Published : 02 Jul 2026, 05:36 PM
ঝলমলে পাথর, রঙিন পুঁতি, সূক্ষ্ম সুতা আর হাতের কারুকাজের কারচুপি, শাড়ি বা পোশাকেই সীমাবদ্ধ ছিল।
তবে জমকালো এই কারুকাজের নকশা এখন গয়নাতেও হচ্ছে।
কারচুপি যেহেতু হাতেই করা হয়, তাই প্রতিটি গয়নাতে আলাদা সৌন্দর্য আসে। তাই একই নকশার দুটি গয়নাও পুরোপুরি একরকম হয় না।
জমকালো ও ছিমছাম দুই ধরনেই পাওয়া যায়। যে কারণে উৎসব, বিয়ে, গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে প্রতিদিনের ফ্যাশনেও কারচুপি গয়না মাননসই।
রঙিন পাথর, কাঁচের পুঁতি, ধাতব তার ও সুতা দিয়ে তৈরি সূক্ষ্ম কাজ হয় কারচুপিতে।
গয়নাগুলো বড় বা মাঝারি আকারের হলেও, ভারী ধাতুর ব্যবহার কম থাকে। তাই ওজনে তুলনামূলক হালকা আর দেখতে হয় বেশ রাজকীয়।
কারচুপি গয়না কী?
গয়না প্ল্যাটফর্ম ঋ-এর প্রধান ও গয়না নকশাকর মাধুরি সঞ্চিতা বলেন, “কারচুপি গয়না হল এমন অলংকার, যেখানে ধাতু ঢালাইয়ের পরিবর্তে কাপড়, ফেল্ট, চামড়া বা বিশেষ ভিত্তির ওপর সুতা দিয়ে একে একে পাথর, পুঁতি, মুক্তা ও নানান অনুষঙ্গ বা উপাদান সেলাই করে বসানো হয়।”
প্রতিটি পাথর হাতে লাগানো হয় বলে, যান্ত্রিক উৎপাদনের বদলে শৈল্পিক ছাপ ফুটে ওঠে।
এই গয়নার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যই হল সূক্ষ্ম নকশা, রংয়ের বৈচিত্র্য এবং ত্রিমাত্রিক বা ‘থ্রি ডি’ সৌন্দর্য।
কী কী উপকরণে তৈরি হয়?
“কারচুপি গয়না তৈরিতে সাধারণত কাচের পুঁতি, কৃত্রিম পাথর, কাটদানা, সিকুইন, মুক্তা, ধাতব চেইন, রেশমি সুতা, জরি, তামা বা পিতলের তার এবং শক্ত কাপড় বা ফেল্ট ব্যবহার করা হয়”, বলেন সঞ্চিতা।
অনেক সময় পেছনের অংশে নরম চামড়া বা কাপড় লাগিয়ে গয়নাটি আরামদায়ক করা হয়। এছাড়া পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহার করেও অনেক কারচুপিরগয়না তৈরি হচ্ছে, জানান তিনি।
তৈরি হয় যেভাবে
একটি কারচুপি গয়না তৈরির কাজ শুরু হয় নকশা আঁকার মাধ্যমে।
সঞ্চিতা বলেন, “প্রথমে কাগজে নকশা তৈরি করে সেটি বিশেষ কাপড় বা ভিত্তির ওপর বসানো হয়। এরপর একে একে পাথর, পুঁতি ও অন্যান্য উপাদান সূক্ষ্ম সেলাইয়ের মাধ্যমে লাগানো হয়।”
সব উপাদান বসানো শেষ হলে, গয়নার চারপাশ সুন্দরভাবে কেটে প্রান্তে আবার পুঁতি বা সুতা দিয়ে ‘ফিনিশিং’য়ের পর হুক, চেইন বা ক্লিপ যুক্ত করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়।”
এক জোড়া দুল বা একটি ব্রেসলেট তৈরি করতে নকশার জটিলতার ওপর নির্ভর করে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
সঞ্চিতা দাবি করেন, “ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন ডিজাইনারা কারচুপি গয়না নিয়ে কাজ করলেও আমাদের দেশে এমন কাজ আমিই প্রথম করলাম।”
ওজনে হালকা, পরতে আরামদায়ক
দেখতে বড় ও ভারী মনে হলেও অধিকাংশ কারচুপি গয়না খুব বেশি ওজনের হয় না। কারণ এতে সোনা বা ভারী ধাতুর বদলে পুঁতি, সুতা ও হালকা উপাদান ব্যবহার করা হয়।
“যে কারণে বড় আকারের দুলও দীর্ঘ সময় পরে থাকা যায়। কানের ওপর চাপও তুলনামূলক কম পড়ে। তাই বিয়ে, উৎসব কিংবা দীর্ঘ সময়ের অনুষ্ঠানেও এই ধরনের গয়না স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করা যায়”, বলেন এই গয়নাকর।
উপযোগিতা বেশি
“কারচুপি গয়নার চাহিদার কারণ হল, এর স্বতন্ত্র নকশা”, মন্তব্য করেন সঞ্চিতা।
এছাড়া হাতে তৈরি হওয়ায় প্রতিটি গয়নায় শিল্পীর নিজস্ব ভাবনা থাকে।
আবার একই গয়না শাড়ি, কামিজ, কুর্তি, গাউন কিংবা ফিউশন পোশাক— সবকিছুর সঙ্গেই মানিয়ে যায়।
“রংয়ের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যই সবচেয়ে বড় ধারা। নীল, সবুজ, পান্না, ফিরোজা, সাদা, কালো, রুপালি, সোনালি, লাল, মেরুন, বেগুনি ও প্যাস্টেল রংয়ের কারচুপি গয়নাই আছে ট্রেন্ডে”, যোগ করেন এই গয়না নকশাকর।
যে ধরনের পোশাকের সঙ্গে মানানসই
কারচুপি গয়নার সুবিধা হল, এটি নানান ধরনের পোশাকের সঙ্গে মানায়।
“মসলিন, জামদানি, সিল্ক, অর্গানজা, লিনেন, সুতি-সহ সব ধরনের কাপড়ের সঙ্গেই এই গয়না পরা যায়। আবার একরঙা পোশাকের সঙ্গে বড় কারচুপি দুল বা ব্রেসলেটও মানানসই”, বলেন ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ লিপি খন্দকার।
একই সঙ্গে আধুনিক পোশাক এবং স্টেটমেন্ট দুল বা ব্রেসলেটও আলাদা ভাব তৈরি করবে।
যেমন যত্ন দরকার
কারচুপি গয়নায় সুতা ও পুঁতির কাজ থাকে, তাই একটু যত্ন নিলে এটি অনেক দিন ভালো থাকে।
সঞ্চিতা পরামর্শ দেন, “ব্যবহারের পর নরম কাপড় দিয়ে আলতোভাবে মুছে শুকনো স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত। সুগন্ধি, হেয়ার স্প্রে বা প্রসাধনী ব্যবহারের আগে গয়না না পরাই ভালো। আবার পানি লাগলে দ্রুত শুকিয়ে নিতে হবে।”
এছাড়া অন্যান্য গয়নার সঙ্গে মিলিয়ে না রেখে আলাদা কাপড়ের ব্যাগ বা বাক্সে রাখলে পুঁতি ও পাথর ঘষা লেগে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমে।
ছবি: ঋি
আরও পড়ুন
জার্সি পরে খেলা দেখলে অনুভূতিটা কেন অন্যরকম হয়?