Published : 14 Jul 2026, 02:13 AM
মাঠে দাপুটে পারফরম্যান্স আর টুর্নামেন্টে পথচলায়, স্পেন ও ফ্রান্সের সমর্থকদের মনে বিশ্বাস জন্মাতেই পারে, এই ম্যাচের জয়ী দলই জিতবে এবারের বিশ্বকাপ।
আরেক সেমি-ফাইনালের দুই দল ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা যৌক্তিকভাবেই এতে জানাতে পারে আপত্তি। তবে, স্পেনকে ইউরো জেতানো কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে কোনোরকম রাখঢাক না করেই বলে দিয়েছেন, “ফাইনালের আগে এই ম্যাচটিকে ফাইনাল বললে, মোটেও বাড়িয়ে বলা হবে না।”
বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল ফ্রান্স, তিন নম্বরে আছে স্পেন। দুইয়ে আর্জেন্টিনা এবং চার নম্বরে ইংল্যান্ড। এই দলগুলোর এখন পর্যন্ত সফল যাত্রায় ফুটবল ইতিহাসে একটা প্রথমের জন্ম হয়েছে; এবারই প্রথম র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চার দল উঠেছে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে।
ফাইনালে ওঠার প্রথম লড়াইয়ে ডালাসে মুখোমুখি হবে স্পেন ও ফ্রান্স। ১৫ জুলাই ১টায় (এএম) শুরু হবে ম্যাচটি।
স্কোয়াডের শক্তি, ফুটবল ঐতিহ্য, ডাগআউটে সফল মুখ- সব মিলিয়ে কোনো এক দলকে এগিয়ে রাখার সুযোগ খুব একটা নেই। তবে, বাড়তি আত্মবিশ্বাস খুঁজে নেওয়ার চেষ্টায় স্পেন কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকতে পারে। কারণটা আর কিছু না, সবশেষ দুইবারের মুখোমুখি লড়াই।
দুটিই সেমি-ফাইনাল: ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পথে শেষ চারে ফরাসিদের ২-১ গোলে হারিয়েছিল স্পেন, আর গত বছর উয়েফা নেশন্স লিগে ফাইনালে ওঠার ম্যাচে ৯ গোলের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৫-৪ ব্যবধানে জিতেছিল দে লা ফুয়েন্তের দল।
ওই দুই সাফল্যের স্মৃতি আওড়ে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিও শোনালেন জয়ের আশাবাদ।
“এখানে সেরা দলগুলোর একটি ফ্রান্স, যারা দুর্দান্ত ছন্দে আছে, অবশ্য আমরাও ফর্মে আছি। আমরা তাদের হারাতে পারি। ইউরো ও নেশন্স লিগে আমরা তা করে দেখিয়েছি।”
ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপেও একইভাবে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। তবে টুর্নামেন্ট ফেভারিট হওয়ার চাপটাও অনুভব করছেন তিনি। তাই সতীর্থদের দিচ্ছেন বাড়তি সতর্ক থাকার তাগিদ।
“এটাকে একটা মিশন বলব কি না, জানি না। তবে আমরা সবাই জানি, শিরোপা জয়ের পরই কেবল আমরা নির্ভার হতে পারি। এর আগে আমরা অসাবধান হতে পারি না। ‘অজেয় দল’ হিসেবে পরিচিত হতে আমাদের এখনও অনেক কিছুর প্রমাণ দিতে হবে।”
তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে ওঠার অভিযানে ছুটছে ফরাসিরা। ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, গতবার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরেছিল দিদিয়ে দেশোঁর দল।
আর স্পেন তাদের একমাত্র বিশ্বসেরার মুকুট জিতেছিল ২০১০ আসরে। তবে টানা ৩৬ ম্যাচের অপরাজেয় ধারায় ছুটছে দলটি, সেমি-ফাইনালে হার এড়ালেই তারা ছুঁয়ে ফেলবে ইতালির ৩৭ ম্যাচের অপরাজেয় রেকর্ড।
স্পেন সবশেষ হেরেছিল ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। সুখকর পথচলায় এবারই হয়তো সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে দলটি। রদ্রির কথাতেও যেটা পরিষ্কার।
“ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচই হয়তো আমাদের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। আমরা দারুণ অনুপ্রাণিত এবং শিরোপা জিততে মরিয়া হয়ে আছি। আমাদের নিজেদের শক্তি অনুযায়ী খেলতে হবে। ফ্রান্স দারুণ শক্তিশালী দল, তবে আমরাও তাই।”
স্প্যানিশদের শক্তির জায়গা ইতোমধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে। আর সেটা হলো তাদের জমাট রক্ষণ; ছয় ম্যাচে কেবল একটি গোল হজম করেছে তারা, সবচেয়ে কম। বিপরীতে ফ্রান্সের শক্তির জায়গা তাদের ভয়ঙ্কর আক্রমণ; দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬টি গোল করেছে দলটি।
জমাট রক্ষণের সামনে ভয়ানক আক্রমণভাগ- সত্যিই যেন সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হতে যাচ্ছে।
আর শুরুর ওই ‘ফাইনালের আগে ফাইনাল’ প্রসঙ্গে উত্তরটা তো সময়েই মিলবে। তবে ফুটবল বোদ্ধাদের অনেকের ইঙ্গিত এমনই।
কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায়ের পর বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক তিবো কোর্তোয়াও যেমন বলেন, “ফ্রান্স ও স্পেনের সেমি-ফাইনালের জয়ী দলই হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।”