Published : 28 Mar 2026, 12:44 AM
ইরান যুদ্ধে ২৪ দিনের মাথায় এসে গেল সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে বসেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ’ শান্তি আলোচনা চলছে।
সেই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কী কী শর্ত, সেটাও ট্রাম্প জানিয়েছেন।
ইরান দুদিন দেরিতে হলেও আলোচনা শুরু হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের যে ১৫ দাবি, সেটা তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
সবশেষ বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে ১০ দিন সময় দেন।
কিন্তু ট্রাম্পের এই ১০ দিন কি চুক্তির জন্য বরাদ্দ, নাকি ইরানে স্থল হামলার প্রস্তুতি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক।
প্রশ্ন তোলার কারণ হিসেবে বেশ কিছু পারিপার্শ্বিকতা তুলে ধরে তারা বলছেন, ট্রাম্প শান্তি আলোচনার কথা বললেও মধ্যপ্রাচ্যে আরো সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুক্রবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে, আগে থেকে ৫০ হাজার সেনা থাকা মধ্যপ্রাচ্যে আরো ১০ হাজার সেনা পাঠানোর কথা ভাবছেন ট্রাম্প।
এর আগে জাপানের ওকিনাওয়ায় মোতায়েন থাকা ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনাল ইউনিটের সদস্য এবং উভচরযান ‘ইউএসএস ত্রিপোলিকে’ উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় পেন্টাগন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে মধ্যপ্রাচ্যে প্যারাট্রুপার পাঠানোর খবরও দুদিন আগে এসেছে সংবাদমাধ্যমে।
ট্রাম্পের শান্তি আলোচনার দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখছে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার ও তেলের বাজারও। ফলে আলোচনার খবর সামনে আসার চার-পাঁচ দিনেও এই দুই বাজারে অস্থিরতা কমেনি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিং ইনস্টিটিউশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক থমাস রাইট মনে করেন, ট্রাম্প হয়ত বড় ধরনের হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্ত আড়াল করতেই তিনি এখন শান্তি আলোচনার বিষয়টি সামনে আনছেন।
দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত এক নিবন্ধে রাইট লিখেছেন, “যদি তেমন নাও ঘটে থাকে, বাস্তবতা কিন্তু সেরকমই। সময়সীমা যখন শেষ হবে, তখন দেখবেন, ওই অঞ্চলে বড় ধরনের স্থল হামলার প্রস্তুতি ট্রাম্পের নেওয়া হয়ে গেছে। আর তখন হামলার যৌক্তিকতা হিসেবে তিনি ভেঙে পড়া কূটনীতিকে দেখাতে পারবেন।”

দাবি-দাওয়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে যে তীব্র মতবিরোধ, তাতে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব দাবি, সেগুলো মেনে নেওয়া ইরানের আত্মসমর্পণের সামিল।
ট্রাম্পের দাবি, তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে; তাদের হাতে উচ্চমাত্রার যত ইউরেনিয়াম আছে, সেটা দিয়ে দিতে হবে; আঞ্চলিক কোনো সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কও রাখা যাবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানে হামলা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র যেসব দাবি জানিয়েছিল, এগুলো প্রায় একই রকমের।
কিন্তু ইরানের পাল্টা দাবি হলো, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যে আর হামলা চালাবে না, সেটার স্থায়ী নিশ্চয়তা দিতে হবে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে তেহরানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও চাই ইরানের। আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়েও ইরান কোনো আগ্রহ দেখায়নি।
থমাস রাইট বলেন, “এই যুদ্ধ ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করেনি; বরং আরও কঠোর করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এখন ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে এতটাই প্রভাব ফেলছে, যা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সময়েও দেখা যায়নি।”
বাইডেনের প্রশাসনে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ‘কৌশলগত পরিকল্পনা’ বিভাগে নেতৃত্ব দেওয়া রাইট বলেন, “ইরান জানে, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ তাদের কাছে কৌশলগত একটা হাতিয়ার। ফলে আমার কাছে মনে হচ্ছে, আত্মসমর্পণের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্যই ইরানের প্রস্তুতি বেশি।”
এই বিশ্লেষক মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে না জড়িয়েও ট্রাম্পের সামনে নিজেকে জয়ী ঘোষণা করার সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে ইরানের দুয়েকটা দাবি মেনে নিয়ে তিনি যুদ্ধের ইতি টানতে পারেন।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসেই চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সংঘাতে জড়ান। গেল বছর সেই বিরোধের অবসান ঘটে ঠিকই, কিন্তু বড় ছাড় ট্রাম্পকেই দিতে হয়। কিন্তু সেটা আড়াল করে ট্রাম্প প্রশাসন নিজেকে জয়ী ঘোষণা করে।
থমাস রাইট বলেন, “ইরান যুদ্ধে নিজেকে জয়ী ঘোষণা করে ট্রাম্প চাইলে বলতে পারেন— ইরানের নৌবাহিনী দুর্বল হয়ে পড়েছে; তাদের বিমানবাহিনী বিধ্বস্ত; শীর্ষ কর্মকর্তারা বেঁচে নেই এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ধাক্কা খেয়েছে।”
কিন্তু ইরান যুদ্ধকে যে চীনের বাণিজ্য যুদ্ধের সঙ্গে মেলানো যাবে না, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক।
তারা বলছেন, যে চুক্তিতে হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা থাকবে, সেটাকে বিজয় হিসেবে দেখানো কঠিন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্ররা সেটা মানতে চাইবে না।
মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে ‘চাপ’ দিয়ে যাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
যুবরাজ ট্রাম্পকে বলেছেন, “ইরানের শাসনব্যবস্থা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি’। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হওয়ার আগেই এ সরকারকে নির্মূল করতে হবে।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, “ট্রাম্প মাঝেমধ্যে যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও যুবরাজ সালমান যুক্তি দেখাচ্ছেন, সেটি করলে ভুল হবে। তেহরান সরকারকে দুর্বল করতে যুবরাজ ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানোর জোরালো দাবিও জানিয়েছেন।”

উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত বলছে, যুদ্ধে এমন একটি ‘চূড়ান্ত ফল’ প্রয়োজন, যা ইরানকেন্দ্রিক সব হুমকি দূর করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব হয়ত শুরুতে যুদ্ধের বিপক্ষেই ছিল। কিন্তু এখন তারা চাইবে না, চলমান যুদ্ধের মাধ্যমে তেহরান আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠুক।
অন্যদিকে ইসরায়েল চাইছে, ইরানের শাসকগাষ্ঠীকে সরানো সম্ভব না হলেও তাদের যেন সর্বোচ্চ মাত্রায় দুর্বল করে দেওয়া যায়।
সৌদি আরব, আরব আমিরাত কিংবা ইসরায়েল— এদের সবাই শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়লে ট্রাম্পকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে চাপ দেবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘ ও জটিল যুদ্ধে তেলের দাম স্থায়ীভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে; মন্দার ঝুঁকিও আছে। কিন্তু ট্রাম্প হয়ত স্থল অভিযানে সম্ভাবনাও দেখছেন।
ট্রাম্প মনে করছেন, চূড়ান্ত আঘাতের মাধ্যমে তেহরানকে শর্ত মানাতে বাধ্য করা যাবে। আর না মানলেও যুক্তরাষ্ট্রকে জয়ী ঘোষণা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে।
চলতি মাসে চীন সফরে যাওয়ার কথা ছিল ট্রাম্পের। ইরান যুদ্ধের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, আগামী ১৪ ও ১৫ মে তিনি চীন সফর করবেন। ট্রাম্প হয়ত আশা করছেন, চীন সফরের আগেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।
গণমাধ্যমে যে খবর এসেছে, তাতে ইরানে তিন ধরনের স্থল অভিযানের কথা শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে— ইস্পাহানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করা; ইরানের প্রধান তেল রপ্তানিকেন্দ্র খার্ক দ্বীপ দখল করা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে উপকূলে সেনা মোতায়েন করা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ লিখেছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে বড় হামলার পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী। সেক্ষেত্রে খার্ক, লারাক কিংবা আবু মুসারে মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপে হামলা হতে পারে।
কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, বড় ধরনের হামলা চালালে তা শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন শুধু সুবিধার কথাই ভাবছে, প্রতিটি অভিযানেই যে বড় রকমের বিপদ ঘটতে পারে, সেটা নিয়ে তারা মাথা ঘামাচ্ছে না।
ইরানের হাতে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ যে ইউরেনিয়াম থাকার কথা বলা হচ্ছে, সেটা দেখতে সাদা স্ফটিকের মতো। ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লুরাইড নামের এই ধাতু ইস্পাতের সিলিন্ডারে সংরক্ষিত থাকে।
ম্যাসাচুসেট্স ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) জ্যেষ্ঠ পারমাণবিক গবেষক অস্টিন লং বলেন, এই ইউরেনিয়াম বিস্ফোরক দিয়ে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করা যায় না। সিলিন্ডারে ছিদ্র হলে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক গ্যাস নির্গত করে।
ইস্পাহান থেকে এগুলো উদ্ধার করে আনতে হলে মার্কিন সেনাদের একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে। এরপর তাদেরকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ইউরেনিয়াম খুঁজে বের করতে হবে; পাল্টা হামলার ঝুঁকি তো আছেই।
থমাস রাইট বলেন, “এ অভিযান সম্ভবত মার্কিন বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে জটিল অভিযানের একটি হবে। এছাড়া ৯৭০ পাউন্ড ইউরেনিয়াম ইস্পাহানের বাইরে আরো দুটি স্থানে ছড়িয়ে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে একাধিক অভিযানের দরকার হবে।”
সামরিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে খার্কসহ আরো যেসব এলাকা রয়েছে, সেগুলোর ধরনে ভিন্নতা থাকলেও বিপদের ভয়াবহতা একই।

খার্কের অবস্থান ইরানের উপকূল থেকে মাত্র ২০ মাইল দূরে। আট বর্গমাইলের চেয়ে ছোট এ দ্বীপ থেকে ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ ছাড় হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, খার্ক দখল করাটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যতটা কঠিন, ধরে রাখাটা তার চেয়ে বেশি কঠিন; মারাত্মক পরণতিও ডেকে আনতে পারে।
খার্ক রক্ষায় সেখানে তেল স্থাপনাগুলোতে ইরান আগুনও ধরিয়ে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে পুরো এলাকা দূষিত হয়ে পড়বে। মার্কিন সেনারা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।
আবার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলার সক্ষমতা তেহরানের সীমিত হতে পারে, কিন্তু খার্ক স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যেই রয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খার্কের মতো ছোট দ্বীপে প্রতিকূল পরিবেশে দীর্ঘ সময় টিকে থাকার মতো রসদ মার্কিন বাহিনীর হাতে নেই। এমনকি ভৌগলিকভাবে দ্বীপটির অবস্থান এমন স্থানে, যেখানে আগুন ধরলে বাতাসের বিপরীতে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই।
রাইট বলেন, “ইরান পারস্য উপসাগরের জ্বালানি অবকাঠামো ও পানি শোধনাগার কেন্দ্রে হামলা চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র যেন কাজে লাগাতে না পারে, সেজন্য খার্কের তেল স্থাপনাগুলোও তারা ধ্বংস করে দিতে পারে।
“এছাড়া উপকূলের কাছাকাছি জনবসতিপূর্ণ অনেক এলাকা রয়েছে। এগুলোতে হামলা হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে। এখানে জয়ী হওয়ার স্পষ্ট কোনো লক্ষণ নেই। বরং ব্যর্থতা এড়াতে আরো বেশি সেনা, আরো বেশি সময় এবং আরো বেশি ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে।”
আরো পড়ুন
হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করল ইরান, জাহাজ চলাচলে কড়া হুঁশিয়ারি
ইরানে 'চূড়ান্ত হামলার' প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প: মার্কিন সংবাদমাধ্যম
ট্রাম্পের জন্য খার্ক দখল যতটা কঠিন, ধরে রাখা আরো কঠিন
মধ্যপ্রাচ্যে 'আরও ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর' কথা ভাবছেন ট্রাম্প
ইরানি জ্বালানি কেন্দ্রে হামলা আরও ১০ দিন স্থগিত, বললেন ট্রাম্প