১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কানাডার ইউরোপমুখী যাত্রা ‘বড় ভুল’: ওয়াশিংটন পোস্ট

“ডনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক, ব্রাসেলসের আমলারা কিন্তু চিরস্থায়ী,” সম্পাদকীয়তে লিখেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।

কানাডার ইউরোপমুখী যাত্রা ‘বড় ভুল’: ওয়াশিংটন পোস্ট

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেতসোলা ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Sep 2026, 12:30 AM

Updated : 19 Sep 2026, 12:30 AM

যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার আগ্রহ কানাডার না-ই থাকতে পারে, কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮তম সদস্য হওয়ার চেষ্টা করাটা তাদের জন্য হঠকারিতা হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ব্যাপক আয়োজন করে কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

এই আমন্ত্রণের উদ্দেশ্য তুলে ধরতে গিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের সম্পাদকীয়তে লিখেছে, উৎপাদন, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাত— সব দিক থেকে অটোয়াকে ওয়াশিংটন থেকে ব্রাসেলসমুখী করতে চাইছে ইউরোপীয় কমিশন।

এ বিষয়ে আগামী মাসের সম্মেলনে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে।

‘মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে’ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাট্টা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

ওয়াশিংটন পোস্টের চোখে, কার্নি মূলত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ক্ষোভ থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে দূরে সরে যেতে চাইছেন।

যে জোট উত্তর আমেরিকার জন্য বিপুল সমৃদ্ধি বয়ে এনেছে, সেখানে বিচ্ছেদ ঘটে গেলে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের ভাষায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে। কিন্তু মুক্ত বাণিজ্যের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও জটিল সম্পর্ক রয়েছে।

তারা জোটের অভ্যন্তরীণ একক বাজারে ২৭টি সদস্য দেশকে সুবিধা দেয় এবং পণ্য সরবরাহকে সহজ ও উন্মুক্ত করে। কিন্তু জোটের বাইরের দেশগুলোর ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সুরক্ষাবাদী প্রবণতা রয়েছে। তারা বাণিজ্যে নানা বাধা তৈরি করে। এছাড়া অন্যান্য দেশের সঙ্গে তারা সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ব্রাসেলসের মাধ্যমে বাণিজ্য চুক্তি করতে বাধ্য করে।

ওয়াশিংটন পোস্ট প্রশ্ন তুলেছে, জাপান বা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ইউরোপের আমলাদের দ্বারা নির্ধারিত হলে বিষয়টি কেমন হবে, তা কি কানাডা ভেবে দেখেছে?

ইউরোপীয় ইউনিয়নে কানাডার রাষ্ট্রদূত জনাথান উইলকিনসন বলেছেন, সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিতে হয়— এমন কোনো চুক্তিতে তার দেশ রাজি হবে না। কিন্তু জোটে যোগ দিলে কোনো না কোনো মূল্য দিতেই হয়।

ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, বুধবার ফন ডার লিয়েন যে ‘প্রযুক্তি জোট’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে কি কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর কিছু তথ্য সুরক্ষা বিধিমালা মেনে নিয়ে কর দিতে হবে? অথবা কানাডাকে কি ডিজিটাল সেবা কর চালু করতে হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার তিন মাসের মাথায় কার্নিকে এমন একটি কর আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে হয়েছিল?

আইসল্যান্ডের ইইউয়ে যোগ দেওয়ার স্থগিত থাকা আলোচনা পুনরায় চালু হবে কিনা, তা নিয়ে সেখানে গেল মাসে একটি গণভোট হয়। তাতে ভোটাররা আলোচনা শুরুর সরকারি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে দেন।

তাদের মূল উদ্বেগ হলো, ইউরো অঞ্চলের মাছ ধরার কোটা দ্বীপ রাষ্ট্রটির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। কারণ তাদের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই আসে এই খাত থেকে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেকে নিয়ন্ত্রক পরাশক্তি মনে করে। জননীতির এমন কোনো ক্ষেত্র নেই বললেই চলে, যেখানে তারা কঠোর নিয়মের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে না।

এসব নিয়ম প্রায়ই জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে আসে। এর ফলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোট একটি বড় উদাহরণ।

ওয়াশিংটন পোস্ট মনে করে, কার্নির সঙ্গে ফন ডার লিয়েনের ঘনিষ্ঠতার আগ্রহের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, ট্রাম্প কী মাত্রায় তাদের দীর্ঘদিনের মিত্রদের দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু সময় অনেক ক্ষত সারিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রেও কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক মাত্র দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে নতুন করে সাজানোর সুযোগ আসছে। কারণ, ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে নতুন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেবেন।

কিন্তু এর মধ্যে যদি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ চলতে থাকে, তাহলে কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে?

সম্পাদকীয়র শেষভাগে ওয়াশিংটন পোস্ট উত্তরে লিখেছে, “এর ভয়াবহ পরিণতি সীমান্তের দুই পাশে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আর ততদিনে কানাডার মানুষ হয়তো নিজেদের ব্রাসেলসের আমলাদের শক্ত নিয়ন্ত্রণে আবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাবেন।”