Published : 20 Jul 2026, 09:59 AM
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী টানা নবম দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে। আর ইরানের পাল্টা হামলায় কয়েকদিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিহত সেনার সংখ্যা তিনে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের আঘাত হানার সামর্থ্য ‘হ্রাস’ করার লক্ষ্যে একাধিক সামরিক হামলার ‘এক নতুন পর্ব’ শুরু করেছে।
বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, “তারা ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ও উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনাগুলো, সামুদ্রিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্যস্থল করেছে।”
আল জাজিরা জানিয়েছে, সেন্টকম উল্লেখ করেছে ইরানের স্থানীয় সময় ২০ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টায় তারা তাদের আঘাত হানার সমাপ্তি টেনেছে।
সেন্টকম আরও বলেছে, “তাদের বাহিনীগুলো অত্যন্ত সতর্ক, মনোযোগী, প্রাণঘাতী ও প্রস্তুত রয়েছে।”
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সোমবার ভোররাতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে আঘাত হেনেছে। তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশহর, বন্দর ইমাম খোমেনিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
প্রথমবারের মতো উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবরিজে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে খবর হয়েছে। দক্ষিণপশ্চিমে বুশেহর ও হরমোজগান থেকেও বিস্ফোরণের খবর এসেছে।
হরমোজগানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর জাস্ক ও সিরিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী এ দুটি শহরে আগের রাতগুলোতেও হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এখানে তারা ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে।
দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের সিস্তান বেলুচিস্তানের কোনারক ও বন্দর শহর চাবাহারেও বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরাকের সীমান্তবর্তী খুজেস্তান প্রদেশের দুটি প্রধান বন্দর শহর মাহশহর ও বন্দর ইমাম খোমেনিতেও হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
অপরদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, লোরেস্তান প্রদেশ থেকে ‘শত্রুর’ লক্ষ্যস্থলগুলোতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে।
এর অর্থ হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্যস্থল করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান।
আরও পড়ুন: