২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

চুলের জন্য সেরা রং নির্বাচনের পন্থা

রং তত্ত্ব অনুসরণে কেশ রাঙান আকর্ষণীয় সাজে।

চুলের জন্য সেরা রং নির্বাচনের পন্থা
ছবি: রয়টার্স।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 May 2025, 05:10 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:41 PM

চুলে রং করার চিন্তা অনেকেই করেন। তবে নিজের ত্বক বা চোখের সঙ্গে মানানসই রং বাছাই করা যেন একটা ধাঁধার মতো।

তবে ‘কালার থিওরি’ বা রং তত্ত্ব অনুসরণ করলে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হতে পারে।

মেইকআপ, পোশাক বা ইন্টেরিয়র ডিজাইনের মতো চুলের রং নির্বাচনেও এই তত্ত্ব দারুণভাবে কাজ করে।

কালার থিওরি’ বলতে যা বোঝায়

এটা হল রং চক্রের ভিত্তিতে তৈরি ধারণা। যেখানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় স্তরের রংগুলো একসঙ্গে চিত্রায়িত থাকে।

এই চক্রের বিপরীত রং যেমন- কমলা ও নীল একে অপরের সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে তেমনি কাছাকাছি রংগুলো যেমন সবুজ ও নীল, কোমল ও পরিপূরক মিশেল গঠন করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘অভেদা টেকনিক্যাল এডুকেশন’য়ের প্রায়োগিক শিক্ষা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক জানেল গিসন রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “একজন দক্ষ কেশ রাঙানোর কারিগরের কাজের ভিত্তি হল ‘কালার থিওরি’। এটা বুঝতে সাহায্য করে কীভাবে উষ্ণ ও শীতল রং একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়, কোন রং কোন বৈশিষ্ট্যকে হাইলাইট বা উজ্জ্বল করে।”

আপনি কোন ঋতুর মানুষ?

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি ও সারাসোটা শহরের পেশাদার হেয়ার কালারিস্ট ব্রায়ানা মার্টিন বলেন, “সিজনাল কালার অ্যানালাইসিস হল- এমন একটি পদ্ধতি যেখানে ব্যক্তির ত্বকের আন্ডারটোন, চোখের রং ও প্রাকৃতিক চুলের রং বিশ্লেষণ করে চারটি মৌসুম— বসন্ত, গ্রীষ্ম, শর ও শীতের মধ্যে ফেলা হয়।”

প্রতিটি মৌসুম নির্দিষ্ট ধরনের আন্ডারটোন ও রংয়ের তীব্রতার সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন- বসন্ত ধরনের মানুষদের ত্বকের টোন উষ্ণ ও উজ্জ্বল হয়। তাই তাদের জন্য হালকা সোনালি, ‘হানি ব্লন্ড’ বা ‘স্ট্রবেরি ব্লন্ড’ ভালো কাজ করে।

আবার শীত ঋতু ধরনের মানুষের জন্য ‘অ্যাশি ব্লন্ড’ বা ‘কুল ব্রাউন’ আদর্শ।

কীভাবে ঠিক করবেন ত্বকের ‘আন্ডারটোন’?

‘কালার থিওরি’ অনুসারে চুলের রং বেছে নিতে প্রথমেই বুঝতে হবে নিজের ত্বকের টোন বা রংয়ের ধরন উষ্ণ, শীতল না-কি ‘নিউট্রাল’ বা নিরপেক্ষ।

এজন্য হাতের রগ দেখে অনেকটা ধারণা নেওয়া যায়।

যদি রগগুলো নীলচে হয় তবে শীতল টোন, সবুজাভ হলে উষ্ম টোন। আর যদি দুই ধরনেরই রং থাকে তবে নিরপেক্ষ।

এছাড়া গয়না পরার সময় কোন ধাতুর গয়নায় ভালো দেখা যায়, সেটাও দারুণ ধারণা দেয়।

ব্রায়ানা মার্টিন বলেন, “যাদের ওপর ‘সিলভা’ বা রুপালি ভালো মানায়, তারা সাধারণত শীতল টোনের; আর গোল্ড বা সোনালী যাদের মানায়, তারা উষ্ণ টোনের।”

চুল ও চোখের রংয়ের প্রভাব

কেশ রাঙাতে চুল ও চোখের প্রাকৃতিক রংও গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্টুডিও লিনিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা ও স্টাইলিস্ট এলেনাহ কেনিয়ন বলেন, “প্রাকৃতিক রং ও গভীরতা দেখে বুঝতে পারি কোন শেইডগুলো বেশি মানাবে বা বৈপরীত্য তৈরি করবে।”

যেমন- নীল বা সবুজ চোখের জন্য সোনালি বা ‘হানি’ টোনের চুল চোখের রংকে হাইলাইট করে।

আবার বাদামি বা ‘হ্যাজেল’ চোখের জন্য ‘অ্যাশি’ বা ‘কুল ব্রাউন শেইড’ চোখকে করে আরও গভীর ও আকর্ষণীয়।

হতে হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কঠোর নিয়ম নয়

চুলের রং বাছাই করার ক্ষেত্রে ‘কালার থিওরি’ গাইড হিসেবে কাজ করলেও, সবসময় কঠোর ভাবে সেটাই অনুসরণ করতে হবে, এমন নয়। বরং এক্ষেত্রে সামঞ্জস্য রাখা ও ব্যক্তিগতভাবে মানানসই পন্থা বেছে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এলেনাহ কেনিয়ন বলেন, “উষ্ণ ত্বকের টোনের কেউ চাইলে ‘অ্যাশ ব্লন্ড’ করতে পারেন। তবে তাতে সামান্য উষ্ণতা যোগ করতে হবে যাতে মুখ মলিন না দেখায়।”

আবার, শীতল টোনের কেউ চাইলে হালকা ‘গোল্ডেন বেইজ’ নিতে পারেন যাতে একেবারে গাঢ় ‘কপার’ বা তামাটে না হয়ে যায়।

রংয়ের সঙ্গে সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ

শুধু মানানসই রংয়ের কথা চিন্তা করলেই হবে না, ভাবতে হবে সেই রং ধরে রাখা সম্ভব হবে কি-না।

কারণ কিছু রং, যেমন- ‘অ্যাশ ব্লন্ড’ বা বেগুনি টোনের জন্য ঘন ঘন ‘টোনিং সেশন’য়ের প্রয়োজন পড়ে।

অন্যদিকে, হালকা বাদামি বা চকোলেট রং তুলনামূলক কম রক্ষণাবেক্ষণ করলেই হয়।

আরও পড়ুন

চুলের প্রান্তভাগ সুন্দর রাখার উপায়

কেশ রাঙান নিজের তৈরি রংয়ে

চুলের রং দীর্ঘস্থায়ী করতে

চুল রাঙাতে মেহেদি নাকি ডাই!