Published : 29 Jun 2026, 05:09 PM
পানামার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ে, ‘এল’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে, ইংল্যান্ড নকআউট পর্বে ইংল্যান্ড উঠেছে ঠিকই, কিন্তু ওই ম্যাচে প্রকাশ পেয়ে যায় দলটির রক্ষণের দুর্বলতা। আক্রমণভাগে হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যাম আলো ছড়ালেও, রক্ষণ নিয়ে অস্বস্তিটুকু তাই রয়েই গেছে তাদের। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ের আগে ফের আলোচনায় টমাস টুখেলের দলের খামতিটুকু।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে, দারুণ শুরু পায় ইংল্যান্ড। ছয় গোলের রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে তারা ৪-২ ব্যবধানে হারায় ক্রোয়েশিয়াকে। ওই ম্যাচে জোড়া গোল করেন আক্রমণভাগের সেরা তারকার কেইন। একবার করে জালের দেখা পান বেলিংহ্যাম ও মার্কাস রাশফোর্ড।
মুদ্রার উল্টো পিঠ দলটি দেখে, গ্রুপের পরের ম্যাচেই। ঘানার সাথে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়ে টুখেলের দল। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে পানামার জালের দেখা পেতেও লেগে যায় ৬২তম মিনিট। কেইনের গোলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেলিংহ্যাম। সবশেষ দুই ম্যাচে দলের রক্ষণের দুর্বলতা, সৃষ্টিশীলতার অভাব দেখিয়ে দিয়েছে ছন্দের চূড়ায় এখনও পা রাখা হয়নি ইংল্যান্ডের।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক অধিনায়ক রয় কিন অবশ্য, ঘানা ও পোল্যান্ড ম্যাচে উত্তরসূরিদের মলিনতার কারণ খুঁজে পেয়েছেন। আইটিভি ব্রডকাস্টে ম্যাচের বিরতির সময় তার বলা কথার সারমর্ম এমন- যেমন প্রতিপক্ষ, তেমন খেলা!
“তারা ধুঁকছে, তীব্রতার অভাবও দেখা যাচ্ছে। কখনও কখনও, আপনি যখন তুলনামূলক কম মানসম্পন্ন দলের বিপক্ষে খেলবেন, তখন আপনাকে তাদের পর্যায়ে নেমে আসতে হবে। মনে হচ্ছে, ইংল্যান্ডের বেলায় তেমনটাই হয়েছে।”
তবে, এটাও ঠিক, পানামা অনেক সুযোগ তৈরি করেছিল ওই ম্যাচে। তাতে ইংল্যান্ডের রক্ষণের দুর্বলতা, অস্বস্তিও প্রকাশ পেয়ে গিয়েছিল। রিস জেমস এবং অনান্য ফুল ব্যাকের অনুপস্থিতি আগে থেকে ছিল, জ্যারেল কোয়ানসার গোড়ালির চোট টুখেলের উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরও।
এদিকে কঙ্গো আছে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। দীর্ঘ বিরতিতে ফিরে তারা তৃতীয় সেরা আট দলের একটি হয়ে উঠে গেছে নকআউট পর্বে। পর্তুগালকে ১-১ ড্রয়ে রুখে দিয়ে শুরুর পর তারা কলম্বিয়ার কাছে হেরেছিল ১-০ গোলে। কিন্তু গ্রুপের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে মিলিয়ে নেয় সমীকরণ। স্বপ্নযাত্রা আরও এগিয়ে নিতে উন্মুখ নবাগত দলটি।
১৯৬৬ সালে নিজেদের একমাত্র শিরোপা জেতা ইংল্যান্ড সামনের পথচলায় সওয়ার হতে চাইবে আক্রমণভাগের কাঁধে। এবারের আসরে তিনটি এবং সব মিলিয়ে ১১ গোল করে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন কেইন। তিন ম্যাচে দুই গোল করেছেন বেলিংহ্যাম, রাশফোর্ডও একবার বল জড়িয়েছেন জালে।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি শঙ্কিত, দীর্ঘ টুর্নামেন্টে ক্লান্তি যেন পেয়ে না বসে খেলোয়াড়দের, বিশেষ করে কেইনকে। পানামার বিপক্ষে ম্যাচর উদাহরণও টানলেন তিনি।
“বিগত টুর্নামেন্টগুলোতে কেইনকে…আমার মনে হয়, টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তাকে ক্লান্ত দেখাত। (পানামা) ম্যাচে তাকে তুলে নেওয়া হয় ৮৪তম মিনিটে, কিন্তু আমি মনে করি, যখনই স্কোরলাইন ২-০ হয়ে গিয়েছিল, ম্যাচটা শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তাকে তুলে নেওয়া উচিত ছিল।”
তবে, যাই হোক, আক্রমণভাগ নিয়ে টুখেলের দুর্ভাবনা তেমন নেই, কিন্তু ঘানা ও পানামা ম্যাচ দেখিয়েও দিয়েছে, সেরা ছন্দে এখনও পৌঁছাতে পারেনি ইংল্যান্ড। কঙ্গো ম্যাচ দিয়ে সেখানে পৌঁছানোর অগ্নিপরীক্ষা শুরু হবে তাদের। এই ধাপে যে আর পেছানোর পথ নেই থ্রি লায়ন্সদের। পা হড়কালেই বিদায়।