০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শীর্ণ দেহেও হতে পারে উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা

শুধু স্থূল ব্যক্তিদের কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকে- ব্যাপারটা ঠিক না

শীর্ণ দেহেও হতে পারে উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা

ছবি: রয়টার্স।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Jul 2023, 02:11 PM

Updated : 12 Jul 2023, 03:15 PM

প্রচলিত রয়েছে, অতিরিক্ত ওজনের অধিকারীদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোলেস্টেরল নিয়ে প্রচলিত এই ধারণা ভুল।

রক্তে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল চিকন বা স্থূল যে কারও হতে পারে। হালকা পাতলা গড়নের অধিকারীদের কোলেস্টেরলের জটিলতা দেখা দেয় না এমনটা ভাবা ভুল।

টাইমস অব ইন্ডিয়া ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতের ‘ফোর্টিস হিরানন্দিনি হসপিটাল ভাসি’র ‘ইন্টারনাল মেডিসিন’য়ের পরিচালক ডা. ফারাহ ইঙ্গেল বলেন, “কোলেস্টেরল বয়স, লিঙ্গ বা ওজনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। যদিও এটা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দেয়। তবে যে কোনো বয়সেও হতে পারে।”

এই চিকিৎসক ব্যাখ্যা করেন- দেহে নানান রকমের চর্বি আছে। কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বি যা রক্তে উপস্থিত থাকে। এটা রক্ত ও রক্ত কোষে থাকা ‘ওয়াক্সি’ বা মোমের মতো পিচ্ছিল উপাদান। একইভাবে ট্রাইগ্লিসারাইডস এক ধরনের চর্বি (লিপিড) যা রক্তে পাওয়া যায়।

খাবার খাওয়ার পর ক্যালরিতে রূপান্তর করতে দেহ ট্রাইগ্লিসারাইডস ব্যবহার না করলে সেটা চর্বির কোষে জমা থাকে।

উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি

নানান যৌগ যেমন- এলডিএল (লো ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন) বা খারাপ চর্বি- স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

অন্যদিকে হাই ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (এইচডিএল) ভালো কোলেস্টেরল যা রক্তের কোলেস্টেরল শোষণ করে লিভার বা যকৃতে ফেরত পাঠায়।

দেহের আদর্শ কোলেস্টেরলের মান ১৫০ এর বেশি হওয়া উচিত নয়। 

প্রাপ্ত বয়স্ক নারী ও পুরুষের এলডিএল’য়ের মাত্রা ৭০ এর কম হওয়া উচিত। নারীদের এইচডিএল ৫০ এর বেশি এবং পুরুষদের ৪০ হওয়া জরুরি।

সহজভাবে বলা যায়, ভালো কোলেস্টেরল উচ্চমাত্রায় এবং খারাপ কোলেস্টেরল কম মাত্রায় থাকা প্রয়োজন।

কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।  

চিকন স্বাস্থ্যের অধিকারীদেরও কোলেস্টরলের সমস্যা হয়

ডা. ইঙ্গেল বলেন, যদি কোনো স্থূলকায় ব্যক্তির কোলেস্টেরল থাকে তাহলে তিনি ওজন কমিয়ে সহজেই তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। তবে হালকা পাতলা ব্যক্তিদের সেটা সম্ভব হয় না।

প্রত্যেকেরই উচিত সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সুস্থ জীবনে অভ্যস্ত হওয়া। কম চর্বি সমৃদ্ধ খাবার- সালাদ, ফল, সবজি খাওয়া, ভাজা খাবার, মাখন এবং চর্বি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উপকারী।

আর যারা নিরামিষভোজী নন, তাদের উচিৎ লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা।

কোলেস্টেরলের সমস্যার পেছনে বংশগতিরও প্রভাব থাকে। বিশেষ করে এলডিএল এর মাত্রা ১৬০ এর বেশি হলে।

তাই শরীর চিকন হলেও যারা প্রতিদিন ব্যায়াম করে না ও চর্বিযুক্ত খাবার খায় তাদের কোলেস্টেরলের ঝুঁকি থাকতে পারে।

যদি কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকে তাহলে দৈনন্দিন জীবনে কর্মচঞ্চলতা বাড়াতে হবে। ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।

যদি এই পদ্ধতি অনুসরণে উপকার পাওয়া না যায় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন

পুরানো খবর:

যেসব লক্ষণ থাকলে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো জরুরি
যেভাবে বোঝা যায় কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি
কোলেস্টেরল কম হওয়ার লক্ষণ