Published : 18 May 2025, 11:50 AM
গরমের সাজ মানেই হালকা পোশাক, উজ্জ্বল রং আর সঙ্গে একটু ভিন্নভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার চেষ্টা। আর এই গরমে সেই চেষ্টা আরও রঙিন করে তুলতে পারে নতুন একটি ‘স্টাইল ট্রেন্ড’। যা হল চুলের গয়না।
এটা আসলে কোনো নতুন ধারণা নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ের ‘ম্যাক্সিমালিজম’ (অতিরঞ্জন বা প্রাচুর্যপ্রীতি)
এবং ‘সেলফ-এক্সপ্রেইশন’য়ের (নিজেকে প্রকাশ করার উপায়) যুগে এটি নতুনভাবে জায়গা করে নিয়েছে।
নিউ ইয়র্ক সিটি ভিত্তিক কেশসজ্জাকর স্টেফানি অ্যাঞ্জেলোন রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “চুলের গয়না এখন আর শুধু ফ্যাশনের অংশ নয়, এটা এখন পরিধানের সামগ্রিক ‘লুক’, ‘ভাইব’ এবং ‘ইমেজ’য়ের অংশ হয়ে উঠেছে। এটি আরও বেশি সচেতনভাবে বেছে নেওয়া, স্থাপত্যনির্ভর এবং এক্সপ্রেসিভ বা অভিব্যক্তিপূর্ণ।”
চুলের গয়না কী?
চুলের গয়না বলতে বোঝায় এমন কিছু অনুষঙ্গ যা সরাসরি চুলে পরে থাকা হয়। যেমন- ধাতব ক্লিপ, মুক্তা বা স্ফটিকের চেইন, ঝুলন্ত চার্ম বা হেয়ার নেকলেস। এগুলো কিন্তু হেয়ারব্যান্ড বা সাধারণ ক্লিপের মতো নয়।
নিউ ইয়র্ক সিটি ভিত্তিক আরেক কেশসজ্জাকর এডি এম. প্যারার মতে, “চুলের গয়না সাধারণত অনেক বেশি নকশায় সমৃদ্ধ এবং সূক্ষ্ম কারুকাজে তৈরি হয়, যা প্রতিটি টুকরাকে করে তোলে অনন্য। ছোটো ক্রাউন, সোনালি বা রূপালি ধাতব অলংকার, কিংবা মুক্তা ঝুলিয়ে দেওয়া গয়নার মাধ্যমে সাজে আনা যায় এক রাজকীয় ছোঁয়া।”
চুলের গয়নার বর্তমান ধারা
২০২৫ সালের গ্রীষ্মে এই গয়না যেমন শহরের রাস্তায় দেখা যাচ্ছে, তেমনই জায়গা করে নিয়েছে রেড কার্পেটেও। মেট গালা ২০২৫ -এ বেশ কয়েকজন তারকাই এই ট্রেন্ডে মেতেছিলেন। যেমন- চুলের বেণিতে জড়ানো রিং, ঝুলন্ত চার্ম, কিংবা মুক্তোর হার যেন চুলের মাঝখানেই বাঁধা পড়েছে।
যেভাবে পরা যায়
নানানভাবেই কেশ সজ্জায় এই ধরনের গয়না বেছে নেওয়া যায়। যেমন-
উপলক্ষ্য অনুযায়ী বেছে নেওয়া: প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য হালকা মুক্তার ক্লিপ বা সূক্ষ্ম ধাতব চুলের পিন নেওয়া যেতে পারে। কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে বেশি নকশাদার কিছু বেছে নেওয়া যায়। যেমন- অলঙ্কৃত চুলের নেকলেস বা ঝুলন্ত চার্ম।
আলাদা করে চিন্তা: স্টেফানি অ্যাঞ্জেলোন বলেন, “নেকলেসকে খোঁপার চারপাশে পেঁচিয়ে দেওয়া বা সাগরের ঝিনুক ‘এক্সটেনশন’ (বাড়তি) চুলে গাঁথা— এ ধরনের অপ্রচলিত স্টাইল গ্রহণ করতে ভয় পাবেন না।”
এগুলো ‘বোহেমিয়ান’ বা ‘বিচ স্টাইল’ সাজে খুব জনপ্রিয়।
চুলের ধরন বুঝে নিন: চুল পাতলা হলে হালকা ওজনের গয়না ব্যবহার করতে হবে। ভারী হলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার ঘন বা কোঁকড়া চুলে ভারী এবং ‘স্ট্রাকচার্ড’ (নির্দিষ্ট কাঠামো বা আকৃতি সম্পন্ন) গয়না ভালোভাবে ফুটে ওঠে।
পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য: যেহেতু চুলের গয়না আসলে পুরো সাজের অংশ, তাই সেটা বেছে নিতে হবে পোশাক বুঝে। যদি পোশাকেই অনেক রং বা অলংকার থাকে, তাহলে চুলে একটু হালকা কিছু পরতে হবে।
আবার সাধারণ পোশাকে থাকলে একটি বড়সড় চুলের গয়নাই হতে পারে সাজের উজ্জ্বল দিক।
কোন উপকরণে তৈরি হচ্ছে এই গয়না?
বর্তমানে চুলের গয়নায় ব্যবহৃত হচ্ছে নানান উপকরণ— ক্রিস্টাল, মুক্তা, ধাতু, জরি, পাথর ইত্যাদি।
এই উপকরণগুলো কেবল সৌন্দর্যই বাড়ায় না বরং ফ্যাশনের মাধ্যমে নিজের রুচি ও ব্যতিক্রমী পরিচয় তুলে ধরার সুযোগ দেয়।
আরও পড়ুন
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে কেশ পরিচর্যার সরল কৌশল