Published : 29 Jun 2026, 01:06 PM
“রাজনীতি হলো রক্তপাতহীন যুদ্ধ, আর যুদ্ধ হলো রক্তাক্ত রাজনীতি।”—মাও সে তুঙ
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আজ এমন এক সময়ে নতুন করে আলোচনায় আসছে, যখন বৈশ্বিক রাজনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং দক্ষিণ এশিয়া হয়ে উঠছে পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক গণচীন সফর বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে মাত্র আঠারো ঘণ্টা মালয়েশিয়া অবস্থান করে প্রধানমন্ত্রীর চীনে যাওয়া নিছক কূটনৈতিক সৌজন্যের অংশ নয়, বরং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে কিছুটা ভিন্ন অভিমুখে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত—যদিও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের পক্ষে পুরোপুরি ভিন্ন পথে হাঁটা সম্ভব নয়।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে ক্রমশ ভূরাজনৈতিক অবস্থানের প্রশ্নে পরিণত হচ্ছে। একই সময়ে চীন-মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৈশ্বিক রাজনীতিকে নতুন রূপ দিচ্ছে, আর সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঢেউ এসে লাগছে বাংলাদেশের মতো ছোট দেশগুলোর দরজায়ও। প্রশ্ন হলো—এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি করছে, না সংকট?
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি
বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের সূচনা বৈরিতা দিয়ে—এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তত্ত্বে যাকে বলে ‘স্বার্থের রাজনীতি’, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় চীন পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। স্বাধীনতার পরও সেই বৈরিতা অব্যাহত থাকে। ১৯৭২ সালের ২৫ অগাস্ট জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের সদস্যপদের প্রস্তাবে চীন ভেটো প্রদান করে—এটি ছিল জাতিসংঘে চীনের প্রথম ভেটো। পাকিস্তানের প্রতি কৌশলগত বিশ্বস্ততা রক্ষায় চীন সেদিন তৃতীয় বিশ্বের মুক্তিকামী জাতির ‘স্বাভাবিক মিত্র’ হিসেবে নিজের গড়ে তোলা ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। তখনকার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই বৈপরীত্যকে ইতিহাসের পরিহাস বলে চিহ্নিত করে।
কিন্তু বৈশ্বিক রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু বা বন্ধু বলে কিছু নেই—আছে কেবল স্থায়ী স্বার্থ। মাত্র দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়। ১৯৭৪ সালে দুই দেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চীন বাংলাদেশকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতি কেবল সৌজন্যের বিষয় নয়—এর পেছনে কাজ করেছে চীনের কৌশলগত সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন।
পরবর্তী দশকগুলোতে এই সম্পর্ক ধীরে ধীরে বহুমাত্রিক রূপ নেয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ করে—পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল, পায়রা বন্দর এবং একাধিক বিদ্যুৎ প্রকল্প তার উজ্জ্বল উদাহরণ। বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিক থেকে চীন এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমদানির উৎস—পোশাক শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি এবং ভোগ্যপণ্যের বিশাল অংশ আসে চীন থেকে। সামরিক ক্ষেত্রেও চীন বাংলাদেশের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে—যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান সরবরাহের মাধ্যমে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা কৌশলগত মাত্রা পেয়েছে।
তবে এই সম্পর্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মাত্রা হলো চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআইতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। ২০১৬ সালে শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের পর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিআরআইতে যোগ দেয়। এই উদ্যোগ শুধু সড়ক ও বন্দর নির্মাণের প্রকল্প নয়—চীনের বৈশ্বিক কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার একটি অংশ। একইভাবে শি জিনপিং প্রবর্তিত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ— গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ, গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ, গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ এবং গ্লোবাল এআই গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ—বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, চীন কেবল অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নয়, একটি বিকল্প বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে। এই ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে ‘চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজতন্ত্র’—পশ্চিমা উদারনৈতিক গণতন্ত্রের বিকল্প হিসেবে উপস্থাপিত এক রাষ্ট্রব্যবস্থা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে চীন দীর্ঘমেয়াদে একটি সমাজতান্ত্রিক হেজিমনি প্রতিষ্ঠার দিকে এগোচ্ছে—আর বাংলাদেশকেও সেই বলয়ের মধ্যে নিতে চাইছে। ১৯৭২ সালে যে দেশ বাংলাদেশের জন্মকে অস্বীকার করেছিল, আজ সে দেশ বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অংশীদার—এই রূপান্তর নিছক বন্ধুত্বের গল্প নয়, স্বার্থের রাজনীতির বাস্তব পাঠ। কিন্তু এই স্বার্থ এখন আর কেবল দ্বিপক্ষীয় নয়—একটি বৈশ্বিক আদর্শিক প্রকল্পের অংশ।
চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজতন্ত্রের ভিত্তিতে পশ্চিমা ব্যবস্থার বিকল্প একটি বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা চীন লালন করে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা তারই একটি অধ্যায়। তবে, চীন এই প্রকল্পকে সরাসরি ‘সমাজতান্ত্রিক হেজিমনি’ বলে না—বরং বলে ‘বহুমেরু বিশ্ব’ বা ‘মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ’। এই কৌশলী ভাষ্যেই রয়েছে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে কাছে টানার শক্তি।
তিন শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের জটিল সমীকরণ
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র—এই তিন রাষ্ট্রের প্রভাব ভিন্ন হলেও পরস্পর-সংযুক্ত। চীন হলো উন্নয়নের প্রধান অংশীদার, ভারত ভূগোল ও নিরাপত্তার বাস্তবতা এবং যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি বাজার ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক বৈধতার উৎস। রোহিঙ্গা সংকটে এই তিন শক্তির ভিন্নমুখী অবস্থান বাংলাদেশের কূটনৈতিক জটিলতার একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ—চীন মিয়ানমারকে সমর্থন দিচ্ছে, ভারত নীরব থাকছে, আর যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অবস্থান থেকে মানবাধিকারের পক্ষে সরব রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বহুমাত্রিক। স্থলবেষ্টিত বাংলাদেশের পক্ষে ভারতকে উপেক্ষা করা অসম্ভব। ট্রানজিট, বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং নদীর পানি বণ্টন—এই বিষয়গুলোতে ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। সামরিক দিক থেকেও ভারত বাংলাদেশের নিরাপত্তা কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বাংলাদেশ যখন চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়, তখন ভারতের কৌশলগত উদ্বেগ বাড়ে। ভারত-মার্কিন ঘনিষ্ঠতার কারণে এই উদ্বেগ পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক বৈধতা। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। এই বাজার নিশ্চিত রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা জরুরি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র শুধু বাণিজ্যিক অংশীদার নয়; তারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মানদণ্ড বজায় রাখার শর্তেও সম্পর্ক নির্ধারণ করে—জিএসপি সুবিধা এবং কূটনৈতিক বৈধতার ক্ষেত্রে এটি সুস্পষ্ট। কূটনৈতিক বৈধতা বলতে বোঝায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি সরকার ও তার নীতিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষমতা—যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বা বিরোধিতা এই ক্ষমতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। সামরিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের আওতায় বাংলাদেশকে নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামোয় যুক্ত করতে আগ্রহী, যা চীনের সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দ্বের ক্ষেত্র তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত কৌশল হলো ‘হেজিং’— অর্থাৎ একটি বড় শক্তির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। ছোট রাষ্ট্রগুলো সাধারণত এই পদ্ধতিতে নিজেদের কৌশলগত স্বাধিকার রক্ষা করে। কিন্তু হেজিং কৌশলের সফলতার জন্য প্রয়োজন সূক্ষ্ম কূটনৈতিক দক্ষতা—যে কোনো পক্ষকে অতিমাত্রায় সুবিধা দিলে অন্য পক্ষের আস্থা হারানোর ঝুঁকি থাকে।
সুযোগ ও সংকটের মাঝে বাংলাদেশের পথ
চীন-মার্কিন প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের জন্য সংকট যেমন তৈরি করেছে, তেমনি কিছু সুযোগও উন্মুক্ত করেছে। সুযোগের দিক থেকে বলা যায়, দুই পরাশক্তির প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের কারণে বাংলাদেশ উভয় পক্ষ থেকে উন্নয়ন সহায়তা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সুবিধা আদায় করতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলো শীতল যুদ্ধের সময় ঠিক এই কৌশলই অনুসরণ করেছিল। চীন যদি বিআরআই-এর আওতায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী থাকে, আর যুক্তরাষ্ট্র যদি ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে বিকল্প সুযোগ দেয়, তাহলে বাংলাদেশ দরকষাকষির ক্ষমতা কিছুটা হলেও বাড়াতে পারে।
তবে সংকটের দিকটি আরো বেশি জটিল। চীনের চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজতন্ত্রের হেজিমনিক প্রকল্পে অংশ নেওয়া মানে পশ্চিমের সঙ্গে আদর্শিক দূরত্ব তৈরির ঝুঁকি নেওয়া। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার একটি দেশ—এই পরিচয়ের সঙ্গে চীনা কর্তৃত্ববাদী মডেলের মেলবন্ধন মতাদর্শগতভাবে অস্বস্তিকর। এর বাইরে রয়েছে ঋণের ফাঁদের প্রশ্ন। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে, বিআরআই প্রকল্পের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতা কীভাবে কৌশলগত সম্পদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ যদি চীনের অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার বৃত্তে অতিমাত্রায় ঢুকে পড়ে, তাহলে স্বাধীন বৈদেশিক নীতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমের সঙ্গে দূরত্ব বাড়লে তার প্রভাব পড়বে রপ্তানি বাজার, বৈদেশিক সাহায্য এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমর্থনের ওপর। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ট্রানজিট, পানি এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো অত্যন্ত ব্যবহারিক বিষয়গুলোতে জটিলতা তৈরি হবে। ফলে এই তিন শক্তির মাঝে ভারসাম্য নষ্ট হলে তার প্রভাব পড়বে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সরকারের স্থিতিশীলতার ওপর।
ইতিহাস বলে, ছোট রাষ্ট্রগুলো যখন পরাশক্তির লড়াইয়ে পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য হয়, তখন সার্বভৌমত্বই হয় তার বিনিময়মূল্য। বর্তমান সরকারের সামনে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করতে গিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যাতে না হারায়, সেটি নিশ্চিত করা। এর অর্থ হলো বিআরআই প্রকল্পে অংশগ্রহণের শর্তগুলো সতর্কভাবে নির্ধারণ করা, শি জিনপিংয়ের বৈশ্বিক উদ্যোগগুলোর ব্যাপারে ভেবেচিন্তে কৌশলগত অবস্থান নেওয়া এবং একই সঙ্গে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সচল রাখা।
চীন-মার্কিন প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের জন্য সুযোগ না সংকট—এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিচক্ষণতার ওপর। সুযোগ কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন কৌশলগত দূরদর্শিতা—কোনো একটি পরাশক্তির অত্যধিক কাছে না গিয়ে সকলের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখবার কূটনৈতিক প্রজ্ঞা। আর সংকট এড়াতে হলে প্রয়োজন আদর্শিক স্বচ্ছতা—বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও সার্বভৌম মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের সদিচ্ছা। তিন স্রোতের মোহনায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে তাই খুঁজে নিতে হবে তার নিজস্ব পথ—বেইজিংয়ের কক্ষপথে বা ওয়াশিংটনের ছত্রছায়ায় নয়, বরং স্বাধীন ও সমতাভিত্তিক সম্পর্কের আলোকে।
সাঈদ ইফতেখার আহমেদ শিক্ষক, স্কুল অব সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিজ, আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেম। ই-মেইল: [email protected]