Published : 12 Jul 2026, 03:52 PM
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে নরওয়ের বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ হলেও, দলকে নিয়ে গর্বের যেন শেষ নেই স্তলে সুরবাকেনের। আর্লিং হলান্ড ও মার্টিন ওদেগোরদের সৌজন্যে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটি নিজেদের পারফরম্যান্সে শুধু দেশ নয়, মুগ্ধ করেছে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদেরও। বিদায়ের ক্ষণে আবেগাপ্লুত নরওয়ে কোচ জানিয়েছেন, সমর্থকদের প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে পেরে তিনি ভীষণ খুশি ও তৃপ্ত।
কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে নরওয়ে। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে থেমেছে বিশ্বকাপে তাদের রূপকথার যাত্রা।
ম্যাচে প্রথমার্ধে আন্দ্রেয়াস শেলদেরিপকের গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। পরে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ও অতিরিক্ত সময়ে একটি করে গোল করে তাদের হৃদয় ভেঙে দেন জুড বেলিংহ্যাম।
আগে কখনোই নকআউট পর্বে কোনো জয় না পাওয়া নরওয়ে এবার দারুণ সব পারফরম্যান্সে চমকে দেয় সবাইকে। ইরাক ও সেনেগালকে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে ওঠে তারা। শেষ বত্রিশে হারায় আইভরি কোস্টকে। ইউরোপের দলটি শেষ ষোলো থেকে বিদায় করে দেয় রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর সুরবাকেন দলের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
“আমরা উঁচুমানের ফুটবল খেলছিলাম, ব্যবধানটা আমাদের পক্ষে ছিল না, তবে জীবন এমনই এবং এখন আমাদের একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে হবে।
“এটাই বাস্তবতা। এটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল, এর চেয়ে বড় মঞ্চ আর নেই। ম্যাচের শুরুতে, বিশেষ করে প্রথম ২০ মিনিটে আমাদের কিছু সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু ছেলেদের আমি সত্যিই সাধুবাদ জানাই।”
নরওয়ের বিশ্বকাপ অভিযানে গোটা দেশে ফুটবল উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে। দেশের লাল জার্সির মজুত শেষ হয়ে যায়, আর হাজারো সমর্থক স্টেডিয়াম, রাস্তা ও জনসমাগমস্থলে ভিড় জমিয়ে হলান্ডদের ম্যাচ উপভোগ করেন।
শেষ পর্যন্ত সবার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করছেন সুরবাকেন। দলের এই ঐতিহাসিক অভিযানের সঙ্গী হতে পেরে গর্বের অন্ত নেই তার।
“আশা করি, সবার জন্যই ২০২৬ সালের গ্রীষ্মটা দারুণ কেটেছে। এবং আমরা একসঙ্গে ভালো কিছু করতে পেরেছি। পুরো নরওয়ে থেকে দুর্দান্ত সমর্থন পেয়েছি, এবং আমরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছি, যা নিয়ে আমি সত্যিই গর্বিত।
“চমৎকার বাছাই পর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার পর বলেছিলাম, আমরা আরও ভালো করব। আর আমরা সেটা করতে পেরেছি, ছেলেরা সেটা পেরেছে। গত সাড়ে ছয় সপ্তাহ আমরা একসঙ্গে ছিলাম। আমার মনে হয় না, এই সময়ের মধ্যে এক মুহূর্তের জন্যও কেউ বিরক্ত হয়েছে। এটা জেনে ভালো লাগছে।”