Published : 17 Jul 2026, 04:17 PM
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে কোমরসমান পানি পাড়ি দিতে হয়েছে। সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং মানুষের সমালোচনায় সামাজিক মাধ্যম সরব হয়ে ওঠে। সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দায়সারা উত্তর এবং এ যুগের বাচ্চাদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে কটাক্ষ করে মন্ত্রীর ফাঁস হওয়া কথোপকথন—সব মিলিয়ে এই আলোচনায় নতুন জ্বালানি জোগায়। এরপর পরীক্ষা পেছানো ও অন্যান্য দাবিতে রাস্তায় নেমে শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিন ধরে যা করেছে, সেটি সত্যিই অবিশ্বাস্য।
টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তত ছয়টি জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ডুবে যায়। বহু বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে, মানুষের আয়-রোজগার থেমে গেছে এবং অন্তত ৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলার পরীক্ষা স্থগিত করেছে। জেলাগুলো হলো—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান। কিন্তু শুধু এটুকুই যথেষ্ট ছিল না; কারণ টানা বর্ষণের কারণে ঢাকা ও কুমিল্লাসহ আরও বেশ কয়েকটি জেলার নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ মাত্র।
কিন্তু এ পরিস্থিতিতে সরকার অভিভাবকসুলভ আচরণ করেনি। এইচএসসি পরীক্ষা যেকোনো শিক্ষার্থীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিঁড়ি। কোমরসমান পানি পেরিয়ে, ভিজে-নেয়ে কেন্দ্রে পৌঁছে তিন ঘণ্টা ধরে পরীক্ষা দেওয়া যায় না; এতে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে এবং বন্যার দূষিত পানি থেকে রোগজীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কাও থাকে। সরকার এসব বিষয় বিবেচনায় নেয়নি, অথচ একদিন পরীক্ষা পেছালে তেমন কোনো ক্ষতি হতো না।
উল্টো সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে শিক্ষামন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকসহ অন্যদের ওপর আবহাওয়ার ভুল পূর্বাভাসের দায় চাপিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তারাই জানিয়েছিলেন যে পরদিন আবহাওয়া ভালো থাকবে। এর মধ্যেই টেলিফোনে শিশুদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে মন্তব্য করার একটি কথোপকথন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষামন্ত্রী দেশের সব শিশুর অভিভাবক। তার মুখ থেকে এমন অপমানজনক শব্দ কীভাবে এল, সেটি সত্যিই বিস্ময়কর। উন্নত দেশের কোনো শিক্ষামন্ত্রী এর কাছাকাছি কিছু বললে তাকে পদত্যাগ করতে হতো। আমাদের শিশুরা সত্যিই হতভাগা; তাদের কাছ থেকে মাঠঘাট কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, সাইকেল চালানোর জন্য নিরাপদ রাস্তা নেই, পড়ার জন্য পাঠাগার নেই এবং আড্ডার জন্য নেই কোনো ক্লাব। নিরাপত্তাহীনতার কারণে মেয়েরা হয়ে পড়ছে ঘরবন্দী, আর সময় কাটানোর জন্য ছেলেরা ডুবে থাকছে ফোন ও গেমিংয়ে। এর সম্পূর্ণ দায় নীতিনির্ধারকদের হলেও শিশুদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে তারা নিজেদের দায় এড়িয়ে যাবেন এটা হতে পারে না।
অবশ্য মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই এহছানুল হক মিলনের নানা কর্মকাণ্ড তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিলম্বে পৌঁছানোর খেসারত দিতে গিয়ে বেড়া টপকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার অদ্ভুত বাহাদুরি থেকে শুরু করে নকল নিয়ে শিশুদের কটাক্ষ করা, গোপনে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে উঁকিঝুঁকি মারা, শিক্ষার মানের দিকে নজর না দিয়ে এখনো অবকাঠামোর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া, কথায় কথায় জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর আগ্রহ দেখানো এবং সব বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় উপাচার্য নিয়োগ—এসব নিয়ে আমরা বহুবার কথা বলেছি। কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়েছে বলে চোখে পড়ে না; তিনি যা ছিলেন, সেই কয়েক দশক পুরনো ধ্যানধারণা নিয়েই আছেন। এমতাবস্থায়, এখন তার স্বেচ্ছায় বিদায় নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারত। আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ না করলে তিনি তা করবেন না। তবে এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন করার মতো যেসব কাণ্ডকীর্তি করে রেখেছেন, সেগুলো নিয়ে শান্ত হয়ে ভাবতে পারেন, যেমন জানুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনাটা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তাহলে হয়তো তার ‘চাপমন্ত্রী’ নামটা চাপা পড়তে পারে খানিকটা, শিক্ষার্থীরাও একটু চাপ মুক্ত হতে পারে।
পরীক্ষা এগিয়ে আনার উদ্যোগ সন্দেহাতীতভাকে প্রশংসাযোগ্য। তবে আসছে, আসন্ন জানুয়ারিতে যদি এসএসসি পরীক্ষা হয়, তাহলে যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে, তাদেরকে বই দিতে ২০২৫ সালের জুন-জুলাই পর্যন্ত সময় লেগেছিল এবং পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে এই বছরে এসে। আমরা আরেকটা ছুতা-নাতায় বাচ্চা ছেলেমেয়েদের কেউ রাজপথে নামানোর সুযোগ পেয়ে যাক, এমনটা চাই না।
এবার আসি দ্বিতীয় পর্বে—শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে।
এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সেদিন রাজপথে নেমেছিল পরীক্ষা পেছানোর দাবি নিয়ে। কিন্তু এরপর পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল থাকা ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তিন দিন ধরে রাস্তায় তারা যে ধরনের আচরণ করলেন এবং মানুষের জীবনে যে চরম ভোগান্তি তৈরি করলেন, সেটি লেখায় প্রকাশ করা কঠিন।
বন্যার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া অবশ্যই অন্যায় হয়েছে এবং সে অন্যায়ের প্রতিবাদও করা যাবে। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা অশ্লীল হবে কেন? জনপরিসরে অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করে কাউকে হেয় করলে সেই আচরণ সমাজে বাহবা কেন পাবে?
আন্দোলনে রাস্তায় নামা অনেক শিক্ষার্থীই যুক্তিসংগত আচরণ করেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকের মুখের ভাষা যেকোনো সভ্য মানুষকে ভাবনায় ফেলবে। শিক্ষামন্ত্রীকে তুই-তোকারি করে কথা বলা হচ্ছে; এমনকি এক শিক্ষার্থী তো রীতিমতো মন্ত্রীকে নেশাখোর বলতেও দ্বিধা করলেন না। আরেক শিক্ষার্থীকে বলতে শুনলাম শিক্ষামন্ত্রী নাকি তার পিএইচডিটা কিনে এনেছেন বলে অভিযোগ করছেন।
একটি ভিডিওতে দেখলাম, একদল শিক্ষার্থী রাস্তায় ফেলে এক বয়স্ক লোককে এলোপাতাড়ি লাথি মারছে। সেই ভিডিওর এক পর্যায়ে এক নারীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘আদব-কায়দা বলতে তো কিছু নাই। সুশিক্ষা বলতে তো কিছু নাই দেশে, নইলে এতটুকু ছেলেপেলে বুড়া মানুষের গায়ে হাত তোলে?’ এইচএসসি তো দূরের কথা, কোনোদিন বিদ্যালয়ের চৌকাঠে পা না দেওয়া তরুণদের আমরা শিক্ষার্থীদের ওই আন্দোলনে দেখতে পেয়েছি।
কলেজপড়ুয়া যেসব তরুণ ওই বয়স্ক লোকটিকে লাথি মারছেন, তারা শিক্ষিত এবং কলেজে পড়ছেন। তারা দিনদুনিয়ার খবর জানেন, তাই শিক্ষা ও অশিক্ষার ভেতরকার তফাত তাদের জানার কথা; কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ কোথায়?
একটি সভ্য দেশে ইচ্ছে হলেই সড়ক বন্ধ করে মিছিল-মিটিং করা যায়? মিছিল করার অধিকার থাকলে, মিছিলের কারণে রাস্তায় ভোগান্তির শিকার না হওয়ার অধিকারও মানুষের আছে। ৫ অগাস্টের পর যখন-তখন নানা নামে-বেনামে রাস্তা আটকে মিছিল করা যেন দৈনন্দিন রুটিন হয়ে গিয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে, এসব দৃশ্য কিছুটা কমেছে বটে, তবে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। পরীক্ষা আবার নেওয়া হবে কি না, সেটি নীতিনির্ধারনি পর্যায়ের বিষয় এবং তা দেখভাল করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন; কিন্তু সেজন্য কি তিন দিন ধরে রাস্তা বন্ধ করে রাখতে হবে?

যেহেতু কথায় কথায় রাস্তা বন্ধের হাত থেকে আমাদের নিস্তার নেই, সেহেতু সরকার আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য আলাদা মাঠ নির্ধারণ করে দিক। পান থেকে চুন খসলেই তিন কোটি ৩৭ লাখ মানুষের একটা শহরের প্রধান প্রধান মোড় বন্ধ করে বসে থাকা যায় না। শুধু এয়ারপোর্ট রোড দিয়েই প্রতিদিন অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করে এবং বাইরে থেকে বাস ঢাকায় ঢোকার অন্যতম প্রধান সড়ক হলো এটি। এখন উত্তরার হাউস বিল্ডিংয়ের সামনের রাস্তা অবরোধ করলে মানুষের ভোগান্তি কোথায় গিয়ে পৌঁছায়? এই চরম ভোগান্তি যারা বোঝে না, তাদের শিক্ষিত বলব কী করে? দেখেশুনে মনে হচ্ছে, 'শিক্ষার্থী' নামটাই যেন এখন আতঙ্কের নাম।
আন্দোলনকারীরা ছয় দফা দাবি দিয়ে আপাতত ক্ষ্যান্ত হলেও, তাদের দাবিগুলোর দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠতে হয়। ছয় নম্বর দফায় তারা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, ‘পরীক্ষার হলে পরিদর্শকদের কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপে না পড়ে।’ পরিদর্শকের কঠোর না হওয়া মানে কি এই যে, তারা নকল বা একে অপরের সঙ্গে দেখাদেখি করার সুযোগ চাইছে? তা না হলে আর কোন অর্থে একজন পরিদর্শক কঠোর হন?
বাকি পাঁচটি দাবিও অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। এসব দাবি নিয়ে একটু গভীরভাবে ভাবলেই আমাদের শিক্ষার বর্তমান হাল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। দুই নম্বর দাবিতে তারা আগে হয়ে যাওয়া পরীক্ষা পুনরায় দিতে চাইছে, আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর পরপরই তারা বলছে, ‘দুই পরীক্ষার মধ্যে যেটিতে ভালো নম্বর পাবে, সেটিই যেন বিবেচনা করা হয়।’ এরকম নিয়ম পৃথিবীর কোথাও আছে? দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হলে প্রথম পরীক্ষার ফল স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয়ে যায়।
এবারের প্রশ্নপত্র তুলনামূলক কঠিন হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের দাবিকে শিক্ষকদেরও কেউ কেউ সমর্থন করছেন। শিক্ষার্থীরা তাদের ছয় দফার পাঁচ নম্বর দাবিতে সেটিও সহজ করার দাবি জানিয়েছে; তাদের ভাষায়, ‘পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রশ্নপত্রের ধরনে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা মূল্যায়ন করতে হবে।’ এর অর্থ কি এই যে, প্রশ্নপত্র সহজ হবে না কঠিন হবে, সেটিও পরীক্ষার্থীরাই ঠিক করবে? তাহলে শিক্ষক, শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা প্রশাসনের কাজ কী?
আসল কথা হলো, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভেতরে ভেতরে ফাঁপা হয়ে গেছে। পাশ করানোর অযাচিত প্রবণতা, শিক্ষকদের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া, অভিভাবকদের উদাসীনতা, পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করার সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের পর শিক্ষার্থীরা আর প্রকৃত অর্থে ক্লাসরুমেই ফেরেনি; তারা ক্রমে মবের উপকরণ হয়ে উঠেছে। প্রতিপক্ষকে দমন, জমি দখল, প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে টাকা আদায়, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে শিক্ষককে দৌড়ে দৌড়ে পেটানো, জোর করে পদত্যাগ করানো এবং জুতার মালা গলায় ঝুলিয়ে স্কুলে ঘোরানো—কী করা হয়নি শিক্ষার্থীদের দিয়ে?
ফলে অল্পবয়সী শিক্ষার্থীদের হাতে লাগামহীন ক্ষমতা তুলে দেওয়ার ফলই আজ আমরা ভোগ করছি। কোথাও কোনো শৃঙ্খলা নেই, কেউ তাদের থামাচ্ছে না, যার ফলে সুযোগ পেলেই তারা রাস্তায় নেমে যাচ্ছেন। অবশ্য তাদের বয়সটাই এমন; এই বয়সীদের রাষ্ট্রের যে শৃঙ্খলা-কাঠামোর মধ্যে রাখার কথা, সেটিই ভেঙে গেছে। জনপরিসরে তারা অশ্লীল ভাষায় স্লোগান দিলে সেটিরও প্রতিবাদ করা যাচ্ছে না। প্রতিবাদ করলে শুনতে হচ্ছে, এটাই নাকি এখনকার ভাষা! কোন দেশের, কোন সময়ের, কোন সংস্কৃতির ভাষা এগুলো?
আমাদের সংস্কৃতি তো বড়দের সম্মান করা, পা ছুঁয়ে কদমবুসি করা, ছোটদের স্নেহ করা, আদর করে মাথায় হাত রাখা। শিক্ষাগুরুকে সম্মান করা এবং তার কথা অক্ষরে অক্ষরে মান্য করা আমাদের সংস্কৃতির অংশ। বড়দের আড্ডাস্থলে ছোটরা যাবে না, বড়দের সামনে ধূমপান করবে না, সালাম-আদাব-নমস্কার দেবে—এসবই তো আমাদের সংস্কৃতির শিক্ষা। অথচ এখন আমরা চারপাশে কী দেখছি?
আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের রাজনীতির বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে; ফলে সরকারও এসব জায়গায় হাত দিতে স্পষ্টত ভয় পাচ্ছে। সেই ভীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সরকার একা হাতে এটি দূর করতে পারবে বলে মনে হয় না। এর জন্য দরকার অভিভাবক, শিক্ষক, সমাজের সচেতন মানুষ এবং রাজনৈতিক দল—সবার ঐকমত্য।
যত দ্রুত সেই মতৈক্যে পৌঁছানো যাবে, ততই মঙ্গল।
রাজু নূরুল উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ও লেখক। বর্তমানে সোমালিয়া সরকারের অর্থমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র অ্যাডভাইজার হিসেবে কর্মরত। যোগাযোগ: [email protected]