Published : 19 Jul 2026, 06:54 PM
ইরাক সরকারের সঙ্গে ৪৮ টি চুক্তি ও অংশীদারিত্ব ঘোষণাপত্র সই করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি। এসব চুক্তির মধ্যে পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথে ইরাক-সিরিয়া তেল পাইপলাইন পুনর্নির্মাণের মতো বড় প্রকল্পও রয়েছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে এসব চুক্তি সই হয়।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, শনিবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া অফিস জানায়, ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৪৮টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, সহযোগিতা চুক্তি এবং অংশীদারিত্ব ঘোষণাপত্র সই হয়েছে।
এসব চুক্তির মধ্যে ইরাকের তেল ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সনমোবিল, কেবিআর, জিই ভার্নোভা, শেল এবং হ্যালিবার্টনের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব রয়েছে। এছাড়া, ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে একটি বড় অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন নির্মাণ সংক্রান্ত একাধিক চুক্তিও হয়েছে।
অন্যান্য চুক্তির মধ্যে বৈশ্বিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ খাতে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে ইরাক। এর মাধ্যমে দেশটিতে স্টারলিংকের সেবা চালু করা হবে। প্রাথমিক এই চুক্তিগুলো শুক্রবার ওয়াশিংটনে ইউএস চেম্বার অব কমার্সে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক ব্যবসায়িক সম্মেলনে সই হয়।
চুক্তিগুলো এমন সময়ে হল যখন ইরাক হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
একারণেই ইরাক ও সিরিয়া দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা তেল পাইপলাইন পুনর্নির্মাণে একটি সহযোগিতা চুক্তি করেছে। এই পাইপলাইন উত্তর ইরাকের তেলসমৃদ্ধ কিরকুক অঞ্চল থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর শহর বানিয়াস পর্যন্ত বিস্তৃত।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, চুক্তি অনুযায়ী এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানি শেভরন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রদপ্তর জানিয়েছে, তারা ইরাক ও সিরিয়ার পাইপলাইন পুনর্বাসন পরিকল্পনাকে স্বাগত জানায়। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম এই প্রকল্পের কারিগরি ও আর্থিক দিকগুলো বাস্তবায়ন করবে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাইপলাইন পুনর্বাসন সম্পন্ন হলে প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হবে।
তারা এই পাইপলাইনকে ইরাকের তেল উৎপাদনে ভূমধ্যসাগরীয় রপ্তানি বাজার এবং এর বাইরের অন্যান্য বাজারের সঙ্গে সংযুক্তকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম বারাক বলেছেন, ইরাকের সর্বশেষ তেল পাইপলাইন চুক্তিগুলো এমন এক কর্মসূচির পথ তৈরি করবে, যা ‘হরমুজ প্রণালিকে গুরুত্বহীন করবে।’
সিরিয়া পাইপলাইন প্রকল্পের পাশাপাশি শেভরন ইরাকের সঙ্গে তেল উৎপাদন বাড়াতে আরও দুটি চুক্তি করেছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির করপোরেট বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রেসিডেন্ট জেক স্পিয়ারিং।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইরাকের এই চুক্তিগুলোর মোট মূল্য ৬ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি।