১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ওজন কমানোর পর বেড়ে যাওয়া রোধ করতে 'রিভার্স ডায়েটিং'

সহজ কথায়, এটি হল ‘ডায়েটের পরের ডায়েট’।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Jun 2026, 06:08 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:29 PM

কঠোর ডায়েট ও নিয়মিত শরীরচর্চা করে বেশ কিছু ওজন কমালেন। তবে ডায়েট শেষ করে যেই না আবার সাধারণ খাবারে ফিরলেন, অমনি আগের চেয়েও ওজন বেশি বেড়ে গেল!

ওজন কমানোর যাত্রায় এই চেনা সমস্যার মুখোমুখি হননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ইয়ো-ইয়ো ইফেক্ট’।

তবে এই সমস্যার সমাধান হিসেবে বিশ্বজুড়ে এখন পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন যে ধারার প্রচলন শুরু হয়েছে, সেটাকে বলা হচ্ছে 'রিভার্স ডায়েটিং'।

রিভার্স ডায়েটিং আসলে কী?

সহজ কথায়, এটি হল ‘ডায়েটের পরের ডায়েট’। যখন ওজন কমানোর জন্য দীর্ঘদিন কম ক্যালোরির খাবার খাওয়া হয়, তখন শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে যায়।

ডায়েট শেষ করেই হঠাৎ বেশি খাবার খাওয়া শুরু করলে, ধীরগতির মেটাবলিজমের কারণে শরীর সেই অতিরিক্ত ক্যালোরি চর্বি হিসেবে জমা করতে শুরু করে।

‘ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব স্পোর্টস মেডিসিন’ সাময়িকী প্রকাশিত ‘দ্য সায়েন্স বিভাইন্ড রিভার্স ডায়েটিং’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদ্ধতি ‘মেটাবলিক অ্যাডাপ্টেইশন’ মোকাবিলা করে শরীরকে অতিরিক্ত চর্বি না জমিয়ে স্বাভাবিক ক্যালোরি গ্রহণে অভ্যস্ত করে তোলে।

মানে এটি এমন একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া, যেখানে হঠাৎ করে খাবার না বাড়িয়ে প্রতি সপ্তাহে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত উপায়ে (৫০ থেকে ১০০ ক্যালোরি করে) খাবারের পরিমাণ বাড়ানো হয়।

এতে শরীরের মেটাবলিজম আবার সচল হওয়ার সুযোগ পায় এবং চর্বি না বাড়িয়েই শরীর সাধারণ খাবারে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।

মেটাবলিজমকে জাগিয়ে তোলার বৈজ্ঞানিক সূত্র

যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পোর্টস নিউট্রিশনিস্ট’ এবং শরীর-গঠন প্রশিক্ষক ডা. লেইন নর্টন, তার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট এবং গবেষণামূলক সাময়িকীতে রিভার্স ডায়েটিং-এর কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন।

তার বই, ‘দ্য আল্টিমেট গাইড টু রিভার্স ডায়েটিং’-এ তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘রিভার্স ডায়েটিং’ কোনো ওজন কমানোর পদ্ধতি নয়; বরং এটি হল আপনার মেটাবলিজম বা বিপাক ক্ষমতাকে মেরামত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল।’

তিনি পরামর্শ দেন, “আপনি যদি প্রতিদিন ১,২০০ ক্যালোরি খেয়ে ডায়েট শেষ করেন, তবে পরের সপ্তাহে একবারে ১,৮০০ ক্যালোরিতে যাবেন না। বরং পরবর্তী সপ্তাহে ১,২৫০ বা ১,৩০০ ক্যালোরি খাবেন। এভাবে প্রতি সপ্তাহে মাত্র ৫০-১০০ ক্যালোরি করে বাড়ালে শরীর বাড়তি মেটাবলিক রেটের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।”

হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা

স্বাস্থ্য-বিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন ডটকম’য়ে প্রকাশিত ‘হোয়াট ইজ রিভার্স ডায়েটিং? এ ডিটেইল ওভারভিউ’ প্রতিবেদনে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ক্রাশ ডায়েট বা কম ক্যালোরি খাওয়ার ফলে শরীরে 'লেপটিন' (তৃপ্তির হরমোন) কমে যায় এবং 'ঘ্রেলিন' (ক্ষুধা বাড়ানোর হরমোন) বহুগুণ বেড়ে যায়।

ফলে ডায়েট ছাড়লেই তীব্র ক্ষুধা লাগে। ‘রিভার্স ডায়েটিং’ ধীরগতিতে ক্যালোরি বাড়িয়ে এই দুই হরমোনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে হুট করে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় না।

পেশির ক্ষয় রোধ এবং শক্তি পুনরুদ্ধার

‘আমেরিকান কাউন্সিল অন এক্সারসাইজ’-এর প্রতিবেদন, ‘হাও টু প্রিভেন্ট ওয়েইট রিগেইন উইথ রিভার্স ডায়েটিং’য়ে বলা হয়, কঠোর ডায়েটের সময় চর্বির পাশাপাশি, শরীরের চর্বিহীন পেশি বা 'লিন মাসল'-এরও কিছুটা ক্ষয় হয়।

রিভার্স ডায়েটিং-এর মাধ্যমে যখন কার্বোহাইড্রেইট ও প্রোটিনের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়, তখন সেই অতিরিক্ত ক্যালোরি চর্বি হিসেবে জমা না হয়ে সরাসরি পেশির শক্তি বাড়াতে এবং ক্ষয় পূরণে সাহায্য করে।

ফলে শরীর ক্লান্ত না হয়ে উল্টো ভেতর থেকে চনমনে ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

রিভার্স ডায়েটিং করার সহজ নিয়ম

এসব প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিভার্স ডায়েটিং করার সময় ৩টি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

ট্র্যাকিং: প্রতিদিন ঠিক কতটা ক্যালোরি খাওয়া হচ্ছে, তার একটি সঠিক হিসাব রাখতে হবে। ‘ফুড ট্র্যাকিং অ্যাপে’র সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

ম্যাক্রোর ভারসাম্য: ক্যালোরি বাড়ানোর অর্থ এই নয় যে ফাস্টফুড বা মিষ্টি খেতে হবে। এই বাড়তি ক্যালোরি আসতে হবে ভালো মানের প্রোটিন (ডিম, মরুগি, ডাল) এবং জটিল শর্করা ধরনের খাবার, যেমন- লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি বা ওটস থেকে।

ধৈর্য: এই প্রক্রিয়া সাধারণত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। তাই তাড়াহুড়া না করে শরীরকে নতুন ক্যালোরির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় দিতে হবে।

আরও পড়ুন

ফাস্টফুড মেনুর ৭টি গোপন ফাঁদ: অজান্তেই যেভাবে বাড়ছে মেদ

যাদের ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করা উচিত না

শুধু ক্যালসিয়ামে মিলবে না হাড়ের পুষ্টি