Published : 20 Jul 2026, 05:36 PM
ম্যাচ শেষের একটু পর ধারাভাষ্যে পিটার ড্রুরি বললেন, “আমরা যা জানতে পারলাম, ম্যাচ শেষের কোনো ঘটনায় লাল কার্ড দেখানো হয়েছে লেয়ান্দ্রো পারেদেসকে।” কারণ বোঝা গেল খানিকটা পর। টিভি পর্দায় দেখানো হলো পারেদেসের মারামারির দৃশ্য। পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে থাকে ওই ঘটনার নানা ভিডিও ক্লিপ।
বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, শেষ বাঁশির পর স্পেনের ফুটবলাররা যখন বাঁধনহারা উদযাপনে মেতে উঠেছেন, তখন তাদের কারও কারও সঙ্গে কথার লড়াই লেগে যায় হতাশ আর্জেন্টাইনদের। মাঠের কয়েকটি জায়গায় এরকম টুকরো বচসা চলছিল।
মাঠের মাঝখানে তখন আর্জেন্টিনার একজনের সঙ্গে স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও বোর্হা ইগলেসিয়াসকে আলাদা করছিলেন রেফারি। হুট করেই বেশ দূর থেকে দৌড়ে ছুটে গিয়ে পারেদেস ধাক্কা মারেন গার্সিয়াকে, টালমাটাল অবস্থায় তার পায়ে লাথি মেরে ফেলে দেন। রেফারি চেষ্টা করেন তাকে থামানোর। কিন্তু এরপরও গার্সিয়ার গলা চেপে ধরে ধাক্কা মারেন পারেদেস।
তখন সেখানে ছুটে যান গাভি। তাকে শুরুতে আটকানোর চেষ্টা করেন থিয়াগো আলমাদা। এরপর পারেদেস ঘুরে দাঁড়িয়ে গাভির চোখেমুখে থাবা দিয়ে তাকে ফেলে দেন। উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে আবারও আছাড়ের মতো করে ফেলে দেন স্পেনের এই তরুণ মিডফিল্ডারকে।
নিশ্চয়ই নানা কথা ও পাল্টা কথার পথ ধরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল। তবে পারেদেস যেভাবে উন্মত্ত হয়ে উঠেছিলেন, এমন কিছু বিরল। এমনকি আরেক জায়গায় নাউয়েল মলিনাকে দেখা যায় রদ্রির ওপর চড়াও হতে।

এসব ঘটনা নিয়ে দুই দলের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে সাবেক ফুটবলার ও বিশেষজ্ঞরা তীব্র সমালোচনা করেছেন আর্জেন্টিনা ও পারেদেসের।
সাবেক ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি বললেন, আর্জেন্টিনার এমন আচরণে তিনি বিস্মিত নন। মূল ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়া এন্সো ফের্নান্দেসের সিদ্ধান্তও ঠিক ছিল বলে মনে করেন তিনি।
“আপনি অবাক হয়েছেন? আমি তো অবাক হইনি। আর্জেন্টিনার কাছ থেকে আমরা আগেও এমনটা দেখেছি। অবশ্যই এমন প্রতিক্রিয়া কেউ প্রত্যাশা করে না। কিন্তু বিশ্বকাপ থেকে ইংল্যান্ডকে ছিটকে দেওয়ার পরও তাদের কিছু প্রতিক্রিয়া আমরা দেখেছি। আমার মনে হয়, এন্সো ফের্নান্দেসও তার প্রাপ্য শাস্তিই পেয়েছে। এটা হতাশাজনক এবং দুঃখজনক।
"ফুটবলের কোনো ম্যাচে হারলে সবার ভব্যতা বজায় রাখা উচিত এবং মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। তাদের আচরণ খুবই বাজে ছিল।”
রুনির পূর্বসূরী অ্যালান শিয়েরারও বিবিসিতে বললেন একই ধরনের কথা।
“পারেদেস কারো মুখের ওপর দুই-তিনটা সজোরে ঘুষি মেরে বসেছে। সে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এসবের কোনো জায়গা বা সুযোগ ফুটবলে নেই।
আমরা জানি, এটা তাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং হেরে যাওয়াটা কতটা কষ্টদায়ক। হারারও একটা ধরন আছে। অনেক সময় খারাপ লাগে এভাবে হারলে। তবে আর্জেন্টিনার কাছ থেকে আমরা বহুবার এমনটা দেখেছি। শেষ বাঁশি বাজার পরে তাদের আচরণ ভয়াবহ।”
আর্জেন্টিনাকে নিয়ে একই মতামত জো হার্টের। ইংল্যান্ডের সাবেক গোলকিপার ব্যতিক্রম দেখেছেন কেবল লিওনেল মেসিকে।
“মাঠে একজন ছিলেন, যার সত্যিই রুচিশীলতা ছিল। তিনি হলেন লিওনেল মেসি, যিনি স্প্যানিশদের সবার সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। খেলা শেষ এবং আজ যা ঘটেছে, তা নিয়ে আর্জেন্টিনার কোনো কথা বলার থাকতে পারে না। এটা ছিল জঘন্য আচরণ। আর্জেন্টিনা যে আবার সীমা অতিক্রম করেছে, এতে অবশ্য অবাক হওয়ার কিছু নেই।”
আরেক সাবেক ইংলিশ তারকা গ্যারি নেভিল মনে করিয়ে দিলেন, আগের ম্যাচগুলোতেও আর্জেন্টাইনদের আচরণ আপত্তিজনক ছিল।
“এটা লজ্জাজনক। আর্জেন্টাইনদের লড়াকু মনোভাব আমার ভালো লাগে, তারা জীবন বাজি রেখে লড়াই করে, মেসি তাদের আগলে রেখেছেন। কিন্তু গত কয়েকটি ম্যাচে যা হয়েছে তা লজ্জাজনক।”