Published : 19 Jul 2026, 06:36 PM
অনবরত কান্না করে যাচ্ছিল একটি শিশু শিক্ষার্থী। তার মুখে বার বার বেত ঢুকিয়ে হাসছিলেন শিক্ষক। আবার সেই ভিডিও ফেইসবুকে পোস্ট করে শিক্ষক লেখেন ‘পিচ্চি পোলাপানরে কান্না করাইতে ভালোই লাগে’।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ফেইসবুকে আরেকটি ভিডিও পোস্টে করে ক্ষমা চেয়ছেন ওই শিক্ষক।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের দারুল উলুম কোরআন মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটেছে। ভিডিও পোস্ট করা শিক্ষকের নাম ইমরান হোসেন।
তবে রোববার বিকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে জানিয়েছেন রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া। তবে ঘটনাটি নিয়ে খোঁজ-খবর নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
ঘটনার পর চেষ্টা করেও শিক্ষক ইমরান হোসেনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়। তিনি ওই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ছিলেন।
সম্প্রতি ইমরান ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। এতে প্রায় আড়াই মাস আগে তাকে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি টিকটক ও রিলস ‘আসক্ত’ ছিলেন বলে ভাষ্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের। বর্তমানে মাদ্রাসাটি বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষকের পোস্ট করা শিশুটির কান্নার ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে, কান্নারত এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে শিশুটির কান্না আরও বেড়ে যায়। সে হাত দিয়ে বেতটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষক থামেননি। উল্টো শিক্ষকের হাসি শোনা যায় ভিডিওতে।
বৃহস্পতিবার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সমালোচনার মুখে ওই শিক্ষক ভিডিওটি মুছে দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টটি নষ্ট করে দেন। এর মধ্যে শনিবার ফেইসবুকে লাইভে এসে দুঃখ প্রকাশ করে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন শিক্ষক ইমরান।
সেখানে তিনি বলেন, “ভিডিওটি আমিই ধারণ করেছি এবং আমিই প্রকাশ করেছি। ছোট বাবুটি আমার কাছে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে না পেরে সে কান্না শুরু করে। আমি তার কান্না থামানোর জন্য দুষ্টামি করে মুখে লাঠি ধরেছিলাম।
“আমি তাকে বেত্রাঘাত করিনি বা ধমকও দিইনি। বিষয়টি এভাবে দেখা হবে, আমি ভাবিনি। আমার ভুল হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।”
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ইমরান টিকটক ও রিলসে ‘আসক্ত’ ছিলেন। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নজরে আসে। অভিভাবকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রায় দুই মাস আগে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি চাকরিতে থাকাকালীন ধারণ করে রেখে পরে ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেন তিনি।
মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, “ইমরান একজন টিকটকার। শুরু থেকেই তার আচরণে নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভনমূলক আচরণ, অকারণে শাস্তি প্রদানের অভিযোগ উঠে।
“কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়। কিন্তু তিনি কারো কথাই শুনতেন না। এজন্য তাকে বরখাস্ত করা হয়।”
ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “ওই শিক্ষক রায়পুরে নেই। প্রায় একমাস ধরে মাদ্রাসাটিও বন্ধ আছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”