Published : 27 Mar 2026, 01:45 PM
ইরানে সামরিক অভিযানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হাতে যেসব বিকল্প আছে তার সংখ্যা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার পর্যন্ত অতিরিক্ত স্থলসেনা পাঠানোর কথা ভাবছে।
তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালোভাবে এগোচ্ছে’ বলে ট্রাম্পের দাবির মধ্যেই সেনা বাড়ানোর এ চিন্তা চলছে, এ বিষয়ে অবগত মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
যুদ্ধের আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ৫০ হাজারের মতো সেনা ছিল। ইরানের পাল্টা হামলার মুখে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন উপসাগরীয় অঞ্চলে দুটি মার্কিন মেরিন ইউনিট ও ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কয়েক হাজার সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এখন তার সঙ্গে আরও ১০ হাজারের মতো সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতিতে ইরানও এরই মধ্যে ১০ লাখের বেশি যোদ্ধা জড়ো করেছে বলে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির সামরিক এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম।
ইরানের বিভিন্ন শহরে বাসিজ আধাসামরিক বাহিনী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও নিয়মিত সেনাবাহিনীর নিয়োগ কেন্দ্রগুলোতে বিপুল সংখ্যক তরুণ স্বেচ্ছাসেবকের ভিড় দেখার কথা জানিয়ে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইরানের মাটিকে মার্কিন সেনাদের জন্য ‘ঐতিহাসিক জাহান্নাম’ বানানোর উদ্দীপনা স্থলযোদ্ধাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
চাপে মার্কিন সমরাস্ত্রের মজুদ
চার সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত এখন যুক্তরাষ্ট্রকে সরঞ্জাম ও আর্থিকভাবে চাপে ফেলেছে বলে আভাস দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ।
যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরোধমূলক অস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে আসছে বলেও তাদের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এমনটা হলে সামরিক বাহিনীকে ‘ডাম্ব বম্বস’ নামি পরিচিত পুরনো, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে নির্ভুল আঘাত হানতে অপারগ বোমা ব্যবহারে বাধ্য করতে পারে; নির্দিষ্ট পরিস্থিতি কিংবা কম বাজেটের অভিযানের জন্য বিমান বাহিনী সাধারণত এ ধরনের বোমা রিজার্ভে রাখে।
সংঘাতের প্রথম ১৬ দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা ১১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা ব্যবহার করেছে বলে খবর মিলেছে, সব মিলিয়ে যার খরচ দাঁড়াতে পারে আনুমানিক ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার।
ইরান যুদ্ধের জন্য পেন্টাগন এরই মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি ডলার বরাদ্দও চেয়েছে, যদিও যুদ্ধ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট সহসা এই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দে অনুমোদন দেবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।