Published : 12 Jul 2026, 03:25 PM
লম্বা সময় পর গোল পেলেন না লিওনেল মেসি। কিন্তু সতীর্থের গোলে অবদান রাখলেন ঠিকই। তাতে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের হাতে ধরা দিল দারুণ একটি অর্জন। কিলিয়ান এমবাপেকে টপকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি গোলে অবদান এখন তার।
কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো তুলে ধরা হলো-
১
১৯৯২ সালে ফিফা র্যাঙ্কিং চালুর পর এবারই প্রথম র্যাঙ্কিংয়ের সেরা চার দল বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলছে।
এছাড়া এ নিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করল অতীতে শিরোপা জেতা চার দল। ১৯৭০ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপেরও সেমি-ফাইনালেও ছিল একই চিত্র।
২
আসরে লিওনেল মেসি এমন ২০ টি পাস দিয়েছেন যেগুলো থেকে লক্ষ্যে শট নিয়েছেন সতীর্থরা। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন তিন আসরে গোল পোস্টে ২০ বা এর বেশি এমন পাস দিয়েছেন (২০২২ সালে ২১ টি ও ২০১৪ সালে ২৪ টি)।
৩+
চলতি বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে তিন বা এর বেশি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথভাবে যা সর্বোচ্চ। এর আগে ফ্রান্স চলতি আসরে টানা চার ম্যাচে তিন বা ততোধিক গোল করেছিল। তাদের ওই যাত্রা থামে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে।
৩
বিশ্বকাপে কর্নার থেকে তিন গোল করেছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ড এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা সমান গোল করেছে কর্ণার থেকে। অথচ গড় উচ্চতার দিক থেকে এবারের আসরে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের উচ্চতা তৃতীয় সর্বনিম্ন।
কর্ণারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে সেট পিসে সর্বোচ্চ ৫ গোল করেছে আর্জেন্টিনা।
৪
চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে চারটি কোয়ার্টার-ফাইনালে শুরুর একাদশে খেললেন লিওনেল মেসি। এর আগে খেলেছেন- জার্মানির লোথার ম্যাথিউস, মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং উয়ে সিলার।
৪
বিশ্বকাপে হুলিয়ান আলভারেসের পাঁচ গোলের চারটিই এসেছে নকআউট পর্বে। দিয়েগো মারাদোনাও নকআউট পর্বে চার গোল করেছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে তাদের উপরে আছেন লিওনেল মেসি (৭)।
৪
ডাইভ দেওয়ায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাগাইল এমবোলো। শেষ ৬০ বছরে বিশ্বকাপে এই কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছেন মেক্সিকোর লুইস পেরেস (বিপক্ষ পর্তুগাল, ২০০৬), ঘানার আসামোয়া জিয়ান (বিপক্ষ ব্রাজিল, ২০০৬) এবং ইতালির ফ্রান্সেসকো টট্টি (বিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া, ২০০২)।
৮
এ নিয়ে চলমান আসরে নকআউট পর্বের ৮টি ম্যাচ (২৮তম ম্যাচে) অতিরিক্ত সময়ে গড়ালো। এর আগে সমান সংখ্যক ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ২০১৪ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপে। এই দুই আসরে নকআউট পর্বে ছিল ১৫ ম্যাচ, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১-এ।
৯
বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচ পর গোল করতে পারলেন না মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপের ৪ ম্যাচের পর, এবারের আসরে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করেছেন।
১০
কর্ণার থেকে আলিক্সেস মাক আলিস্তের গোলে অবদান রেখে বিশ্বকাপে মোট ১০ অ্যাসিস্ট করলেন মেসি। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট তার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মারাদোনা করেছেন ৮ অ্যাসিস্ট। মেসির এই ১০ অ্যাসিস্টে ভিন্ন ভিন্ন ১০ জন ফুটবলার গোল করেছেন।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কখনও বিশ্বকাপে এতো আগে (দশম মিনিট) অ্যাসিস্ট করেননি মেসি। এটি কর্ণার থেকে করা মেসির প্রথম অ্যাসিস্ট।
১০
কিলিয়ান এমবাপের পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের একাধিক আসরে ১০ বা তার চেয়ে বেশি গোলে অবদান রাখলেন মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপেও ১০ গোলে অবদান রাখেন তিনি। এমবাপেও ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে ১০ বা তার চেয়ে বেশি গোলে অবদান রেখেছেন।
১১
মাক আলিস্তেরের গোলে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও মূল আসর মিলিয়ে প্রথমবার প্রতিপক্ষের গোলে ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে সুইজারল্যান্ড। এই চক্রে ১১ ম্যাচে (বাছাইপর্বে ৬ ম্যাচ ও বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচ) কখনই পিছিয়ে পড়েনি দলটি।
১৩
বিশ্বকাপে নিজের সবশেষ ৮ নকআউট ম্যাচে ১৩ গোলে (৭ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট) অবদান রেখেছেন মেসি।
১৩
বিশ্বকাপে এ নিয়ে ১৩ বার আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালো। পেছনে পড়ে গেল জার্মানি। টাইব্রেকারসহ হিসেব করলে এই ১৩ ম্যাচের ১১ টিই জিতেছে আর্জেন্টিনা।
পঞ্চম বারের মতো অতিরিক্ত সময়ে জয় নিশ্চিত করেছে দলটি। ছয় জয় নিয়ে সবার উপরে আছে ইতালি।
১৫
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মোট ১৫ গোলে অবদান রেখেছেন লিওনেল মেসি। শেষ ৬০ বছরে এটাই সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপে অবদান রেখেছে ১৪ ম্যাচে।
৩০ বছর ১৭৭ দিন
কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয় সবচেয়ে বয়সী একাদশ নিয়ে মাঠে নামেছিল আর্জেন্টিনা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের একাদশের গড় বয়স ছিল ৩০ বছর ১৭৭ দিন। ১৯৬২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশের গড় বয়স ছিল ৩০ বছর ২০৯ দিন।
১২১
বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে দেরিতে গোল করার রেকর্ড এখন লাউতারো মার্তিনেসের দখলে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১২১তম মিনিটে গোল করেন তিনি।