Published : 29 Jun 2026, 12:22 AM
প্রথম পর্ব শেষে এবার শুরু হলো ‘আসল’ বিশ্বকাপের দামামা। সাধারণত আমরা আটটি গ্রুপ ও ৩২টি দলের আসর দেখে অভ্যস্ত ছিলাম। সর্বশেষ সাতটি (১৯৯৮-২০২২) টুর্নামেন্ট ছিল এমনই। এবার দল বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪৮টি। প্রথম পর্ব থেকে বাদ পড়েছে ১৬টি দল। ফলে, আবারও সেই বত্রিশেই ফেরা। পার্থক্য হলো, এখন থেকে নকআউট, হারলেই বাড়ির বিমান ধরতে হবে!
নিঃসন্দেহে প্রথম পর্বের সবচেয়ে বড় চমক দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বাদ পড়া। এমনকি ১২টি গ্রুপের মধ্যে যে আটটি তৃতীয় সেরা দল দ্বিতীয় পর্বে উঠেছে, তাদের মধ্যেও থাকতে পারেনি দলটি। নিজেদের ‘এইচ’ গ্রুপে তারা তৃতীয় হয়েছে বটে, কিন্তু পয়েন্ট কম থাকায় তা যথেষ্ট হয়ে ওঠেনি।
এই গ্রুপ থেকে স্পেন প্রথম ও কেপ ভার্দে দ্বিতীয় হয়েছে। তাতেই নেটপাড়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছে এই গ্রুপটি। সেটা উরুগুয়ের বাদ পড়ায় যতটা, তার চেয়েও বেশি কেপ ভার্দের দ্বিতীয় পর্বের প্রতিপক্ষের জন্য। যেখানে স্পেন ও উরুগুয়ের এই গ্রুপ থেকে অবধারিতভাবে সেরা দুই দল হিসেবে উত্তীর্ণ হওয়ার কথা, সেখানে কেপ ভার্দে দ্বিতীয় হওয়ায় গ্রুপ ‘জে’র সেরা দল আর্জেন্টিনা পেয়ে যাচ্ছে অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ। আলোচনার ঘনঘটা এজন্যই এত বেশি।
গ্রুপ পর্বের আরেকটি আবেগঘন বিষয় ইরানের বাদ পড়া। ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে দেশটির বিশ্বকাপ খেলা না-খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। পরে বিশ্বকাপ খেললেও তাদেরকে প্রতিটি ম্যাচের আগে মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো ভ্রমণ-ক্লান্তিতে ফেলা হয়েছে। এহেন ইরানের মিশরের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের গোলটি অফসাইডের জটিল সমীকরণে বাদ পড়ায় নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। গোলটি হয়ে গেলে ইরান নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় দল হিসেবে উপরে উঠত। কিন্তু, গ্রুপ ‘জে’-তে অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচটি তিন-তিন গোলে ড্র হওয়ায় বাদই পড়ে গেল প্রভূত প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে বিশ্বকাপ খেলা ইরান!
শুধু ইরানই নয়, জাপান বাদে এশিয়া থেকে আর কোনো দলই দ্বিতীয় পর্বে উঠতে পারেনি। দক্ষিণ কোরিয়া দুর্দান্ত খেলেছে, তবুও অন্তত তৃতীয় হয়েও সামনে এগোনো হলো না তাদের। শুধু এশিয়ার একমাত্র দেশ বলে নয়, জাপান মূলত আলোচনার কেন্দ্রে তাদের প্রতিপক্ষের জন্য। শেষ ৩২-এ জাপান লড়বে ব্রাজিলের বিপক্ষে। অর্থাৎ, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের কারণেই তাদের দ্বিতীয় পর্বের প্রতিপক্ষরা এখন তুমুল আলোচনায়।
আরেকটি আলোচনা ভেস্তে গেছে। লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথ দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত তাদের দলগুলো যেতে পারলে। কিন্তু, পর্তুগাল নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে যাওয়ায় সেটি আপাতত সম্ভব হবে না। তবে, দুই চিরমহাপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল পর্যন্ত গেলে তারা মুখোমুখি হবে—এটাই আসরের সবচেয়ে বড় খবর।
২.
শুরু থেকেই এই বিশ্বকাপ অবশ্য নানা কারণেই আলোচনায় ছিল। কিন্তু, যত দিন গড়াবে, বিতর্ক ও আলোচনা ততই জোরদার হবে। ইতিমধ্যেই নেট দুনিয়ায় এর ফরম্যাট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। বলাবাহুল্য, মোটেও স্বস্তিকর নয় এই ফরম্যাট। যে কারণে, পুঁজিবাদের সবচেয়ে বড় ইজারাদার যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপ প্রথম পর্বে কতটা ‘ব্যবসাসফল’ হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। আদতে এই প্রশ্নটি পুরো আসরের কার্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে।
দল বেড়ে যাওয়ায়, এবার বিশ্বকাপের ম্যাচ সংখ্যা বেড়েছে। ৭২ ম্যাচের প্রথম পর্বসহ ফাইনাল পর্যন্ত মোট ম্যাচ ১০৪টি। ৩৯ দিনের টুর্নামেন্ট। গ্রুপ পর্ব থেকে কোয়ার্টার পর্যন্ত বিরতি মাত্র একদিন—কোয়ার্টারের আগে। সেমির আগে ও পরে তিন দিন করে ছয়দিন। মানে এত বড় টুর্নামেন্টে মাত্র সাত দিনের বিরতি। ৩২ দিনের হিসাবে দিনপ্রতি ম্যাচ সংখ্যা প্রায় ৩ দশমিক ২৫ করে।
সূচি এতই আটসাঁটো যে, বিশ্বকাপের মতো একটি টুর্নামেন্টে অনেক দলই গলদঘর্ম হয়েছে পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে। আবার, অনেকক্ষেত্রে একদিনে চারটি করে ম্যাচ হওয়ায় দর্শকদেরও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা মুশকিল হয়েছে। বিশেষত আমাদের এই গোলার্ধে যে সময়ে অধিকাংশ খেলা পড়েছে, তাতে খেলাগুলো মধ্যরাত কিংবা ভোর বা সকালে গড়িয়েছে। সন্ধ্যা-রাতে বা প্রথম প্রহরে খেলা পড়লে যতটা স্বাচ্ছন্দ্যে আমরা দেখতে পারতাম, সেটা এবার হয়নি।
দক্ষিণ বা উত্তর আমেরিকায় খেলা হলে এসব সূচি-জটিলতা হবেই। কিন্তু, ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে কিংবা ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে এতটা সমস্যা আসলে হয়নি। হয়নি, কারণ তখন দল ছিল কম, ফরম্যাট ছিল সহজ এবং সূচিগুলোতেও কিছুটা সমন্বয় ছিল যেন সব গোলার্ধেরই দর্শকরা যুক্ত হতে পারে। এ কারণেই সব ছাপিয়ে ফরম্যাটের ওপরেই নজরটা পড়ছে বেশি।
এই ফরম্যাট নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব অত্যধিক। বিশেষত, ১২টি গ্রুপ থেকে সেরা আটটি দ্বিতীয় দল বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি খুব জটিল হয়ে ধরা পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, নকআউটের ব্র্যাকেটে একটি ম্যাচের শিরোনাম ‘ই১ বনাম এ/বি/সি/ডি/ই/এফ-৩’। দল চূড়ান্ত হওয়ায় এখন আমরা জানি, এই ম্যাচটি জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ের।
এরকম ফিকশ্চার আছে মোট আটটি। অথচ, গ্রুপ পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত বোঝাই যাচ্ছিল না যে, এই আট দলের পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান ফিফার প্রাক-নির্ধারিত ৪৯৫ সারির (রো) ম্যাট্রিক্স টেবিলটি অনুযায়ী কীভাবে কাজ করে! নিশ্চয়ই এটি গাণিতিক যুক্তির ওপরই প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু, বিশ্বকাপের ফরম্যাট যদি সহজবোধ্য না হয়, তাহলে তার কারুকার্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
হ্যাঁ, সত্য যে, ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ফরম্যাট এমনই ছিল। ২৪ দলের টুর্নামেন্ট, ছয়টি গ্রুপ এবং সেরা ১২টি দলের সঙ্গে চারটি সেরা তৃতীয় দল নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল। এখনও বিশ্বকাপ বাছাইয়ের অনেক অঞ্চলে এমন ফরম্যাট আছে। সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো ইউরোপের বাছাইপর্ব। কিন্তু, বিশ্বকাপ বাছাই এক বিষয়, আর মূল আসর আরেক বিষয়। যে আসরের দিকে পৃথিবীর তামাম জনপদ তাকিয়ে থাকে এবং যে আসরের জটিল ফরম্যাট ফিফা নিজেই বহু আগে ছেড়ে এসেছে, তার পুনর্জন্ম দেওয়াটা গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্বকাপের ফরম্যাট অবশ্যই সহজবোধ্য হওয়া উচিত এবং সেটা আগামী আসরেই।
৩.
আগামী বিশ্বকাপ হবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে। ভূমধ্যসাগরের এপার-ওপারের এই দ্বিমহাদেশীয় আসরের মধ্যদিয়ে বিশ্বকাপ পা দিতে চলেছে শতবর্ষে। শতবর্ষ উপলক্ষে কয়েকটি ম্যাচ আবার আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতেও হবে, যাদের সঙ্গে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের স্মৃতি জড়িত। প্রস্তাব আছে, শতবর্ষ উপলক্ষে দল সংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত করার এবং শুরু থেকেই নক-আউট চালু করার। যদিও ফিফা চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
নিঃসন্দেহে এই প্রস্তাব অনুমোদন হলে, বিশ্বকাপ আরও বৈশ্বিক হবে। কিন্তু, তাতে ‘অগুরুত্বপূর্ণ’ ম্যাচের সংখ্যাও বাড়বে, যেমনটা এবারই বেড়েছে। গতবার পর্যন্ত বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে ৩০ দিনের মধ্যে এবং তাতেও কিছু অগুরত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল। কিন্তু, এবার ৩৯ দিনের টুর্নামেন্টে অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোকে লাইমলাইট থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে প্রায় দিনই তিনটি, ক্ষেত্রবিশেষে চারটি ম্যাচ রেখে।
এত অল্প সময়ে এত ম্যাচ আয়োজিত হওয়ায় দর্শকরা বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দেখা থেকে। আগামী বিশ্বকাপে সময় যদিবা অনুকূলে থাকেও, এই বঞ্চিত হওয়ার প্রবণতা অনিবার্যভাবেই কমবে না। এজন্যই বিশ্বকাপের ‘ব্যবসাসফলতা’ নিয়ে আলোচনাটা এসেছে।
দর্শকরা তো আছেনই, ফরম্যাট সমস্যার গুরুতর শিকার খোদ খেলোয়াড়রা। এবার ফরম্যাটটাই এমন যে, কিছু দল বাড়তি সুবিধা পেয়েছেই। যেমন, যাদের খেলা পড়েছে দুপুরে, গরমে তাদের অবস্থা খুবই নাজুক হয়েছে। কিন্তু, স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় যাদের খেলা, তাদের সুবিধা হয়েছে। স্বাগতিকরাও সুবিধা পেয়েছে। কিছু কিছু গ্রুপে তৃতীয় দল উপরে ওঠা খুবই সহজ ছিল; কিন্তু কিছু কিছু গ্রুপে ছিল অত্যন্ত কঠিন।
আবার, সকল তৃতীয় অবস্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে যেহেতু একটা আন্তঃগ্রুপ প্রতিযোগিতা ছিল, সেহেতু, যাদের খেলা পরে হয়েছে, তারা আগেই ম্যাচ খেলে ফেলা অন্য প্রতিপক্ষদের ফল ও সমীকরণ জেনে খেলতে নামায় বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। ইরানের প্রশ্নে অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচটিকে সেভাবে দেখার সুযোগ আছে। না, এ ধরনের তারতম্য তো ৩২ দলের ফরম্যাটেও থাকে; কিন্তু, এবারের তারতম্যটা খুবই চোখে লাগার মতো হয়েছে।
৪.
ফিফার অবশ্যই বিকল্প ভাবা উচিত, যা ফরম্যাটকে সহজবোধ্য করার পাশাপাশি সময় বাঁচাবে এবং খেলোয়াড় ও দর্শকদেরও স্বস্তি দেবে। ৬৪ দলের ফরম্যাট যেভাবে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা আদৌ সেভাবে হবে কি না, দেখার বিষয়। কিন্তু, এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই একটি বিকল্প প্রস্তাব ফিফা ভাবতে পারে। যেহেতু ওয়ান-অফ ম্যাচ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, সেহেতু ধরে নেওয়া যায়, প্রস্তাবকরা বিশ্বকাপকে লম্বা সফরের চিন্তা-দর্শন থেকে বের করে আনতে চাইছেন।
যদি এমনই হয় যে, ৪৮ দলেরই টুর্নামেন্ট হবে আপাতত, তাহলে সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো ১৬টি গ্রুপ করা এবং প্রতিটি গ্রুপে তিনটি করে দল রাখা। সাধারণত, প্রতিটি গ্রুপে চারটি করে দল থাকলে গ্রুপপ্রতি ম্যাচ হয় চারটি; কিন্তু, তিনটি করে দল থাকলে ম্যাচ হয় তিনটি, যেখানে প্রতিটি দল দুটি করে ম্যাচ খেলবে।
সেক্ষেত্রে প্রথম পর্বে ৭২টির স্থলে ম্যাচ সংখ্যা কমে হয় ৪৮টি। এতে ফরম্যাটটাও সহজবোধ্য হয়। যদি নকআউট ৩২ দলের হয়, তাহলে গ্রুপ পর্ব থেকে উঠবে প্রথম দুই দল। আর যদি সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু হয়, তাহলে উঠবে প্রতি গ্রুপ থেকে একটি করে মোট ১৬টি দল।
তবে, প্রথম পর্বের পর কোয়ার্টার ফাইনালের পর্ব হলে আসরটা অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়, ম্যাচও কম থাকে। গত সাত আসরের প্রতিটিতে ম্যাচ ছিল ৬৪টি। এই ৪৮ দলের আসরকেও ৬০টি ম্যাচে সীমিত করে ফেলা সম্ভব, যদি নকআউট কোয়ার্টার থেকে শুরু করা যায়। আর নকআউট দ্বিতীয় পর্ব থেকে শুরু হলে মোট ম্যাচ হয় ৭৬টি। সেটিও ১০৪ থেকে ঢের কম এবং যথেষ্ট ফুরসৎ পাওয়ার সুযোগ থাকে।
৫.
বাস্তবতা হলো, এবারের টুর্নামেন্টের ফরম্যাট মোটেও সুখকর কিছু হয়নি। তবুও, এর মধ্য থেকেই হয়তো চূড়ান্ত সাফল্য পাওয়া দল বেরিয়ে আসবে। আমরাও হয়তো আরও অনেক ম্যাচ দেখা থেকে বঞ্চিত হব। কিন্তু, ফিফাকে যথাযথ মাধ্যমে জানানো উচিত, বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হলে, বিপথগামী সব সিদ্ধান্ত থেকে তার সরে আসতে হবে—এর মধ্যে একটি অবশ্যই ফরম্যাটটা ঠিক করা।
ড. সৌমিত জয়দ্বীপ সহকারী অধ্যাপক, স্কুল অব জেনারেল এডুকেশন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। ই-মেইল: [email protected]