Published : 03 Jul 2026, 03:43 AM
প্রথম চার ওভারের মধ্যে তিন ব্যাটারের বিদায়। ভীষণ চাপের মুখে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন ন্যাট সিভার-ব্রান্ট ও হিদার নাইট। এই দুজনের রেকর্ড জুটিতে ইংল্যান্ড পেল বড় পুঁজি। রান তাড়ায় লড়াই জমাতেই পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। অনায়াস জয়ে আট বছর পর উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ইংলিশরা।
দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে স্বাগতিকদের জয় ৪০ রানে।
ওভালে বৃহস্পতিবার ২০ ওভারে ইংল্যান্ড করে ৫ উইকেটে ১৬৯ রান। জবাবে গত দুই আসরের ফাইনালিস্ট দক্ষিণ আফ্রিকা ৮ উইকেটে ১২৯ রানের বেশি করতে পারেনি।
আগামী রোববার লর্ডসের ফাইনালে ছয়বারের রেকর্ড চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের জয়ের মূল কারিগর অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার সিভার-ব্রান্ট ও নাইট। অধিনায়ক সিভার-ব্রান্ট তিন নম্বরে নেমে ১১ চার ও এক ছক্কায় ৪৭ বলে ৭৫ রান করে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
আসরে দলের প্রথম দুই ম্যাচ খেলার পর, পেশির চোটে পরের তিন ম্যাচে খেলতে পারেননি সিভার-ব্রান্ট। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফিরেই দলের জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখলেন ৩৩ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
পাঁচ নম্বরে ছয় চার ও এক ছক্কায় ৪৭ বলে ৫৮ রান করেন ৩৫ বছর বয়সী নাইট।
এই দুজনের চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসে ৯০ বলে ১৩৩ রান। উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি এটি।
২০০৯ সালে এই ওভালেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে তৃতীয় উইকেটে ইংল্যান্ডের ক্লেয়ার টেইলর ও বেথ মর্গ্যানের অবিচ্ছিন্ন ১২২ রানের জুটি ছিল আগের রেকর্ড।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। শাবনিম ইসমাইলে অফ স্টাম্পের বাইরের বলে টাইমিং করতে না পেরে পয়েন্টে ক্যাচ দেন অ্যামি জোন্স। দারুণ ছন্দে থাকা ব্যাটার ড্যানি ওয়াট-হজ ১২ রান করে বোল্ড হন মারিজান ক্যাপের বলে ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক গলে।
উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড আগের ম্যাচেই গড়েন ওয়াট-হজ। ছয় ইনিংসে তার রান হলো ২৯৪। ২০২০ আসরে ছয় ইনিংসে ২৫৯ রান করে আগের রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনির।
শাবনিমের বলে এলবিডব্লিউ হন অ্যালিস ক্যাপসি। যদিও রিপ্লেতে দেখা যায়, বল তার ব্যাটে লেগেছিল। রিভিউ নিলে বেঁচে যেতেন তিনি!
চতুর্থ ওভারে ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে খুব চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করে সিভার ব্রান্ট ও নাইট জুটি।
শুরুতে সময় নেন দুজন। পরে বাড়ান রানের গতি। ৩৫ বলে ফিফটি করেন সিভার-ব্রান্ট। নাইট পঞ্চাশে পা রাখেন ৪২ বলে। দলের স্কোর ছাড়িয়ে যায় দেড়শ।
অষ্টাদশ ওভারে বাঁহাতি স্পিনার এমলাবার তিন বলের মধ্যে বিদায় নেন দুই থিতু ব্যাটার।
প্রথম ১০ ওভারে কেবল ৬৮ রান করতে পারা ইংল্যান্ড পরের ১০ ওভারে করে ১০১ রান!
লক্ষ্য তাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। লরা ভুলভার্ট ও ট্যাজমিন ব্রিটসের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪৩ রান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে প্রোটিয়া অধিনায়ক ভুলভার্টকে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে প্রথম সাফল্য এনে দেন বাঁহাতি স্পিনার লিনজি স্মিথ।
এরপর নিয়মিত উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আর কোনো জুটি ত্রিশও ছুঁতে পারেনি। অন্যদের আসা-যাওয়ার মাঝে এক প্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি করেন ব্রিটস। ৪৫ বলে ৫১ রান করে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে বিদায় নেন তিনি। আর কেউ উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি।
আঁটসাঁট বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের হয়ে উইকেটের দেখা পান পাঁচ জন। সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট নেন লরেন বেল ও চার্লি ডিন।