Published : 27 Jul 2025, 04:53 PM
গরমের এই সময়ে দিনে আয়নায় নিজেকে দেখে হয়ত অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। চুল ধুয়ে, শুকিয়ে, যত্ন করে স্টাইল করার পরও ঘাম আর আর্দ্রতায় সব ভেস্তে যায়।
বিশেষ করে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে চুল সামলানো এক যন্ত্রণা। তবে এখন আর সেই হতাশার জায়গায় আটকে থাকতে হবে না।
কারণ গরমের সময়ে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে নতুন এক চুলের ধারা ‘ক্লাউড কার্লস’। যার মূল বার্তা- প্রাকৃতিক কোঁকড়া চুলকে ভালোবাসা, এলোমেলো ঢেউয়ের সৌন্দর্যকে উদযাপন করা।
এই নতুন ধারার চুলের স্টাইলটি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বিশ্বব্যাপী। এর পেছনে আছেন যুক্তরাজ্যের হেয়ার স্টাইলিস্ট টম স্মিথ। যিনি ২০২৪ সালে নামটি প্রথম ব্যবহার করেন।
রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, “ক্লাউড কার্লস’ এমন একটি স্টাইল, যা চুলের ত্রি-মাত্রিক গঠনকে (ঘনত্ব, আকার, ঢেউ, অগোছালোতা) উদযাপন করে।”
অর্থাৎ, এটি নিয়ন্ত্রিত, জেল-লেপা চুলের বিপরীত। এখানে অগোছালোতা, এলোমেলো ঢেউ, ‘ফ্রিজ’ সবই সৌন্দর্যের অংশ।
ক্লাউড কার্লস কী এবং কেন এটি আলাদা?
টম স্মিথ’য়ের ভাষায়, “এই স্টাইলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল চুলের বাঁকানো বা ‘কার্ভড’ গঠন, যা মুখমণ্ডলকে দেয় এক রাজকীয় আবহ।”
তিনি বলেন, “এটি একটি ভাস্কর্যের মতো চেহারা তৈরি করে।”
এই চুলের ধরন একেক জনের অনুযায়ী একেক রকম দেখায়। আবহাওয়া, দিনের অবস্থা, এমনকি ব্যক্তির মনের অবস্থার ওপরেও নির্ভর করে। তবে সবার মধ্যেই থাকবে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য— প্রাকৃতিক ঢেউ বা কার্ল আর সেই সাথে স্বতঃস্ফূর্ততা।
প্রাকৃতিক চুল মানেই অসুন্দর— এই ভুল ভাঙছে ক্লাউড কার্লস
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জীবনধারা ও স্বাস্থ্যসচেতন কনটেন্ট নির্মাতা ব্রিজেট ক্যাম্পবেল প্রাকৃতিক চুলের পক্ষেই মত দিয়েছেন। তার নিজের চুলে আছে দুইটি ধরন। অর্থাৎ সামান্য ঢেউ ও ফ্রিজযুক্ত।
তিনি বলেন, “চুল প্রতিদিন একরকম থাকে না, তবে সেটাই সবচেয়ে সুন্দর বিষয়।”
তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক চুল মানে অগোছালো, এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে চুলকে নিজের মতো থাকতে দেওয়াটাই নতুন স্টাইল।”
যেভাবে মিলবে ‘ক্লাউড কার্লস লুক’?
টম স্মিথের মতে, “এই চুলের স্টাইল পেতে হলে প্রথম ধাপ হল- সঠিক চুলের ছাঁট। শুধুমাত্র ৩এ থেকে ৪সি ধরনের কার্লযুক্ত চুল নয়, ঢেউ বা হালকা কার্লযুক্ত চুলেও এই ‘লুক’ সম্ভব।”
এখানে টাইপ ৩ (৩এ, ৩বি, ৩সি) মানে কোঁকড়ানো চুল, ঢেউয়ের চেয়ে বেশি পাঁকানো।
আর টাইপ ৪ (৪এ, ৪বি, ৪সি) মানে খুব বেশি আঁকাবাঁকা বা কুঁচকানো চুল, আফ্রিকান বংশোদ্ভূতদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
তিনি বলেন, “যদি চুল টাইট কার্লযুক্ত হয়, তাহলে কেবল একটি রাউন্ডেড কাট বা গোল কাট হলেই চলে। আর যদি চুল ঢেউযুক্ত হয়, তাহলে প্রয়োজন হবে স্তরযুক্ত ও সূক্ষ্মভাবে গোলাকার কাট।”
চুল কাটার পর, পরবর্তী ধাপ হল সঠিক পণ্য ব্যবহার এবং রুটিন অনুসরণ করা।
প্রথমেই গোসলের পর মাইক্রোফাইবার তোয়ালে দিয়ে চুল মুছে আধা শুকনা করা। তারপর ‘লিভ-ইন কন্ডিশনার’ ব্যবহার করা এবং মাঝে মাঝে জেল ব্যবহার করা।
এছাড়া রাতে সিল্ক বোনেট (সিল্ক বা স্যাটিন কাপড়ের তৈরি হেড-কভার বা টুপি) ব্যবহার না করা বরং সকালে ঘুম থেকে উঠে চুল হালকাভাবে ঝাঁকিয়ে নিতে হবে। তাতেই ফিরে আসে ক্লাউড কার্লস-এর প্রাণ।
এই স্টাইল বেছে নেওয়ার কারণ
চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক: গরমে হিট স্টাইলিং না করেই প্রাকৃতিকভাবে চুল শুকিয়ে নিলে তাপের ক্ষতি এড়ানো যায়।
ব্রিজেট ক্যাম্পবেল বলেন, “চুলে প্রতিদিন হিট না দিলে তা অনেক ঘন ও স্বাস্থ্যবান লাগে।”
কম পণ্যে বেশি ফল: চুলকে নিজের মতো থাকতে দিলে অতিরিক্ত জেল, ‘মুস’ বা হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করতে হয় না। এতে চুলের ওজন বাড়ে না, মাথার ত্বকও বাঁচে অতিরিক্ত রাসায়নিক জমা থেকে।”
আত্মবিশ্বাস বাড়ে: নিজের প্রকৃতি ও সৌন্দর্যকে মেনে নেওয়া আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
ক্যাম্পবেল বলেন, “প্রতিদিন নিজেকে বদলানোর চেষ্টা না করে যেমন আছি, তেমনটাই ভালোবাসার মধ্যে এক আলাদা শক্তি আছে।”
আরও পড়ুন
কোঁকড়া চুলের জন্য প্রয়োজনীয় তিনটি সামগ্রী