Published : 27 Mar 2026, 10:19 AM
ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে হামলা স্থগিত রাখার মেয়াদ ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানের এক কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রস্তাবটি দিয়েছে, তা ‘একপেশে ও অন্যায্য’।
চার সপ্তাহ ধরে চলা এ যুদ্ধ এর মধ্যেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি হাজারো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে; এর সঙ্গে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে জোর আঘাত হেনেছে, বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির শঙ্কাও উসকে দিচ্ছে, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চলার মধ্যেই গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। এর পাল্টায় ইরানও ইসরায়েল, তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন শহর ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলায় নামে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে তাদের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর হুমকি দেন ট্রাম্প। পরে অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানি জ্বালানি কেন্দ্রে হামলা স্থগিতের মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়িয়ে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
“আলোচনা চলছে, ভুয়া খবরের মিডিয়া ও অন্যরা এ বিষয়ে উল্টোপাল্টা কথা বললেও তা বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে,” ট্রুথ সোশালে এ কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে ইরান বলে আসছে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনাই করছে না।
ইরানের কে বা কারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে ট্রাম্প তা খোলাসা করেননি। যুদ্ধে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির সিংহভাগ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাই এর মধ্যে নিহত হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প গত ২৩ মার্চ ৫ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়ানো হল।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ বা জ্বালানি কেন্দ্রে হামলা চালালে ইরানও উপসাগরের মার্কিন মিত্র দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি শোধনাগার স্থাপনায় পাল্টা হামলা এবং দেশগুলোকে পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।
দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, ইরান তাদের জ্বালানি কেন্দ্রে হামলা ১০ দিন স্থগিতের অনুরোধ জানায়নি।
ট্রাম্প পরে ফক্স নিউজের ‘দ্য ফাইভ’ অনুষ্টানে বলেন, ইরানিরা ৭ দিন স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল, তিনি ১০ দিন করে দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে তেহরানের দিক থেকে মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ড্রোন স্পিডবোট
যুদ্ধের কারণে নৌচলাচলে যে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে তাতে এরই মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মূল্যও ঊর্ধ্বমুখী। নাইট্রোজেন-নির্ভর সার, যা খাদ্য উৎপাদনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, তার দামও ৫০ শতাংশের কাছাকাছি বেড়েছে।
চাপের মুখে ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করার ব্যাপারে ট্রাম্প যতই আশাবাদ দেখান না কেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পাল্টায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ও সংবেদনশীল স্থাপনায় ইরানি পাল্টা হামলা এখনও অব্যাহত আছে।
তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরের বিভিন্ন দেশের জ্বালানি রপ্তানিও কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। যুদ্ধের আগে সঙ্কীর্ণ এই জলসীমা দিয়েই বিশ্বের তেল ও এলএনজি’র ২০ শতাংশ গন্তব্যে যেত।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ‘সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ’ দেখাতে ইরান এরই মধ্যে ১০টি তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সুযোগ দিয়েছে বলে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে ইঙ্গিত এসেছে। এর মধ্যে কয়েকটি পাকিস্তানি পতাকাবাহী নৌযানও রয়েছে, বলেছেন তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো টহলে মনুষ্যবিহীন ড্রোন স্পিডবোট মোতায়েন করেছে বলে রয়টার্সকে বলেছে পেন্টাগন। কোনো যুদ্ধে এই ধরনের যুদ্ধযান ব্যবহারের কথা ওয়াশিংটন এবারই প্রথম নিশ্চিত করল।
ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে বলেছেন, হরমুজ খুলে দেওয়া ও তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ইতি টানাসহ যেসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে তা না মানলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জন্য ‘ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে’ পরিণত হবে।
ওয়াশিংটন এখন যেসব বিকল্প নিয়ে ভাবছে, তার মধ্যে ইরানর তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি আছে জানালেও এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।