০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশন: ২১তম দিনে হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুক

প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আগামী ২০ জুলাই ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশন: ২১তম দিনে হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুক
৫৯ বছর বয়সী সোনম ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে যুব সংগঠন 'ককরোচ জনতা পার্টি'র (সিজেপি) সমর্থনে এই অনশন শুরু করেন। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Jul 2026, 10:26 AM

Updated : 19 Sep 2026, 02:25 PM

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করেছে কর্তৃপক্ষ। 

অনশনের ২১তম দিনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে শনিবার পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে যুব সংগঠন 'ককরোচ জনতা পার্টি'র (সিজেপি) সমর্থনে এই অনশন শুরু করেন। 

গত মে মাসে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন করে মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার (নিট-ইউজি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে সিজেপি।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি হাই কোর্ট সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছিল। 

মূলত ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষকে তাকে জোরপূর্বক খাওয়ানোর অনুরোধ জানিয়ে ওই আবেদনটি করা হয়েছিল।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে আগামী ২০ জুলাই ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছে সিজেপি। ওই দিন থেকেই ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা।

প্রতিবাদস্থলের একটি মঞ্চে ম্যাট্রেসের ওপর শুয়েই সিজেপির এই আন্দোলনের মূল কেন্দ্রে ছিলেন ওয়াংচুক। সেখানে তার সমর্থক ও দর্শনার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত ও ঘোরাঘুরি করছিলেন।

গত বছর লাদাখে এক সহিংস আন্দোলনের সময় উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ওয়াংচুককে অভিযুক্ত করেছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। প্রায় ছয় মাস কারাভোগের পর চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি মুক্তি পান।

সরকারের তোলা সব অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়াংচুক বলেছিলেন, ওই সহিংসতা ছিল মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি স্থানীয় মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

অনশনের তৃতীয় দিনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াংচুক বলেছিলেন, তার এই অনশন ছয় সপ্তাহ চলবে, যদি না তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি বলেছিলেন, “আশা করি আমাদের এত দূর যেতে হবে না। একটি সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের কষ্ট বোঝে এবং আমি আশা করি তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।”