Published : 28 Jun 2026, 05:26 PM
রূপচর্চা বা ত্বকের যত্ন বলতে কেবল নারীদের প্রসাধনীকেই বোঝায় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভুল ধারণা ভেঙেছে।
পুরুষেরও ত্বকের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে আমাদের দেশের তীব্র রোদ, ধুলোবালি ও দূষণের কারণে পুরুষের ত্বকের ক্ষতি নারীদের চেয়েও অনেক সময় বেশি হয়।
অনেকেই মনে করেন, ত্বকের যত্ন নেওয়া মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হরেক রকমের ক্রিম মাখা। তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরুষের ত্বক ভালো রাখতে মাত্র ৩টি সহজ ও ঝটপট ধাপই যথেষ্ট।
একে বলা হচ্ছে ‘মিনিমালিস্ট স্কিনকেয়ার’।
কেন ছেলেদের আলাদা ত্বকের যত্ন প্রয়োজন?
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি’র ত্বক পরিচর্যার নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, টেস্টোস্টেরন হরমোনের কারণে পুরুষের ত্বক নারীদের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি পুরু বা মোটা হয়।
এছাড়া চিকিৎসা সাময়িকী পাবমেড-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষের ত্বকে লোমকূপের সংখ্যা বেশি এবং তেল বা সিবাম বেশি উৎপন্ন হয়। ফলে ধুলোবালি আটকে ব্রণ বা ব্ল্যাকহেডসের উপদ্রব বেশি দেখা দেয়।
নিয়মিত শেভ করার কারণেও চামড়ায় এক ধরনের রুক্ষতা তৈরি হয়। তাই পুরুষের জন্য আলাদা যত্ন আবশ্যক।
বাজেট ও সময়ের কথা মাথায় রেখে পুরুষের ত্বকচর্চায়, ৩টি সাধারণ ধাপ অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ক্লিনজিং বা মুখ পরিষ্কার করা
সারাদিন বাইরে ঘোরাঘুরি, বাইক চালানো বা ধুলোবালির কারণে পুরুষের ত্বকে ময়লার একটি আস্তরণ জমে যায়।
সাধারণ সাবান দিয়ে মুখ ধোওয়া ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। কারণ সাবান ত্বকের প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা কেড়ে নিয়ে চামড়াকে শুষ্ক ও খসখসে করে তোলে।
লন্ডনের কসমেটিক ডার্মাটোলজিস্ট ডা. স্যাম বান্টিং, জিকিউ ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে, পুরুষদের দিনে অন্তত দুবার ভালো মানের ফেইসওয়াশ বা ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য স্যালিসিলিক অ্যাসিডযুক্ত ফেইসওয়াশ এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য মৃদু ফেইসওয়াশ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
ত্বক যদি খুব তৈলাক্ত হয়, তবে ‘স্যালিসিলিক অ্যাসিড’ যুক্ত ফেইসওয়াশ ব্যবহার করলে ব্রণ ও অতিরিক্ত তেল দূর হবে। আর শুষ্ক ত্বকের জন্য ফোমিং ক্লিনজারের বদলে ‘জেন্টল’ বা মৃদু ফেইসওয়াশ বেছে নিতে হবে।
ময়েশ্চারাইজিং বা ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা
অনেকেরই ধারণা, তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর প্রয়োজন নেই, যা ভুল ধারণা।
মুখ ধোয়ার পর ত্বক কিছুটা আর্দ্রতা হারায়। এই আর্দ্রতা ফিরিয়ে না দিলে ত্বক নিজেকে রক্ষা করতে আরও বেশি তেল তৈরি করে, যা পরে ব্রণের কারণ হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ইরভিং মেডিকেল সেন্টারের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শেইভ করার পর পুরুষের ত্বকে যে জ্বালাপোড়া বা ‘মাইক্রো-কাট’ অর্থাৎ (সূক্ষ্ম ক্ষত) তৈরি হয়, তা নিরাময় করতে ময়েশ্চারাইজার বা জেল-ভিত্তিক পণ্য ভালো কাজ করে।
পুরুষদের জন্য হালকা ও তেলহীন ময়েশ্চারাইজার ভালো, যা চটচটেভাব ছাড়াই ত্বককে নরম রাখতে সাহায্য করে।
সানস্ক্রিন বা রোদের সুরক্ষা
ত্বক পরিচর্যার ক্ষেত্রে পুরুষদের সাধারণ ভুলের মধ্যে রয়েছে, সানস্ক্রিন না লাগানো।
রোদ, অতিবেগুনি রশ্মি এবং ল্যাপটপ বা ফোনের স্ক্রিনের আলো ত্বকে দ্রুত বলিরেখা ও বয়সের ছাপ ফেলে দেয়, এমনকি স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায়।
আমেরিকান ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ঘর থেকে বের হওয়ার অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে অন্তত এসপিএফ ৩০ সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
বর্তমানের আধুনিক ত্বক পরিচর্যার ব্র্যান্ডগুলো ছেলেদের সুবিধার জন্য ‘ম্যাট ফিনিশ’ সানস্ক্রিন তৈরি করে, যা মাখলে মুখে কোনো সাদাভাব বা আঠালো অনুভূতি থাকে না।
পুরুষের জন্য ঝটপট ত্বক পরিচর্যার টিপস
যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া স্কিন ক্লিনিকের তথ্যানুসারে পুরুষের ত্বক পরিচর্যার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় পালন করা উচিত।
সঠিক রেইজার ও ক্রিমের ব্যবহার: শেইভ করার সময় সবসময় ধারালো ও পরিষ্কার রেজার ব্যবহার করতে হবে। শেইভ করার পর অ্যালকোহলযুক্ত আফটারশেইভ লোশনের বদলে জেল বা ময়েশ্চারাইজার লাগানো উপকারী।
কার্যকর স্ক্রাবিং: মৃত কোষ এবং ব্ল্যাকহেডস দূর করতে সপ্তাহে মাত্র একদিন ভালো কোনো স্ক্রাবার দিয়ে মুখে আলতো হাতে মালিশ করা যেতে পারে।
পানি ও ঘুম: কোনো প্রসাধনী ঠিক মতো কাজ করবে না, যদি দিনে অন্তত ৩ লিটার পানি পান না করা হয়। আর ত্বক ভালো রাখতে রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি।
পুরুষ যদি কেবল মুখ ধোওয়া, ময়েশ্চারাইজার মাখা আর বাইরে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন লাগানোর- এই তিন ধাপের অভ্যাসটি গড়ে তুলতে পারেন, তবে খুব কম খরচেই মিলতে পারে দাগহীন, সুস্থ ও সতেজ ত্বক।
আরও পড়ুন