Published : 07 Apr 2026, 12:00 PM
পৃথিবী থেকে রেকর্ড ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে, চাঁদের রহস্যময় অন্ধকার অংশ ঘুরে এসে পৃথিবীর পথ ধরেছেন নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস টু মিশরেন চার নভোচারী।
এই যাত্রাপথে পৃথিবী থেকে মানুষের মহাকাশে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তারা। চাঁদের ‘ফার সাইড’ বা অন্ধকার অংশ প্রদক্ষিণ করার সময় সেই দৃশ্য দেখেছেন, যা আগে কখনো কোনো মানুষ দেখেনি।
নাসা জানিয়েছে, চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসতে মিশনের ওরিয়ন ক্যাপসুলের সময় লেগেছে সাত ঘণ্টার মত। এ সময় চাঁদের দূরবর্তী অংশের ছবিও ধারণ করা হয়েছে।
১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর মানবজাতির প্রথম চাঁদে প্রত্যাবর্তনের মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে এবারের অভিযান।
নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যানের নেতৃত্বে এই মিশনে আছেন ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।
তাদের ক্যাপসুল চাঁদের উল্টো পাশে গেলে পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় চাঁদ। এ সময় রেডিও সিগনাল যাতায়াত করতে না পারায় প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবী থেকে নভোচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকে।
সেই সময়টা পেরিয়ে আসার পর নভোচারীরা তাদের অভিজ্ঞতার গল্প নাসার মিশন কন্ট্রোল রুমে অপেক্ষায় থাকা বিজ্ঞানীদের শোনান।

মিশন পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, তারা যা দেখছেন তা বর্ণনা করা সত্যিই কঠিন।
“জানি, আমাদের এই পর্যবেক্ষণ হয়ত বৈজ্ঞানিকভাবে তেমন মূল্যবান নয়, কিন্তু আমি খুশি, ভাগ্যিস আমরা ১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করেছিলাম! আমরা আজ যা দেখেছি, মানুষ সম্ভবত এমন দৃশ্য দেখার জন্য এখনও বিবর্তিত হয়নি।”
মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান তার সঙ্গে যোগ করেন, “এ অভিজ্ঞতা বর্ণনাতীত। যতক্ষণই আমরা তাকিয়ে থাকি না কেন, আমাদের মস্তিষ্ক ওই দৃশ্য পুরোপুরি তৈরি করতে পারছে না। এটা অসাধারণ, পরাবাস্তব... এটা বোঝাতে কোনো বিশেষণই যথেষ্ট নয়—আমাকে নতুন শব্দ বানাতে হবে, জানালার বাইরে আমরা যা দেখছি, তা বোঝানোর মতো শব্দ নেই।”
চাঁদের দূরতম অংশ পর্যবেক্ষণের পর্ব শেষ হওয়ার পর মিশনের লাইভ সম্প্রচারে যোগ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি আর্টেমিস টুর নভোচারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আপনারা যা করছেন, এর মত কিছু মানুষ আগে কখনও দেখেনি। এটা সত্যিই অতুলনীয়।”
ট্রাম্প জিজ্ঞেস করেন, “হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?”
জবাবে ভিক্টর গ্লোভার বলেন, তিনি একটু প্রার্থনা করেছিলেন, এরপর চাঁদের দূরবর্তী অংশের বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহে মন দেন।
“আমরা এখানে খুব ব্যস্ত ছিলাম, বেশ চাপ গেছে। তবে বলতে হয়, অভিজ্ঞতাটা আসলে বেশ ভালোই ছিল।”
পৃথিবীতে ফেরার পর মিশনের চার নভোচারীকে হোয়াইট হাউজে যাওয়ার দাওয়াত দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ঐতিহাসিক ‘ফ্লাইবাই’
গত সপ্তাহে ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের পর থেকে আর্টেমিস টু নভোচারীরা নিজেদের ওরিয়ন ক্যাপসুলে অবস্থান করছেন।
বহু বিলিয়ন ডলারের এ সিরিজ মিশনের লক্ষ্য চীনকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারীদের পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং আগামী দশকে সেখানে দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
এছাড়া চাঁদে একটি ঘাঁটি তৈরি করতে চায় নাসা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে সম্ভাব্য মিশনের প্রস্তুতির জায়গা হিসেবে কাজ করবে।
অভিযানের ষষ্ঠ দিনে যুক্তরাষ্ট্র সময় সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ঘুম থেকে ওঠার পর তাদের শোনানো হয় অ্যাপোলো ৮ ও ১৩ মিশনের প্রয়াত নভোচারী জিম লোভেলের রেকর্ড করা এক বার্তা।
গত বছর ৯৭ বছর বয়সে মারা যাওয়া লোভেল জানতেন, মহাকাশে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে ভ্রমণের তাদের রেকর্ডটি এবার ভাঙতে যাচ্ছে আর্টেমিস টু মিশন।
এই মিশনের নভোচারীদের উদ্দেশে তিনি সেই বার্তায় বলে গেছেন, “আমার পুরানো এলাকায় তোমাদের স্বাগতম!
“ফ্র্যাঙ্ক বোরম্যান, বিল অ্যান্ডার্স আর আমি যখন অ্যাপোলো ৮-এ করে চাঁদ প্রদক্ষিণ করেছিলাম, তখন মানবজাতি প্রথমবার কাছ থেকে চাঁদকে দেখেছিল। পুরো পৃথিবীর এমন এক দৃশ্য পেয়েছিল, যা বিশ্ববাসীকে অনুপ্রাণিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিল।
“আজ আমি গর্বের সঙ্গে সেই মশাল তোমাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। তোমরা চাঁদের পাশ দিয়ে ঘুরে মঙ্গলে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করছ। এ ঐতিহাসিক দিন, তোমরা অনেক ব্যস্ত থাকবে জানি। তবে ওই দৃশ্য উপভোগ করতে ভুলো না। তোমাদের সবার জন্য শুভকামনা।”
বার্তাটি শোনার পর আর্টেমিস টু’র কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান মিশন কন্ট্রোলে রেডিওর মাধ্যমে বলেন, “জিম লোভেলের বার্তাটি অসাধারণ ছিল। তার কণ্ঠে আমাদের স্বাগত জানানো শুনতে খুব ভালো লেগেছে।”
এরপর যুক্তরাষ্ট্র সময় দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে পৃথিবী থেকে মানুষের সর্বোচ্চ দূরত্বে ভ্রমণের রেকর্ড গড়েন আর্টেমিস টু মিশনের নভোচারীরা।
এর আগে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো–১৩ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরত্ব পেরিয়েছিলেন।
সেই দূরত্ব পেরিয়ে আরো প্রায় ৪ হাজার ১০২ মাইল এগিয়ে গিয়ে পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল দূরত্বে পৌঁছানোর নতুন রেকর্ড গড়েন এবারের অভিযানের চার নভোচারী।

অ্যাপোলো ১৩-এর রেকর্ড ভাঙার পর কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, “আমরা পৃথিবী থেকে মানুষের এ যাবৎকালের সবচেয়ে দূরবর্তী পথ পেরিয়েছি। মহাকাশ গবেষণায় আমাদের পূর্বসূরীদের অসাধারণ পরিশ্রম ও সাফল্যকে সম্মান জানিয়েই আমরা এ কৃতিত্ব পেলাম।
“আমাদের এই প্রিয় পৃথিবী তার টানে আমাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা মহাকাশের আরও গভীরে আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখব।”
সবশেষে তিনি বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “তোমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন এই রেকর্ডটি খুব বেশিদিন টিকে না থাকে। তোমরা যেন শিগগিরই রেকর্ডটি ভেঙে আরও দূরে যেতে পার।”
এরপর চাঁদের দুটি নতুন গহ্বরের নামকরণ করেন নভোচারীরা, যা তারা মহাকাশযান থেকে খালি চোখে দেখতে পাচ্ছিলেন।
চাঁদের ‘ওম’ গর্তের কাছে অবস্থিত একটি গহ্বরেন নাম রাখা হয় তাদের ওরিয়ন মহাকাশযানের সম্মানে ‘ইন্টেগ্রিটি’।
আর ‘গ্লুশকো’ নামের এক উজ্জ্বল গর্তের পাশে অন্য গহ্বরের নাম তারা রাখেন ‘ক্যারল’। আর্টেমিস টু মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের প্রয়াত স্ত্রী ক্যারল টেলর ওয়াইজম্যানের স্মরণে এই নাম।
জেরেমি হ্যানসেন যখন এই নামগুলো প্রস্তাব করছিলেন, তখন আবেগে তার গলা কেঁপে উঠছিল। তার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চার নভোচারী একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। এ দৃশ্য দেখে হিউস্টনে নাসার কন্ট্রোল রুমেও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়
মহাকাশযানের জানালা দিয়ে দেখা দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে ওয়াইজম্যান বলেন, “এখান থেকে পৃথিবীকে ছোট এক বাঁকা চাঁদের মতো দেখাচ্ছে, চমৎকার! আমি একটি ছবিও তুলেছি... এখান থেকে দৃশ্যটা সত্যিই রাজকীয়।”

নাসা জানায়, ওরিয়ন মহাকাশযান চাঁদের আড়ালে চলে যায় যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে। এরপর নভোচারীরা মহাকাশের অন্ধকারে ডুবে যান এবং পৃথিবীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, কারণ চাঁদ তখন তাদের ও নাসার ‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’-এর মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’ হচ্ছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বড় রেডিও অ্যান্টেনা ব্যবস্থা, যা দিয়ে পৃথিবী থেকে নভোচারীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ওই সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যা ৭টায় মহাকাশযানটি চাঁদের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায়। চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশযানের উচ্চতা ছিল প্রায় ৪ হাজার ৬৭ মাইল।
এর দুই মিনিট পর ক্রুরা পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্বে পৌঁছে মানব মহাকাশযাত্রার নতুন রেকর্ড গড়েন।
চাঁদের দূরবর্তী অংশের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় ক্রুরা পৃথিবীর এই উপগ্রহের পিঠে আঘাতজনিত গর্ত, প্রাচীন লাভা প্রবাহ, এবং সময়ের সঙ্গে বিবর্তনে তৈরি হওয়া ফাটল ও উঁচু-নিচু গঠনের মত ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের ছবি তোলেন এবং সেসব বর্ণনা রেকর্ড করেন।
তারা রং, উজ্জ্বলতা ও গঠনের পার্থক্যও লক্ষ্য করেন, যা চাঁদের পৃষ্ঠের গঠন ও ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেবে।
চাঁদের চারপাশ দিয়ে ঘোরার সময় নভোচারীদের চোখে পড়ে পৃথিবীর অস্ত যাওয়ার এবং ‘উদয়’ হওয়ার বিরল মুহূর্ত, যা পৃথিবী থেকে দেখা চন্দ্রোদয়ের মহাজাগতিক দৃশ্যের উল্টো রূপ।

চন্দ্র পর্যবেক্ষণ পর্ব শেষ হওয়ার সময় মহাকাশযান, চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করায় প্রায় এক ঘণ্টা একটি সূর্যগ্রহণও তারা দেখেন।
অন্ধকারে ঢাকা চাঁদের প্রেক্ষাপটে তারা সূর্যের বহিঃস্তর বা করোনা বিশ্লেষণ করেন, যা চাঁদের প্রান্ত ঘিরে দেখা যাচ্ছিল।
ওই গ্রহণের সময় ক্রুরা এমন কিছু বিরল দৃশ্য দেখার সুযোগ পান, যা সাধারণত চাঁদের অন্ধকার অংশে ছাড়া দেখা যায় না।
তারা জানান, প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার মাইল গতিতে ছুটে আসা উল্কাপিণ্ড চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার ছয়টি আলোর ঝলক তারা দেখতে পেয়েছেন।
হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নাসার ‘সায়েন্স ইভালুয়েশন’ রুমে বিজ্ঞানীরা ওরিয়ন থেকে নভোচারীদের তোলা সেইসব ছবির জন্য অপেক্ষা করছেন। পাশাপাশি ফ্লাইবাই বা চাঁদ ঘিরে ঘোরার সময় তোলা অন্যান্য ডেটাও বিশ্লেষণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মহাকাশযান থেকে রাতভর তথ্য ডাউনলিংক হওয়ার পর, বিজ্ঞানীরা ছবি, অডিও ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে আলোক ঝলকের সময় ও অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা করবেন। একই সময়ে চাঁদ পর্যবেক্ষণ করা অপেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছ থেকেও তথ্য নেবেন।
মঙ্গলবার নাসার লাইভ সম্প্রচারের অংশ হিসেবে ক্রুরা তাদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে চন্দ্রবিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পৃথিবীর সঙ্গে মহাকাশযানের রেডিও যোগাযোগ পুনস্থাপিত হয়।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ওই ৪০ মিনিট নভোচারীরারই তাদের মহাকাশযানের দেখভাল করেন। ইঞ্জিন ও গতিপথের নিয়ন্ত্রণ ছিল ওরিয়নের কম্পিউটারের হাতে।
রেডিও যোগাযোগ ফেরার পর ওরিয়ন থেকে মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, “এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়ার মানুষদের উদ্দেশে, আমরা আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছি, আপনারাও এখন আকাশের দিকে তাকালে চাঁদ দেখতে পাবেন। আমরাও আপনাদের দেখতে পাচ্ছি।”
আর্টেমিস টুর যাত্রা শুরুর সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যখন আমরা এই মহাকাশযানে করে চাঁদের দিকে রওনা হলাম, তখন বলেছিলাম, আমরা পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছি না, বরং পৃথিবীকেই বেছে নিচ্ছি—এটাই সত্যি।
“আমরা অনুসন্ধান করব, আমরা গড়ে তুলব, আমরা মহাকাশযান তৈরি করব, আমরা আবার চাঁদে আসব। আমরা বৈজ্ঞানিক ঘাঁটি গড়ে তুলব, রোভার চালাব, কোম্পানি গড়ে তুলব, শিল্পকে শক্তিশালী করব।
“আমরা অনুপ্রেরণা দেব, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সবসময় পৃথিবীকেই বেছে নেব।”
পরে নাসার লাইভ সম্প্রচারে যুক্ত হন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রশ্নে কমান্ডার ওয়াইজম্যান বলেন, “আমরা এমন দৃশ্য দেখেছি, যা কোনো মানুষ আগে কখনও দেখেনি, এমনকি অ্যাপোলো মিশনও না। এটা আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য।”
তিনি সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের মধ্য দিয়ে মানুষ হয়ে উঠবে দুই-গ্রহের বাসিন্দা, সেটা ভেবে তারা রোমাঞ্চিত।
চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে শুরু হয় আর্টেমিস টু মিশনের ফিরতি যাত্রা। পৃথিবীতে ফিরে আসতে তাদের প্রায় চার দিন সময় লাগবে।
১০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটে প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়নের অবতরণ (স্প্ল্যাশডাউন) করার কথা রয়েছে। উদ্ধারকারী দল পানিতে ভাসমান ক্যাপসুল থেকে নভোচারীদের তুলে নেবে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে, তারপর তাদের মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজে নিয়ে যাওয়া হবে।
নাসা জানিয়েছে, স্থলভাগে ফেরার পথে ওই জাহাজেই নভোচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
