Published : 04 Jul 2026, 02:07 PM
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে তার ১৪ মাস বয়সি নাতনির কফিনও রাখা হয়েছে।
এনডিটিভি লিখেছে, তেহরানে ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় খামেনির স্বজনদের কফিন রয়েছে। সেখানে একটি ছোট কফিনে রয়েছে জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির মরদেহ। পাশে রয়েছে তার একটি ছবি।
স্থানীয় সময় শনিবার সকালে মুসাল্লায় খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সেখানে খামেনির কফিন আনা হয় ইরানের পতাকা মুড়িয়ে; তার কালো পাগড়ি রাখা হয়েছে কফিনের উপরে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার শুরুতে নিজ বাসভবনে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি। এসময় প্রাণ হারান তার স্বজনরাও।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ লিখেছে, মুসাল্লার দরজা খোলার কয়েক ঘণ্টা আগেই সেখানে এসে পৌঁছান ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুল সংখ্যক মানুষ। উপস্থিত মানুষের ভিড় এতই বেশি ছিল যে, ফজরের আজানের সময়ই দরজা খুলে দেওয়া হয়, যাতে মানুষ মসজিদ কমপ্লেক্সের মূল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারে।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা ইরানিদের হাতে দেখা গেছে দেশটির পতাকা, ‘বদ্ধ মুষ্টির’ প্রতীক, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং বর্তমান মুজতবা খামেনির ছবি। তারা একদিকে প্রয়াত নেতাকে বিদায় জানাচ্ছেন, অন্যদিকে বর্তমান নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছেন। এ সময় তারা ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন।
শোকার্ত একজন বলেন, “আমি এখানে এসেছি আমার প্রিয় নেতা আলি খামেনিকে বিদায় জানাতে। আমি কখনো এমন দিন দেখার আশা করিনি; এই ট্র্যাজেডির আগেই যদি আমার মৃত্যু হতো।”
‘আমাদের অবশ্যই জেগে উঠতে হবে’ এই স্লোগান এবং বদ্ধ মুষ্টির প্রতীক নিয়ে ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় দুই দিনের বিদায় অনুষ্ঠান চলছে।

দুটি দেশের পাঁচটি শহরজুড়ে ছয় দিন ধরে এই শোকানুষ্ঠান চলবে। এর মধ্যে সোমবার তেহরানে হবে প্রধান শোকযাত্রা। এ সময় খামেনির কফিনের পাশাপাশি একই হামলায় নিহত তার মেয়ে সাইয়্যেদা বুশরা হোসেইনি খামেনি, জামাতা মেসবাহ-উল-হুদা বাকেরি, পুত্রবধূ (বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার স্ত্রী) জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির মরদেহ বহন করা হবে।
শোকযাত্রার পর প্রয়াত নেতার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ইরানের শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রধান কেন্দ্র ও ধর্মীয় শিক্ষানগরী কোমে, যেখানে মঙ্গলবার জানাজা ও শোক অনুষ্ঠান হবে।
এরপর বুধবার খামেনির কফিন নেওয়া হবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকে। সেখানকার নাজাফ ও কারবালা শহরে শোকযাত্রা ও জানাজা হবে। ইরানের সমমনা ও মিত্র শিয়া গোষ্ঠীগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন সেখানে।
এরপর বৃহস্পতিবার ইরানের মাশহাদ শহরে আরেকটি শোভাযাত্রার পর হযরত ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে।