Published : 29 Jun 2025, 01:28 PM
গরমের দিনে ঘামে চিটচিটে হয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই চুল ছেড়ে রাখার সাহস করেন না। তবে এই আবহাওয়াতে চুলের সাজ হিসেবে যদি এমন কিছু পাওয়া যায় যা দেখতে একদিকে স্টাইলিশ, আবার অন্যদিকে হালকা ও প্রাকৃতিক— তাহলে কেমন হয়?
যুক্তরাষ্ট্রের সৌন্দর্য উদ্যোক্তা কাইলি জেনার ঠিক এমন এক কেশ কৌশলকে চলতি ধারায় পরিণত করেছেন, যেটাকে বলা হচ্ছে গরমে যথাযথ চুলের ছাঁট ‘বিচ ওয়েভস’।
এই স্টাইলটি অনুপ্রাণিত হয়েছে প্রকৃতির স্পর্শ থেকে। তবে পেছনে রয়েছে কিছু সূক্ষ্ম কৌশল। যেগুলো অনুসরণ করলে ঘরেই সম্ভব চুলের ঢেউ তৈরি করা।
যেভাবে তৈরি করা যাবে বিচ ওয়েভস
এই স্টাইল করতে প্রথমেই ব্যবহার করতে হবে এমন একটি ‘হিট’ বা তাপ প্রতিরোধক স্প্রে যা হালকা, আর্দ্রতা প্রতিরোধী এবং চুল ভারী না করে ধরে রাখতে সহায়তা করে।
এরপর শুরু হয় চুল ফোলানো। ‘রাউন্ড ব্রাশ’ দিয়ে চুল উঁচু করে শুকাতে হবে যেন চুলের গোড়ায় ভলিউম বা ঘনত্ব তৈরি হয়। চুলে অতিরিক্ত ‘ভলিউম’ আনতে ‘এক্সটেনশন ক্লিপ’ লাগানো যেতে পারে।
চুল শুকানোর পর শুরু হয় ‘কার্লিং’। প্রথমে নিচের স্তরের চুল ১.৫০ ইঞ্চি ‘কার্লিং রড’ দিয়ে মুখের দিকে ঘুরিয়ে ‘কার্ল’ করতে হবে।
এরপর ওপরের স্তরের চুলের জন্য ব্যবহার করতে হবে ১.২৫ ইঞ্চি ব্যারেল, যাতে ঢেউগুলো হয় তুলনামূলকভাবে ঢিলে এবং স্বাভাবিক।
নিউইয়র্কের জেনা পেরি হেয়ার সেলুনের জ্যেষ্ঠ কেশসজ্জাকর গিয়োম বুচার রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পরামর্শ দিয়েছেন, “ঢেউকে আরও প্রাকৃতিক রাখতে চুলের এক ইঞ্চি অংশ ব্যারেলের বাইরে রাখুন যাতে শেষ প্রান্ত থাকে সোজা। এতে ঢেউ হবে ‘বাউন্সি’ ও আধুনিক।”
সামনের চুল কার্ল বা ঢেউ খেলাতে গেলে ‘রড’ ব্যবহার না করে স্ট্রেইটনার ব্যবহার করতে বলেন- কাইলি জেনারের কেশসজ্জাকর শেরিলিন ফ্যারিস।
“অনেকেই পার্ট লাইনের আশপাশে ভলিউম আনতে পারেন না কারণ তারা কার্লার ব্যবহার করেন। স্ট্রেইটনার ব্যবহার করলে নিয়ন্ত্রণ বাড়ে,” বলেন তিনি।
স্ট্রেইটনার দিয়ে সামনের চুল ধীরে ধীরে নিচে নামিয়ে ‘টেক্সচার’ তৈরি করুন, কিন্তু ‘ভলিউম’ বজায় রাখুন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা মনে রাখা দরকার
এই ‘হেয়ার স্টাইল’ করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল— একঘেয়েমি এড়িয়ে চলা। মানে সব চুল একই রকমভাবে ‘কার্ল’ বা ঢেউ না খেলিয়ে বিভিন্ন দিক থেকে ঘুরিয়ে, ভিন্ন ভিন্ন মোটা পাতলা ভাগ করে ‘কার্ল’ করতে হবে।
কখনও ‘ক্ল্যাম্প’ ছাড়াও ‘কার্ল’ করলে চুলে আসবে সেই ক্লাসিক ‘ফ্লিপি ব্লোআউট লুক’।
“আমার মতে, সবচেয়ে ভালো বিচ ওয়েভস হল যেগুলো অসমান ও প্রাকৃতিক দেখায়”- বলেন শেরিলিন ফ্যারিস।
তিনি বলেন, “বিভিন্ন দিক থেকে চুল ‘কার্ল’ করুন, কখনও ‘কার্লিং আয়রন’, কখনও স্ট্রেইটনার ব্যবহার করে ঢেউয়ে বৈচিত্র্য আনুন।”
যারা এখনও কাইলির মতো এই স্টাইল ঠিক মতো আয়ত্ত করতে পারছেন না, তাদের জন্য ফ্যারিসের পরামর্শ হ, “তিন ব্যারেলের ওয়েভার ব্যবহার করুন। এটি একটি সহজ বিকল্প, যেখানে একাধিক ধাপ নয়, একটি মাত্র যন্ত্র দিয়েই কাজ শেষ করা যায়। ‘ওয়েভার’ ব্যবহার করার সময় পাশে পাশে সেকশনের ওপর ভিন্ন ভিন্ন কোণে ঘোরান, যাতে ঢেউ হয় বিশৃঙ্খল ও স্বাভাবিক।”
কাইলি জেনার’য়ের ‘বিচ ওয়েভস হেয়ারস্টাইল’ শুধু নজরকাড়া নয়, বরং ঘরেই তৈরি করা সম্ভব সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে।
হালকা ঢেউ, অসামঞ্জস্য হালকা কোঁকড়ানো আর নিখুঁত গঠনের সমন্বয়ে এই কেশসজ্জা পরিণত হয়েছে গ্রীষ্মের স্টাইলে।
আরও পড়ুন