Published : 20 Jul 2026, 09:27 AM
উত্তর ইরাকে শনিবার ইরানি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনা সদস্য নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী।
বিবিসি লিখেছে, জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ হওয়ার পরদিনই এ ঘটনা ঘটল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ভূপাতিত করা একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্রের ‘নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ’ করার সময় ওই সেনা নিহত হন। এসময় আরেক সেনা আহত হন।
সেন্টকম জানিয়েছে, জর্ডানে শুক্রবার যে হামলা হয়েছিল, সেই ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে তারা দেহাবশেষ পেয়েছে। এখন তারা পরীক্ষা করে দেখছে এগুলো কার।
বিবিসি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আক্রমণের অষ্টম দিনে একে অপরের বিরুদ্ধে আঘাত হানার প্রেক্ষাপটে এ ঘটনা ঘটল।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানার অভিযোগ উঠেছে। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর তাদের অবরোধ ফের আরোপ করেছে; আর তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে ওই অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের নিশানা করছে। ফলে প্রাথমিকভাবে যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল তা এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ভেঙে পড়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী বলছে, তাদের সবশেষ হামলাগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রণালিতে ‘বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া’ এবং জর্ডানে হামলার জন্য দায়ী ইরানের বিপ্লবী বাহিনীকে (আইআরজিসি) ‘দ্রুত শাস্তি’ দেওয়া।র্
জর্ডানের ওই ঘাঁটির ভেতরের ভিডিওতে অন্তত দুটি আঘাত এবং একটি বিস্ফোরণ দেখা গেছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে নিখোঁজ হওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলটকে মৃত ঘোষণা করার পর সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মৃতের সংখ্যা ১৭-তে পৌঁছেছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে মার্কিন হামলায় অন্তত অর্ধশতাধিক নিহত এবং পাঁচ শতাধিক আহত হয়েছে।
রোববারও হামলা অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। তাদের খবরে দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর দারখোভেইনে একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কেশম দ্বীপে রাতভর আক্রমণের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা বলছে, কেন্দ্রটির নির্মাণ ‘একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে’ ছিল এবং তাদের শেষ পরিদর্শনের সময় সেখানে কোনো পারমাণবিক উপাদান ছিল না।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, জর্ডানের সামরিক বাহিনী পরে তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে, চতুর্থটি একটি দুর্গম অঞ্চলে পড়েছে।
আকাবা বন্দর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে মার্কিন সতর্কবার্তার পর এ হামলা হল।
আম্মানে ইরানের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে অবিলম্বে হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে জর্ডান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘অন্যায় ও নির্লজ্জ ইরানি হামলা’ বলে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে, দেশের নিরাপত্তা নিয়ে তারা কোনো আপস করবে না—এটা তাদের জন্য ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জর্ডানের দিকে প্রজেক্টাইল নিক্ষেপের পর ‘ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ধ্বংসাবশেষের আঘাত ঠেকাতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের দিকে বেশ কয়েকটি ইন্টারসেপ্টর উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল’।
তারা বলছে, পরে সীমান্ত লাগোয়া দক্ষিণের শহর এইলাতের কাছে ‘ইন্টারসেপ্টরের টুকরো’ চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী বাহিনী বলেছে, হরমুজ প্রণালি পার না হওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া সতর্কবার্তা দুটি জাহাজ উপেক্ষা করেছিল। এর ফলে তাদের ‘দুর্ঘটনার’ শিকার হতে হয়েছে।
আইআরজিসি সতর্ক করে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রভাবিত’ এবং ‘অনিরাপদ পথ’ ব্যবহারকারী সব জাহাজকেই ‘নিশ্চিতভাবেই দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হবে’।
কুয়েতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার যে বিদ্যুৎ ও পানি উৎপাদন কেন্দ্রটিতে হামলা হয়েছিল, সেটিতে আবারও হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে সেখানে আগুন লেগেছে।
বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিয়ে গঠিত জোট গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) প্রথম হামলার পরই তেহরানের বিরুদ্ধে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ এনে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছিল।