায়েট
স্বাস্থ্য-বিষয়ক সাময়িকী জিভাকা ২০২৬-এ প্রকাশিত ‘হাও টু রিডিউস বডি ফ্যাট ইন: ২০২৬’ প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের একটি মেটা-অ্যানালিসিস রিপোর্ট তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নারীদের পেটের চর্বি কমাতে প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে হবে (শরীরের প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে ১.৩ গ্রামের বেশি)।
প্রোটিন খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং এটি শরীরের পেশি বজায় রেখে শুধু চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে।
পাশাপাশি চিনি, সাদা ভাত এবং ময়দার মতো রিফাইনড প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেইট কমিয়ে লাল চালের ভাত, লাল আটা রুটি, ওটস ও শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।
শুধু কার্ডিও নয়, করতে হবে ‘এইচআইআইটি’ ও ‘স্ট্রেন্থ ট্রেনিং’
অনেক নারী পেটের মেদ কমাতে কেবল ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটা বা দৌড়ানো অর্থাৎ ‘কার্ডিও’র ওপর নির্ভর করেন, যা ভুল পদ্ধতি।
জার্নাল অব ওবেসিটি’তে একটি মেটা-অ্যানালিসিসে দেখা গেছে, যে নারীরা সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন ‘হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিং (এইচআইআইটি)’ বা তীব্র গতির ব্যায়াম করেছেন, তারা সাধারণ কার্ডিও করা নারীদের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি পেটের চর্বি ঝরাতে পেরেছেন।
সঙ্গে হালকা ওজন নিয়ে ‘স্ট্রেন্থ ট্রেনিং’ বা পেশির ব্যায়াম করতে হবে। মাংসপেশি যত শক্তিশালী হবে, বিশ্রামের সময়ও শরীর তত বেশি চর্বি পোড়াতে থাকবে।
কর্টিসল হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম
স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন বিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন ডটকম’য়ে প্রকাশিত ‘কর্টিসল অ্যান্ড ওয়েট গেইন: ইজ দেয়ার এ কানেকশন’ এবং ‘এলিভেন ন্যাচারাল ওয়েস টু লোয়ার ইয়োর কর্টিসল লেভেলস’ প্রবন্ধ দুটিতে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক নিবন্ধিত চিকিৎসক ডা. জিল কর্লিওনে এবং পুষ্টি বিশেষজ্ঞ আরিল চ্যান্ডলার জানান, নারীদের পেটের মেদ বাড়ার প্রধান কারণগুলোর একটি হল মানসিক চাপ।
দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক ‘স্ট্রেস’ হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা সরাসরি পেটে চর্বি জমাতে সংকেত দেয়।
তাই পেটের চর্বি কমাতে প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টার গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে হবে এবং ইয়োগা বা ধ্যানের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
নারীদের শরীরের গঠন ও হরমোনের কারণে মেদ ঝরতে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক। ‘ক্রাশ ডায়েট’ বা কোনো জাদুকরী ওষুধের পেছনে না ছুটে, সঠিক পুষ্টি ও সঠিক ব্যায়ামের মেলবন্ধনে ধৈর্য ধরে চেষ্টা করলেই স্থায়ীভাবে পেটের চর্বি দূর করা সম্ভব।
আরও পড়ুন
ওজন কমানোর পর বেড়ে যাওয়া রোধ করতে 'রিভার্স ডায়েটিং'