Published : 20 Jun 2026, 03:07 AM
উদ্বোধনী আসরে প্রথম দুই ম্যাচে জয়, তারপর থেকে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের টানা জয় আর ধরা দিচ্ছিল না কিছুতেই। অবশেষে ঘরের মাঠে ফুরাল দীর্ঘ অপেক্ষা। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নকআউট পর্বে উঠল মাওরিসিও পচেত্তিনোর দল।
সিয়াটলে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের জয় ২-০ গোলে। প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর, ব্যবধান বাড়ান অ্যালেক্স ফ্রিম্যান।
দুই ম্যাচে শতভাগ সাফল্যে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। সমান ম্যাচে প্রথম হারের স্বাদ পাওয়া অস্ট্রেলিয়া ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে। প্রথম রাউন্ডে হারা তুরস্ক ও প্যারাগুয়ে দিনের পরের দিকে মুখোমুখি হবে।
১৯৩০ সালে উদ্বোধনী আসরের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচ জিততে পারল যুক্তরাষ্ট্র। প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে চলতি আসর শুরু করে তারা।
চোটের কারণে তারকা উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ান পুলিসিককে এই ম্যাচে তারা পায়নি। সেই অভাব ঝুঝতে দেননি অন্যরা। ৬২ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১০টি শট নিয়ে দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ শটের দুটি লক্ষ্যে ছিল।
ভাগ্যের ছোঁয়ায় একাদশ মিনিটে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে দলটির ফরোয়ার্ড ফোলারান বালোগানের পাস ছয় গজ বক্সে ক্লিয়ারের চেষ্টায় নিজেদের জালে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্জেস।
এবারের বিশ্বকাপে এরই মধ্যে আত্মঘাতী গোল হলো সাতটি। এর চেয়ে বেশি আত্মঘাতী গোল হয়েছে কেবল ২০১৮ আসরে (১২টি)।
বল দখলে রেখে আক্রমণ করে যায় যুক্তরাষ্ট্র, যদিও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না খুব একটা।
৪৩তম মিনিটে ঘটনাবহুল এক গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে যুক্তরাষ্ট্র। সতীর্থের ফ্রি-কিক বক্সের বাইরে পেয়ে শট নেন সের্জিনো দেস্ত। অস্ট্রেলিয়ার এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে বল উঠে যায় ওপরে। ছুটে গিয়ে হেডে কাছ থেকে জালে পাঠান অ্যালেক্স ফ্রিম্যান।
শুরুতে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। দ্রুতই থেমে যায় যুক্তরাষ্ট্রের উদযাপন। লম্বা সময় নিয়ে ভিএআরের সাহায্যে যখন গোলের সিদ্ধান্ত জানান রেফারি, বাঁধভাঙা উদযাপনে মেতে ওঠে স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ হারান বালোগান। মাঝমাঠ থেকে বলে ধরে এগিয়ে যান তিনি। কিন্তু শট নিতে দেরি করে ফেলেন, তার প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন এক ডিফেন্ডার।
৬২তম মিনিটে ভালো সুযোগ পায় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে উড়িয়ে মারেন ক্রিস্টিয়ান ভলপাটো। একটু পর বক্সের বাইরে থেকে দুর্বল শট করেন কনর মেটকাল্ফ।
বাকি সময়েও সুযোগ আসে দুই দলের সামনে, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি কেউ।
যোগ করা সময়ে বিরল এক দৃশ্যের দেখা মেলে মাঠে। ক্র্যাম্পে আক্রান্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যান রেফারি। তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন লাইন্সম্যান, দুই দলের খেলোয়াড়ও। পানীয় নিয়ে ছুটে আসেন চতুর্থ রেফারি।
একটু পর উঠে দাঁড়িয়ে খেলা শেষ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের উদযাপন শুরু হয়ে যায় তার আগে থেকেই।