Published : 19 Jul 2026, 11:30 AM
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি বলেছেন, ওয়াশিংটন আবারও তার আসল চেহারা প্রকাশ করেছে।
শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, বারবার সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের ঘটনায় আবারও প্রমাণ হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের ‘কোনো মূল্য নেই’।
মুজতাবা খামেনির ওই বিবৃতি শনিবার প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, আধিপত্যবাদ, জবরদস্তি আর সহিংসতা ‘মার্কিন নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ’।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অবসানে গত ১৭ জুন দেশ দুটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। প্রাথমিকভাবে ৬০ দিন যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
কথা ছিল, এই সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যের আয়োজনের মধ্যেই গত ৮ জুলাই ইরানে নতুন করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
জবাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে ফের নৌ অবরোধ শুরু করে মার্কিন বাহিনী।
এই আচরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহাশয়তান’ আখ্যায়িত করছেন মুজতাবা খামেনি। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন আবারও তার ‘আসল চেহারা’ প্রকাশ করেছে।
তার ভাষায়, চুক্তি ভঙ্গের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ‘অসততা, অবিশ্বস্ততা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার’ অকাট্য দলিল।
মার্কিন হামলার কড়া জবাব দেওয়ারও অঙ্গীকার করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাত আরও বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে ইরান তার জবাব দিতে প্রস্তুত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধের সূচনা হয়। সেদিনই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
এরপর তার ছেলে মুজতাবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করে ইরান। তবে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর এখনো তিনি প্রকাশ্যে আসেননি।
তার বিবৃতির একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল তার বাবা, প্রয়াত আলি খামেনির প্রতি জনগণের ‘অকুণ্ঠ ভালোবাসার’ প্রশংসা।
প্রয়াত নেতার শেষযাত্রায় তেহরান, কওম, মাশহাদসহ বিভিন্ন শহরে লাখ লাখ মানুষের ঢল ‘পুরো বিশ্বকে অবাক করেছে’ বলে মন্তব্য করেন মুজতাবা।
তিনি বলেন, “জনগণের এই ঐতিহাসিক উপস্থিতি ও আনুগত্য শত্রুদের মনে ভয় ও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।”
যে কোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘রাজনৈতিক মতবিরোধ বা সামাজিক বিভাজন’ তৈরি করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
“সরকারের কাজের সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে, তবে তা যেন ঐক্য বিনষ্ট না করে এবং শত্রুরা যেন কোনো দুর্বলতার সুযোগ নিতে না পারে।”