Published : 14 Jul 2026, 01:34 AM
ডলারের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে; যা খোলা বাজারে ১২৬ টাকা পয়সা পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। এতে অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে টাকার মান কমে গেছে।
ব্যাংকগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কয়েকটি ব্যাংক ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে নগদ ডলার বিক্রি করছে। পণ্য আমদানিতে এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে দাম রাখা হচ্ছে ১২৪ টাকা। আর খোলা বাজারে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায় উঠেছে দাম।
সোমবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা; সর্বনিম্ন দরও ছিল ১২৩ টাকা। আগের দিন রোববার সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা; সর্বনিম্ন ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৯৭ পয়সা।
গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা; সর্বনিম্ন ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। গড় দামও ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা।
তিন সপ্তাহে আগে ২৪ জুন ডলারের গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। পৌনে তিন মাস আগে ২০ এপ্রিল ছিল ১২২ টাকা ৭০ পয়সা।
এক বছর আগে ৯ জুলাই আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দর ছিল ১২২ টাকা ১ পয়সা।
এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মুদ্রা মার্কিন ডলারের দাম বেড়েছে দশমিক ৯৯ পয়সা। শতাংশ হিসাবে বেড়েছে দশমিক ৮১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, চাহিদা বাড়ায় ডলারের দাম বাড়ছে।
তবে ব্যাংক খাতের অনেকেই বলছেন, সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলকে খুশি করতে ডলারের দর বাড়ানো হচ্ছে।
আইএমএফ বরাবরই টাকা-ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছে।
এদিকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর বাড়ায় ব্যাংকগুলোতেও দাম বেড়েছে। খোলা বাজারেও (কার্ব মার্কেট) বাড়ছে।
সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক ১২৩ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২২ টাকায়।
বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে। সিটি ব্যাংকও ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে।
অন্যদিকে সোমবার খোলা বাজারে ডলার বিক্রি ও কেনা বেচায় ৩০ পয়সা পার্থক্য থাকতে দেখা গেছে। সেখানে কেনার মূল্য ছিল ১২৬ টাকা ২০ পয়সা। গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হয়; কেনা হয় ১২৫ টাকা ২০ পয়সায়।
এর এক সপ্তাহ আগে খোলা বাজারে ১২৫ টাকা দরে ডলার বিক্রি হয়। কেনা হয়েছিল ১০ পয়সা কমে।
মতিঝিলের এক ডলার ব্যবসায়ী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকার কারণেই দাম বাড়ছে।
একই কথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রও।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সরকারি কয়েকটি পেমেন্ট ছিল। সে কারণে ডলারের চাহিদা বাড়ায় ডলারের দাম বেড়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে ডলারের দর আর বাড়বে না। বর্তমানের জায়গায় স্থির থাকবে।”
বাজারে চাহিদা বাড়ায় কিছুদিন ধরে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলে তুলে ধরেন তিনি।
নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করছে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ইতোমধ্যেই অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সফরের সঙ্গে ডলারের দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা¬–এমন প্রশ্নের উত্তরে আরিফ খান বলেন, “আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সফর বা তাদের শর্তের সঙ্গে ডলারের দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত চাহিদা বাড়ার কারণেই বেড়েছে।”
একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আইএমএফ বহুদিন ধরেই টাকা-ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের উপর ছেড়ে দিতে বলছে। সংস্থাটির সঙ্গে নতুন সরকারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণ পাওয়ার পথ সহজ করতে আইএমএফকে খুশি করতে ডলারের দাম বাড়ানো হতে পারে।