Published : 04 Jul 2026, 11:28 PM
জাতীয় সংসদ ভবনের নকশায় মার্কিন স্থপতি লুই কানের অবদান এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপত্যে বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রকৌশলী ফজলুর রহমান খানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তির কথা স্মরণ করেছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, “এই পারস্পরিক অবদান প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ ও আমেরিকা আক্ষরিক অর্থেই একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে।”
শনিবার রাজধানী ঢাকায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেছেন বলে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো মার্কিন সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের ঐতিহাসিক ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ ছিল এক অবিস্মরণীয় অবদান।

তার মতে, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই সংগীত আয়োজন একই মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে বহন করছে, যা শুধু বাণিজ্য বা কূটনীতি নয়, দুই দেশের মানুষের সম্পর্ককেও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বে রূপ দেবে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
দুই দেশের বিদ্যমান অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও সরকারকে ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ হবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তা দুই দেশের গভীর অংশীদারত্বের প্রমাণ।
পারস্পরিক স্বার্থ এবং অভিন্ন লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে।
‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কথা বললেন রাষ্ট্রদূত
অনুষ্ঠানে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা ঘোষণা করেছিলেন, ‘সকল মানুষ সমান’। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদারে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেকসই নিরাপত্তা অংশীদারত্ব ও আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে ককাস সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, মার্কিন ও অন্যান্য দেশের কূটনীতিক ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।