Published : 19 Jun 2026, 10:59 PM
এখনো যুদ্ধের বারুদ আর ধোঁয়া পুরোপুরি থিতু হয়নি। ১৪ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরের মাধ্যমে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এই সমঝোতার প্রধান দৃশ্যমান উদ্দেশ্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং একটি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা। সিএনএন জানাচ্ছে, ১৪ দফা পরিকল্পনার লিখিত ভাষ্য গুটিয়ে আনা হয়েছে ৮০০ শব্দেরও কমে। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো স্পর্শকাতর দীর্ঘমেয়াদি বিষয়গুলোর কোনো স্পষ্ট উত্তর এখানে মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলো পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত বর্ণনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববাসীর জন্য স্বস্তির বিষয় এই যে, দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার আপাত অবসান ঘটিয়ে একটি চুক্তি হয়েছে। ইরান একটি সম্মানজনক ও স্থায়ী চুক্তির পক্ষে ছিল। দীর্ঘ ১৫ সপ্তাহের বিধ্বংসী যুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকার কারণে ইরানের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, তাই যুদ্ধ থামানো ইরানের জন্যও জরুরি ছিল। তথাপি ,তারা যুক্তরাষ্ট্রের শর্তের সামনে মাথা নত না করে একটি সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করেই চুক্তিতে সই করেছে।
বিশ্বের সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হলেও রণকৌশলের দিক থেকে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি নয়। খোদ ইরানের নীতিনির্ধারকদের কাছেই এই চুক্তি মানে লড়াইয়ের শেষ নয়, বিজ্ঞজনরা একে দেখছেন প্রথমার্ধের বিরতি হিসেবে। খেলার চূড়ান্ত বাঁশি এখনো বাজেনি। যুদ্ধ যখন আসলেই শেষ হয়নি, যখন কেবলই একটা সাময়িক বিরতি, তবু কেন সমঝোতায় রাজি হলো ইরান—সেটিই মূল প্রতিপাদ্য। এর উত্তর লুকিয়ে আছে তেহরানের দীর্ঘমেয়াদি মনস্তত্ত্ব, রণক্ষেত্রের অর্জন ধরে রাখার কৌশল এবং কূটনৈতিক দরকষাকষির গভীর হিসেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারকে ইরানের রাজি হওয়ার নেপথ্য কারণ বুঝতে হলে প্রথমে জানা দরকার ইরানি নেতৃত্ব এই সংঘাতকে কীভাবে মূল্যায়ন করছে। তেহরানের নীতিনির্ধারকদের কাছে এই সংঘাত কেবল হঠাৎ শুরু হওয়া কোনো সামরিক হামলা ছিল না। তেহরান একে দেখছে তাদের ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা, গোপন অভিযান, গুপ্তহত্যা, অর্থনৈতিক চাপ এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিকে দুর্বল ও শেষ পর্যন্ত উৎখাত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত রূপ হিসেবে। এমনকি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভগুলোকেও তেহরান তাদের বিরুদ্ধে চালানো এই বৃহত্তর যুদ্ধেরই অংশ মনে করে। এই বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গিই যুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মূল্যায়নে ইরানের নীতিনির্ধারকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে শর্তহীন আত্মসমর্পণ দাবি করেছিলেন এবং প্রতিপক্ষ শক্তিগুলো প্রকাশ্যে ইরানের রেজিম পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিল। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা, পশ্চিম এশিয়ার দেশটির আঞ্চলিক প্রভাব গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির পতন নিশ্চিত করা—এগুলোই ছিল প্রতিপক্ষের ঘোষিত লক্ষ্য। কিন্তু এর কোনো লক্ষ্যই পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। অবশ্য ইরানও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। ১৫ সপ্তাহের বিধ্বংসী যুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকার কারণে ইরানের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। দেশটিতে শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমান্ডারদের পাশাপাশি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হারাতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রটি টিকে গেছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য প্রক্সি যুদ্ধক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে, অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও রাজনৈতিক সংহতি ভেঙে পড়েনি এবং তারা প্রতিপক্ষকে সামরিক, অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের চড়া মূল্য দিতে বাধ্য করতে পেরেছে। এই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই তেহরান সমঝোতা স্মারকের টেবিলে বসেছিল। ইরানের নেতাদের কাছে এই চুক্তি হলো রণক্ষেত্রের অর্জনগুলোকে সুসংহত করা এবং প্রতিরোধের মাধ্যমে তারা যে ফলাফল অর্জন করেছে বলে বিশ্বাস করে, তা ধরে রাখার একটি প্রয়াস। তারা কোনো শর্তহীন আত্মসমর্পণ করেনি।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে ইরানি কর্মকর্তারা একটি সহজ কিন্তু মূল শিক্ষা পেয়েছেন, তা হলো ভবিষ্যতের কোনো আশ্বাসের বিনিময়ে বর্তমানে নিজের হাতের নিশ্চিত সুবিধা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। মার্কিন কট্টরপন্থীরা যেভাবে ইরানের বিরুদ্ধে শূন্য বিশ্বাস এবং কঠোর যাচাইকরণ নীতি খাটায়, তেহরানের বর্তমান নীতিও ঠিক তাই। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে থাকা অবস্থাতেই ইরান দুই দুইবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার শিকার হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি বাস্তবায়নে ইরান বছরের পর বছর আলোচনা চালিয়ে গেছে, পরে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে তা থেকে বেরিয়ে যায়। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই এবার ইরান শর্ত পূরণের ধারাবাহিকতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। তেহরান চায় সবার আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল বিক্রির ছাড়, আটকে থাকা তহবিল ফেরত পাওয়ার মতো দৃশ্যমান পদক্ষেপগুলো কার্যকর করা হোক। এরপরই কেবল তারা পারমাণবিক কর্মসূচির মতো দীর্ঘমেয়াদি ও সহজে পরিবর্তন করা যায় না—এমন সংবেদনশীল বিষয়ে বড় ধরনের আলোচনায় যাবে। এই কারণেই সমঝোতার খসড়ায় সংক্ষেপে যে বিষয়গুলো রাখা হয়েছে, তাতে মূলত লেবাননসহ পশ্চিম এশিয়ার সব প্রান্তে দ্রুত পাকাপাকিভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা, দুই দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানো এবং চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে উভয় পক্ষ ৬০ দিন ধরে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল প্রক্রিয়া শুরু করা, ৩০ দিনের মধ্যে অবরোধ তুলে নেওয়া এবং চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে তেল ও জ্বালানি সামগ্রী বিক্রি করার ছাড় দেওয়া, ধাপে ধাপে বাজেয়াপ্ত সম্পদের একাংশ ফিরিয়ে দেওয়া এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের প্রকল্প গ্রহণের মতো বিষয়গুলো সংক্ষেপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা কার্যকর করতে ইরানকে আপাতত তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মান কমাতে হবে এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে।
বর্তমানে ইরানের ভেতরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, তাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের ভেতরের মূল বিভেদটা কূটনীতির পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। এমনকি যারা এই সমঝোতা স্মারকের তীব্র সমালোচনা করছেন, তারাও আলোচনাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছেন না। বিতর্ক তৈরি হয়েছে এই যুদ্ধ থেকে ইরানের আসলে কী শিক্ষা নেওয়া উচিত, তা নিয়ে। ইরানের নিরাপত্তা-ঘেঁষা সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের বড় অংশের দাবি, এই যুদ্ধ ইরানের শক্তি সম্পর্কে আঞ্চলিক ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। তাদের মতে, এই যুদ্ধের আগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ধরে নিয়েছিল যে ইরান সবসময় সাবধানে পা ফেলবে এবং সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে কৌশলগত ধৈর্য দেখাবে। তাদের এই ধারণার কারণেই ইরানকে অনেকে দুর্বল ভাবত। কিন্তু এই যুদ্ধ সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছে। ইরান যে প্রতিপক্ষকে বড় রকমের জবাব দিতে প্রস্তুত এবং সেই সক্ষমতা তাদের আছে—তা তারা প্রমাণ করেছে। চুক্তির সমালোচকদের মূল ভয় কূটনীতি নিয়ে নয়; তাদের ভয় হলো যেই পদ্ধতিতে আলোচনা চালানো হচ্ছে, তা যদি যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ইরানের দরকষাকষির ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। তাদের বক্তব্য হলো এমনভাবে আলোচনা না করা যা ইরানকে দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করে এবং প্রতিপক্ষকে আরও চাপ দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। ঠিক এই কারণেই লেবানন ইস্যুটি এখন ইরানের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানি কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ হওয়াটা এই সমঝোতার কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ নয়, এটি চুক্তির অন্যতম মূল ভিত্তি। তেহরানের কাছে লেবানন এখন একটি বড় পরীক্ষা—ওয়াশিংটন আলোচনার টেবিলে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আসলেই রক্ষা করতে পারে কি না, তা দেখার পরীক্ষা।
যেদিন এই সমঝোতা স্মারক সই হচ্ছিল, ঠিক সেদিনই বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা এক নতুন সংশয় তৈরি করেছে। অনেক ইরানি বিশ্লেষক এই হামলাকে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে ইরান কি আবার তার পুরনো ধৈর্য ধরার নীতিতে ফিরে যাবে, নাকি কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রতিরোধও সমানতালে চালিয়ে যাবে। ইসরায়েল যদি আলোচনা চলাকালীনও লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারে, তবে চুক্তির অন্যান্য শর্তগুলো যে তারা ভবিষ্যতে মেনে চলবে তার নিশ্চয়তা কোথায়, এই জিজ্ঞাসাগুলোই এখন ইরানের অভ্যন্তরীণ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তা সত্ত্বেও ইরান এই সমঝোতা চুক্তি মেনে নিয়েছে কারণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে যে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল, তার একটি সাময়িক উপশম দরকার ছিল। প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকেও খাদের কিনারে নিয়ে গিয়েছিল। এই যুদ্ধের পরোক্ষ শিকার হয়েছিল বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোও, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার কমে ৩.৯ শতাংশে নেমে আসে এবং জ্বালানি আমদানিতে বিপুল ভর্তুকি দিতে হয়।
পরিশেষে, ইরানের নীতিনির্ধারকদের সিংহভাগের ভাবনা এমন নয় যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো স্থায়ী শান্তিতে পৌঁছে গেছেন, কিংবা এই চুক্তি আজীবন টিকে থাকবে। তারা মনে করছেন, তারা ওয়াশিংটনকে এমন একটি সাময়িক ব্যবস্থায় আসতে বাধ্য করেছেন যা তাদের যুদ্ধের অর্জনগুলোকে সুসংহত করবে, অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি দেবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য ইরানকে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে। তেহরানের কাছে এই সমঝোতা স্মারক মানেই লড়াইয়ের শেষ নয়; এটি কেবল যুদ্ধের এক ধাপের সমাপ্তি এবং আরেকটি নতুন ধাপের সূচনা। তারা খুব ভালো করেই জানে যে পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো কিংবা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর ভাগ্য নিয়ে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্নগুলোর সমাধান না হলে এই শান্তি স্থায়ী হবে না। উপসাগরীয় অঞ্চলের ইতিহাস সাক্ষী যে এখানে যুদ্ধবিরতি ও চুক্তির মধ্যে দূরত্ব অনেক সময় অনেক বড় হয়। তবু পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুটি শক্তির এক টেবিলে বসা এবং বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথকে পুনরায় মুক্ত করার সংকল্পকে ইরান একটি কৌশলগত বিরতি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। এই চুক্তির মূল চাবিকাঠি হলো পারস্পরিক ভারসাম্য রক্ষা করা এবং পরবর্তী দিনগুলোর দরকষাকষিতে নিজের অবস্থান শক্ত রাখা। যুদ্ধের ছাই থেকে কূটনীতির ভোরের এই আভাকে ইরান গ্রহণ করেছে একটি সাময়িক রণকৌশল হিসেবে, যা তাদের চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে।
শিপ্রা বিশ্বাস কবি ও কলামলেখক। ই-মেইল: [email protected]