ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেতসোলা ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি: রয়টার্স
Published : 16 Sep 2026, 10:25 PM
কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ (অ্যাসোসিয়েট ম্বোর) করার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে চান বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন।
‘প্রকাশ্য শত্রুভাবাপন্ন এই বিশ্বে’ মিত্রদের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিতে চান তিনি।
লিয়েন প্রস্তাবটি দেওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আইনপ্রণেতারা দাঁড়িয়ে তালি দিয়ে তাকে সম্মান জানান। এরপর তারা সেখানে উপস্থিত কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন।
মার্ক কার্নি মূলত ফন ডার লিয়েনের বছরের প্রধান ভাষণ (স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ) শোনার জন্যই সেখানে গিয়েছিলেন। স্ট্রাসবার্গের সভায় লিয়েন বলেন, “আজকের এই অশান্ত ও দুর্বল পৃথিবীতে নতুন করে সবার সঙ্গে জোট বাঁধা দরকার।”
২৭টি দেশের এই জোট ইইউ তাদের সীমান্তে যুদ্ধের মুখোমুখি হচ্ছে, যেখানে রাশিয়া ইউক্রেইনে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং ক্রমেই দাপুটে হয়ে ওঠা চীনের পক্ষ থেকে ইইউ এবং কানাডা—উভয়কেই বাণিজ্য ও অন্যান্য বিষয়ে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ইউরোপ ও কানাডা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে:
ফন ডার লিয়েন বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কানাডা বিশ্বকে একই চোখে দেখে: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন, আর্কটিক অঞ্চল থেকে ভূরাজনীতি—সবকিছুতেই। এবং আমরা একসঙ্গে পাশে দাঁড়িয়েছি: ইউক্রেইন, প্রতিরক্ষা, কাঁচামাল এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বিষয়েও। তবে সর্বোপরি কানাডা ও ইইউ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।”
গণতন্ত্রে এই বিশ্বাসও দুই পক্ষের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইইউ ও কানাডার মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও রয়েছে। নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য সেই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া।
কিন্তু ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ফন ডার লিয়েন কানাডাকে ইইউ সহযোগী সদস্যদেশ করার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটি গৃহীত হবে কিনা তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর ওপরই নির্ভর করবে, লিয়েনের একক সিদ্ধান্তের ওপর নয়।
ঐতিহাসিকভাবেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এ ধরনের নমনীয় মিত্রতা গড়ে তোলায় বাধা দিয়ে এসেছে, যার কোনও আইনি ভিত্তি নেই।পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ পাওয়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ইউক্রেইনকে ‘সহযোগী সদস্যপদ’ দেওয়ার জন্য মে মাসে জার্মানি যে প্রস্তাব দিয়েছিল—ইইউ সদস্যরা তাতে ততটা আগ্রহ দেখায়নি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের একজন কূটনীতিক ভন ডার লিয়েনের প্রস্তাবে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, “আসলে কেউই জানে না এর (সহযোগী সদস্য) মানে কী।” ওই কূটনীতিক আরও বলেন, ইউরোপীয় কমিশন প্রধান অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং তিনি তা পূরণ করতে পারবেন না- এমন উদ্বেগ রয়েছে।
ফন ডার লিয়েনের ভাষণের আগে, কানাডা এবং ইউরোপে নিযুক্ত সাত ইইউ কূটনীতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছিলেন যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও নিবিড় সহযোগিতার জন্য সক্রিয় প্রচেষ্টা চলছে। তবে উচ্চপর্যায়ে কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার আরও সুদূরপ্রসারী সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়নি।