Published : 23 Apr 2026, 05:57 PM
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতায় প্রকাশ করেছেন-
যেমন আছ তেমনি এসো, আর কোরো না সাজ।
বেণী নাহয় এলিয়ে রবে, সিঁথি নাহয় বাঁকা হবে,
নাই-বা হল পত্রলেখায় সকল কারুকাজ।
তবে তিনি হয়ত কখনও ভাবেননি, সিঁথি বাঁকা হওয়া ছাড়াও একপাশের সিঁথিতেও সৌন্দর্য আসতে পারে। তিনি না ভাবলেও ফ্যাশন ও সৌন্দর্যচর্চার জগতে ট্রেন্ড বা ধারা হারিয়ে আবার ফিরে আসা নতুন নয়।
বছরের শুরুতে তেমনই চুলের সাজে নতুন ভাবে ফিরেছে ‘সাইড পার্ট’ বা একপাশে সিঁথি করার ফ্যাশন।
দীর্ঘদিন মাঝখানে সিঁথি করার প্রবণতা চলার পর এখন আবার একপাশে সিঁথি করে চুল সাজানোর ধারা স্থান করে নিয়েছে।
“শুধু ট্রেন্ড বা ধারা নয়, এটি বরং ব্যবহারিক ও সৌন্দর্যগত দিক থেকেও সুবিধাজনক” বলেন জারা’স বিউটি লাউঞ্জ ও ফিটনেস সেন্টারের প্রধান ও রূপ-বিশারদ ফারহানা রুমি।

ট্রেন্ডের ফিরে আসা
বছরের শুরুতেই ঈদ ও বৈশাখের আয়োজনে চুলের সাজে ‘সাইড পার্ট’ বা এক পাশে সিঁথির স্টাইলটি নতুনভাবে সামনে এসেছে।
অনেক তারকারাও সহজ কিন্তু ট্রেন্ডি স্টাইলটি সাজে বেছে নিয়েছেন।
ফারহানা রুমি বলেন, “দুই হাজার সালের শুরুর দিকের ফ্যাশন আবার ফিরে আসছে ধীরে ধীরে। সেই সময়ের লম্বা, ভলিউমযুক্ত চুলের স্টাইল এবং পরিপাটি সাজ এখন আবার জনপ্রিয় হচ্ছে।”
যে কারণে একদিকে সিঁথি আবার জনপ্রিয়
‘সাইড পার্ট’ বা এক পাশে সিঁথি শুধু ট্রেন্ড নয়, বরং অনেকের ব্যক্তিত্ব ও চেহারার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মানানসই।
“মুখের গঠন পুরোপুরি সমান নাও হতে পারে। তাই মাঝখানে সিঁথি সব সময় সবার সঙ্গে মানানসই হয় না। একপাশে সিঁথি করলে মুখের গঠন ভারসাম্য আসে” বলেন এই রূপ-বিশারদ।
এছাড়া এটি চুলে বাড়তি ‘ভলিউম’ বা ঘনত্বও আনে। বিশেষ করে চুল পাতলা হলে ঘন দেখাতে এটি কার্যকর কৌশল।
আবার সিঁথি বদলানোর মাধ্যমে সহজেই চুলের সাজে নতুনত্ব আসে।

চুলের যত্ন ও ব্যবহারিক সুবিধা
এক পাশে সিঁথির আরেকটি সুবিধা হল- এটি চুলের কিছু সমস্যাও আড়াল করতে সহায়ক। যেমন- একদিকে যদি কিছু অংশে সাদা চুল বেশি থাকলে, তা সিঁথি পরিবর্তন করে ঢেকে রাখা যায়।
এতে চুলে রং করার প্রয়োজনীয়তাও কিছুটা কমে।
একই সঙ্গে এটি চুলকে কিছুটা পরিপাটি ও পরিশীলিত রূপ দিতে পারে। মাঝখানের সিঁথি অনেক সময় স্বাভাবিক ও সহজ দেখালেও এক পাশের সিঁথিতে ভিন্নতা যোগ হয়।
আধুনিকভাবে এক পাশে সিঁথি করার পন্থা
প্রথমে স্টাইলিংয়ের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। শুধু সিঁথি করলেই হবে না, চুলে কিছুটা ভলিউম এবং নরম ঢেউ রাখতে হবে। না হলে সিঁথির সৌন্দর্য ফুটে উঠবে না।
“চুলের গোড়ায় সামান্য উঁচু-ভাব তৈরি করা এবং চুলকে মসৃণ ও চকচকে রাখাও এই স্টাইলকে সুন্দর করতে পারে।
একপাশে হালকা ঝুঁকে থাকা চুল বা সামনে কিছুটা লম্বা অংশ রাখলে পুরো ‘লুক গ্ল্যামারাস’ হয়” বলেন ফারহানা রুমি।

চুলের সিঁথি বদলানোর কৌশল
চুল দীর্ঘদিন একইভাবে সিঁথি করা থাকলে সেটি পরিবর্তন করা কঠিন মনে হতে পারে। তবে ধীরে ধীরে চুলকে নতুনভাবে অভ্যস্ত করা যায়।
নিয়মিত সিঁথি পরিবর্তন করলে চুলও সেই অনুযায়ী সেট হতে শুরু করে।
চুল ধোয়ার পর ভেজা অবস্থায় নতুনভাবে সিঁথি করা এবং সেইভাবে শুকাতে দিলে এটি সহজে মানিয়ে নেয়।
“কিছুদিন পর এটি স্বাভাবিকভাবেই সেই অবস্থায় থাকতে শুরু করে” বলেন এই সৌন্দর্য বিশারদ।
আরও পড়ুন