টেকনাফের পাহাড় থেকে পড়ে যাওয়া হাতিটি মারা গেছে
টানা বর্ষণের মধ্যে শনিবার টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যাংপাড়া সংলগ্ন পাহাড়ের প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় হাতিটি।
কক্সবাজারের টেকনাফ উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত মা হাতিটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রাণিটি মারা যায় বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ।
এর আগে টানা বর্ষণের মধ্যে শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়ার সংলগ্ন পাহাড়ের প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় হাতিটি।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, “শনিবার দুপুরে হঠাৎ বিকট শব্দের পর হাতির চিৎকার শুনে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি একটি হাতি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
“মা হাতিটির পেট থেকে রক্ত ঝরছিল, যন্ত্রণায় বারবার চিৎকার করছিল। দুটি পা ভেঙে গেছে বলেও মনে হচ্ছিল। পরে বন বিভাগের লোকজন এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো গেল না।”
এই পাহাড়ে এশিয়ান জাতের অন্তত ২৩টি হাতির বিচরণ রয়েছে বলে জানান তিনি।
রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, “খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এরপর টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকদের সহায়তায় হাতিটির চিকিৎসা শুরু করা হয়।
“দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় হাতিটিকে অন্যত্র স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে পৌনে ১০টার দিকে হাতিটি মারা যায়।”
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘চিকিৎসক দল ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
বন বিভাগ জানিয়েছে, চলমান ভারী বর্ষণে পাহাড়ি বনাঞ্চলের ঢাল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় হাতিসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।
আগের সংবাদ
