Published : 21 Jul 2026, 04:59 PM
ভারতের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট)-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন শুরু করা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির পরদিন অবশেষে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
তিনি বলেছেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁস রোখা জাতীয় দায়িত্ব।” অর্থাৎ, তার কথায়, প্রশ্নফাঁস ঠেকানো কেবল সরকারের নয়, গোটা দেশের জাতীয় দায়িত্ব।
মঙ্গলবার এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সাংবাদিকদের একথা জানান। তিনি বলেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দোষীদের সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদী বলেন, “দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
কিরেন রিজিজু সাংবাদিকদের জানান, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নির্ভুল, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। মোদী আরও বলেন, সরকার ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস রুখতে পরীক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা জোরদার করবে “
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর পরিশ্রম ও স্বপ্ন নিয়ে যারা খেলছে, তাদের কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “যুবসমাজের ভবিষ্যৎ আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে।”
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে রিজিজু বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজে সমর্থন জানাতে এনডিএ জোটের অংশীদারদের ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং বিরোধী দলগুলোকে সংসদে গঠনমূলকভাবে কাজ করার আবেদন জানিয়েছেন মোদী।”
“তিনি (মোদী) বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের ভবিষ্যৎ ও যুবসমাজের কল্যাণে কাজ করার যৌথ দায়িত্ব সব সাংসদেরই রয়েছে।”
এনডিএ সাংসদদেরকে বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, “দেশের যুবসমাজ এগিয়ে যেতে চায় এবং তাদের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানানো সবার দায়িত্ব।” বিরোধী দলগুলিকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সংসদে তথ্যভিত্তিক ও গঠনমূলক আলোচনা হোক, অকারণ রাজনৈতিক সংঘাত নয়।”
জাতীয় স্বার্থ এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার আবেদনও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী সব পক্ষকে একযোগে এমন একটি ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনও সুযোগ না থাকে।
নিট-ইউজির প্রশ্নফাঁস-সহ আরও বেশ কিছু বিষয়ের প্রতিবাদে সোমবার সংসদ চলো মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজধানী দিল্লি।
আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। এই দাবিতে ‘ককরোচ’ দলের প্রতিবাদমঞ্চে যোগ দিয়েছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। এখনও পর্যন্ত অনশন ভাঙেননি তিনি।
সোমবার ককরোচ পার্টির সংসদ অভিমুখী মিছিল আটকাতে কড়া নিরাপত্তায় ঢেকে ফেলা হয়েছিল দিল্লিকে। তবে পুলিশের সব ‘বাধা’ কাটিয়ে সংসদ ভবনের বেশ কাছে পৌঁছে গিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা।
যদিও শেষপর্যন্ত সংসদ ভবন পর্যন্ত পৌঁছোতে পারেননি বিক্ষোভকারীরা। তার আগেই তাদের আটকে দেয় পুলিশ। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসও। ধরপাকড় করে পুলিশ।
এই বিক্ষোভ-সংঘর্ষর পরই নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মঙ্গলবার প্রথম মুখ খুললেন নরেন্দ্র মোদী।
ওদিকে, ‘ককরোচ’ দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতেও সরকার শেষপর্যন্ত রাজি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ‘শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি নিশ্চিত করবে’ বলে আশা প্রকাশ করেছেন ওয়াংচুক।