Published : 21 Jul 2026, 10:23 AM
নারীদের ব্যবহৃত বেশ কিছু জনপ্রিয় পিরিয়ড ট্র্যাকিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের সংবেদনশীল স্বাস্থ্য তথ্য এবং ডিভাইসের আইডি নম্বর গুগল, মেটা ও টিকটকের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানির কাছে পাচার করছে, যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে ঝুঁকিতে ফেলছে বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।
মজিলা ফাউন্ডেশনের নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে কোন কোন অ্যাপ ব্যবহারকারীর প্রাইভেসি রক্ষা করছে, আর কোনগুলো করছে না। যেমন, ‘স্টারডাস্ট’ নামের জনপ্রিয় এক পিরিয়ড ট্র্যাকিং অ্যাপ ঋতুচক্রের হিসাবের সঙ্গে জ্যোতির্বিদ্যা ও রাশিফলের সমন্বয় ঘটায়।
নিজেদের ওয়েবসাইটে ‘স্টারডাস্ট’ বেশ বড় গলায় দাবি করেছে, “আপনার ডেটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। ব্যস, এটুকুই।”
তবে শুধু বিবিসির সঙ্গে শেয়ার করা মজিলার এক নতুন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, “ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট শব্দটির সংজ্ঞা আপনার কাছে যা, স্টারডাস্টের কাছে তা নাও হতে পারে।”
ফায়ারফক্স ওয়েব ব্রাউজারের নির্মাতা কোম্পানি ‘মজিলা ফাউন্ডেশন’ ছয়টি জনপ্রিয় পিরিয়ড ট্র্যাকিং অ্যাপের প্রাইভেসি নীতি পরীক্ষা করেছে। এসব অ্যাপ হচ্ছে, ফ্লো, ক্লু, স্টারডাস্ট, স্পট অন, পিরিয়ড ক্যালেন্ডার ও ইউকি।
গবেষণায় উঠে এসেছে, কিছু অ্যাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হলেও তারা ব্যবহারকারীদের তথ্য গুগল, মেটা ও টিকটকের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানির পাশাপাশি এমন সব থার্ড-পার্টি কোম্পানির সঙ্গে শেয়ার করছে, যাদের নাম সাধারণ মানুষ কখনও শোনেইনি।
আইনগতভাবে এতে কোনো বাধা না থাকলেও ২০২২ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গর্ভপাতের কেন্দ্রীয় সুরক্ষা আইন বাতিলের পর থেকে বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে বেশ চিন্তিত।
তাদের আশঙ্কা, পিরিয়ড ট্র্যাকিং অ্যাপ থেকে সংগ্রহ করা এ সংবেদনশীল ডেটা পরবর্তীতে আইনি বা ফৌজদারি মামলায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এর আগেও পুলিশ বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির কাছ থেকে নারীদের ব্যক্তিগত ডেটা সংগ্রহ করে তা আদালতে ব্যবহার করেছে।
তবে আশার কথাও রয়েছে। এর আগেও পিরিয়ড ট্র্যাকিং অ্যাপগুলোর প্রাইভেসি নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল, যার ফলে মজিলা বলেছে, কিছু অ্যাপ এরইমধ্যে তাদের নীতিমালায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। আবার কিছু অ্যাপের মূল লক্ষ্যই শতভাগ প্রাইভেসি ধরে রাখা। যেমন, ‘ইউকি’ অ্যাপটিকে নিরাপদ বলে উল্লেখ করেছে মজিলা।
নিরাপদ পিরিয়ড ট্র্যাকিং অ্যাপ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের চারটি মূল প্রশ্ন মাথায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে মজিলা।
ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্য তথ্য আসলে কারা দেখছে?
মজিলা ফাউন্ডেশন তাদের গবেষণায় বিভিন্ন অ্যাপের মধ্যে নানাবিধ প্রাইভেসি ত্রুটি খুঁজে পেলেও কেবল ‘স্টারডাস্ট’ অ্যাপটির ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য অন্য কোম্পানির সঙ্গে শেয়ারের প্রমাণ পেয়েছে।
মজিলার প্রতিবেদনে বলছে, স্টারডাস্ট ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য ‘রাডারস্ট্যাক’ নামের এক ডেটা ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছে পাঠায়, যার উল্লেখ অ্যাপটির নিজস্ব প্রাইভেসি পলিসিতেও নেই।
এ ডেটার মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর গর্ভাবস্থার অবস্থা, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, মেজাজ বা মুড, অ্যালকোহল পানের অভ্যাস ও স্তনে ব্যথা বা পেটে মোচড় দেওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট সব শারীরিক উপসর্গ।
সাধারণত বিভিন্ন কোম্পানি তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবহারকারীদের আচরণ বিশ্লেষণের জন্য বাইরের বিভিন্ন পরিষেবার সঙ্গে ডেটা শেয়ার করে থাকে। আইনগতভাবে এতে কোনো ভুল নেই ও রাডারস্ট্যাক বা মজিলার প্রতিবেদনে উল্লিখিত কোনো কোম্পানি কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে এমনটা করছে এমন ভাবারও কোনো কারণ নেই।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারো ব্যক্তিগত ডেটা যত বেশি জায়গায় ছড়াবে, ঝুঁকির মাত্রা ততটাই বাড়বে। ফলে ডেটা হ্যাকিংয়ের সুযোগ তৈরি হয় বা আইনি প্রয়োজনে তথ্য হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা দেখা দিতে পারে। সম্পূর্ণ অপরিচিত কোনো কোম্পানি কারো স্বাস্থ্য তথ্য দেখছে বিষয়টি যে কোনো ব্যবহারকারীর জন্যই অস্বস্তিকর।
স্টারডাস্টের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, কোম্পানিটি রাডারস্ট্যাক’কে কেবল তাদের নিজস্ব অ্যানালিটিক্স সিস্টেমে ডেটা স্থানান্তরের একটি ‘টেকনিক্যাল পাইপলাইন’ হিসেবে ব্যবহার করে। অ্যাপটি এমন কোনো তথ্য শেয়ার করে না যা দিয়ে রাডারস্ট্যাক ব্যবহারকারীর নাম বা যোগাযোগের ঠিকানা শনাক্ত করতে পারে।
“চুক্তি অনুসারে রাডারস্ট্যাকের ডেটা বিক্রি করার বা নিজস্ব কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কোনো অধিকার নেই এবং তারা এসব ডেটা দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণও করে না।”
মজিলার এ পরীক্ষাটি চালানো প্রাইভেসি রিসার্চ অ্যানালিস্ট শোশানা ওডিনস্কি বলেছেন, “মানুষের আরও উন্নত নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।” তার মতে, অন্তত নিজের ডেটা নিয়ে পর্দার আড়ালে কী ঘটছে তা ব্যবহারকারীর স্পষ্টভাবেই জানা উচিত।
অন্যদিকে, যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক সংগঠন ‘প্ল্যানড প্যারেন্টহুড’-এর তৈরি অ্যাপ ‘স্পট অন’-এর ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্য তথ্যের প্রাইভেসি নিয়ে সমস্যা দেখা গেছে। তবে এখানকার পরিস্থিতি কিছুটা জটিল।
মজিলা বলেছে, স্পট অন অ্যাপটি নিজে থেকে অন্য কোম্পানির সঙ্গে ডেটা শেয়ার করে না বা ব্যবহারকারীদের ট্র্যাক করার চেষ্টা করে না। তবে অ্যাপটির কিছু নির্দিষ্ট ফিচার, যেমন ‘রু’ নামের এআই চ্যাটবট ও ডাক্তার খোঁজার টুল ব্যবহার করতে গেলে ব্রাউজারে ‘প্ল্যানড প্যারেন্টহুড’-এর মূল ওয়েবসাইটটি খুলে যায়। এ ওয়েবসাইটটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা অ্যাপের মতো অতটা সুরক্ষিত নয়।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ, প্ল্যানড প্যারেন্টহুডের ওয়েবসাইটটি ব্যবহারকারী কোন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা খুঁজছেন সেই তথ্য ‘এবি টেস্টি’ নামের এক অ্যানালিটিক্স কোম্পানির সঙ্গে শেয়ার করে। যার মধ্যে ব্যবহারকারী এইচআইভি পরীক্ষা বা জেন্ডার-অ্যাফার্মিং কেয়ার বা লিঙ্গ রূপান্তর সংক্রান্ত সেবা খুঁজছেন কি না, সেই তথ্যও চলে যায়।
ওডিনস্কি বলেছেন, বাইরের থার্ড-পার্টি সার্ভিসগুলো যাতে ব্যবহারকারীর সার্চ হিস্ট্রি জানতে না পারে, সেভাবে ওয়েবসাইটটিকে সুরক্ষিত করা খুবই সহজ।
“কেউ চাইলে হয়ত কেবল এক বিকেলের মধ্যেই এ ত্রুটি ঠিক করে ফেলতে পারে।”
প্ল্যানড প্যারেন্টহুডের প্রাইভেসি নীতি নিয়ে এমন সমালোচনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। চার বছর আগেও তাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ত্রুটি ধরা পড়েছিল। তবে এ প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
ব্যবহারকারী যে অ্যাপটি ব্যবহার করছেন তা কারা জানতে পারছে?
মজিলা ফাউন্ডেশন বলেছে, এ প্রতিবেদনের অধিকাংশ অ্যাপই ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরাসরি শেয়ার করে না। তবে, অন্য কিছু উপায়ে তারা ব্যবহারকারীকে নজরদারিতে রাখছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক পিরিয়ড ট্র্যাকিং অ্যাপই ব্যবহারকারীর মৌলিক তথ্য বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ও অ্যানালিটিক্স সার্ভিসের কাছে পাঠায়। যার মধ্যে গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট ও টিকটকের মতো বড় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।
সাধারণত এসব তথ্যের মধ্যে নির্দিষ্ট আইডি নম্বর বা এমন কিছু ডেটা থাকে, যা দিয়ে ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব। এগুলো ‘টার্গেটেড অ্যাড’ বা ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুসারে বিজ্ঞাপন দেখানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি এর মাধ্যমে ইন্টারনেটের অন্যান্য জায়গায় ব্যবহারকারীর কর্মকাণ্ড ট্র্যাক করে থাকে। অ্যাপগুলোর ‘প্রাইভেসি পলিসি’তে সম্মতি দেওয়ার মাধ্যমেই ব্যবহারকারীরা অজান্তেই এই অনুমতি দিয়ে দিচ্ছেন।
বিষয়টি সবার কাছে উদ্বেগের না হলেও অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংগঠন ‘ইলেক্ট্রনিক প্রাইভেসি ইনফরমেশন সেন্টার’-এর ভোক্তা প্রাইভেসি প্রোগ্রামের পরিচালক সারা গেওহেগান বলেছেন, ব্যবহারকারী যে একটি প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক অ্যাপ ব্যবহার করছেন কেবল এই সত্যটি প্রকাশ পেয়ে যাওয়ারও মারাত্মক পরিণতি হতে পারে।
অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি এমনটা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সংকেত দিতে পারে যে, এ ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের বড় ভাণ্ডার ওখানেই রয়েছে।
“একটি পিরিয়ড ট্র্যাকিং অ্যাপ থেকে সংগৃহীত ডেটা নজরদারির বড় এক জালের অংশ মাত্র, যা খুবই সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস করে দিতে পারে।”
যেমন মজিলার প্রতিবেদন অনুসারে, ‘পিরিয়ড ক্যালেন্ডার’ বা ‘পিরিয়ড ট্র্যাকার’ নামেও পরিচিত অ্যাপটি ব্যবহারকারীর আইডি নম্বর এবং ডিভাইসের তথ্য গুগল ও বিজ্ঞাপন কোম্পানি ‘ইনমোবি’র কাছে পাঠায়। আর অ্যাপটিতে এমনটা বন্ধের কোনো উপায় নেই।
মজিলার প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, ‘স্টারডাস্ট’ অ্যাপটিও ফেইসবুক ও বিজ্ঞাপন অ্যানালিটিক্স কোম্পানি ‘অ্যাপসফ্লায়ার’-এর সঙ্গে একই ধরনের ডেটা শেয়ার করে। তবে ফোনের প্রাইভেসি সেটিং থেকে ব্যবহারকারীরা চাইলে তা বন্ধ করতে পারেন।
অন্যদিকে, ‘স্পট অন’ অ্যাপের মাধ্যমে প্ল্যানড প্যারেন্টহুডের ওয়েবসাইট অ্যাক্সেস করা হলে গুগল, মাইক্রোসফট, টিকটক ও পিন্টারেস্টের মতো কোম্পানির সঙ্গেও একই ধরনের তথ্য শেয়ার হয়। আর এমনটা বন্ধের কোনো সুযোগ নেই।
স্টারডাস্টের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, “আমরা বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কোনো স্বাস্থ্য তথ্য শেয়ার করি না। আমরা কেবল আমাদের বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেইনগুলোর কার্যকারিতা পরিমাপ এবং উন্নয়নের জন্য অ্যাপসফ্লায়ার ও মেটা ব্যবহার করি।”
এ বিষয়ে বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি ‘পিরিয়ড ক্যালেন্ডার’।
এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীর ডেটা কোথায় সংরক্ষণ করছে?
পুরো তালিকায় মজিলা ফাউন্ডেশন একমাত্র ‘ইউকি’ অ্যাপটিকে কোনো শর্ত ছাড়াই ব্যবহারের সুপারিশ করেছে।
মজিলা গবেষক শোশানা ওডিনস্কি বলেছেন, “ইউকি অ্যাপটি সত্যিই অনন্য।”
এ তালিকার অন্য সব অ্যাপের তুলনায় ইউকি’র বিশেষত্ব হচ্ছে, অ্যাপটি ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সব তথ্য তার নিজস্ব ডিভাইসেই সংরক্ষণ করে। কোম্পানির নিজস্ব সার্ভারেও কোনো তথ্য পাঠায় না।
অ্যাপটি ব্যবহার করতে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলারও প্রয়োজন হয় না। ফলে ব্যবহারকারী সম্পূর্ণ বেনামী থাকতে পারেন। ইউকি’তে একটি ‘ডেকয়’ বা ছদ্মবেশী ফিচার রয়েছে। কেউ যদি ব্যবহারকারীর ফোন কেড়ে নিয়ে জোর করে অ্যাপটি দেখার চেষ্টা করে তবে এ ফিচারের কারণে অ্যাপটি কিছু ভুয়া তথ্য দেখাবে।
অধিকার কর্মী সারা গেওহেগান বলেছেন, এমনটা প্রমাণ করে যে, চাইলে আরও নিরাপদ উপায়ে প্রযুক্তি তৈরি করা সম্ভব।
“ক্ষতিকর চর্চার ওপর ভিত্তি করে প্রযুক্তি তৈরি না করেও যে দারুণ সেবা দেওয়া যায় ইউকি তারই প্রমাণ। আমাদের এমন প্রযুক্তির দিকেই যাওয়া উচিত।”
নিরাপত্তার দিক থেকে ‘ফ্লো’ ও ‘ক্লু’ অ্যাপ দুটি ইউকি’র মতো কঠোর না হলেও স্পষ্ট প্রাইভেসি নীতি এবং নিখুঁত প্রাইভেসি কন্ট্রোলের কারণে মজিলার পরীক্ষায় বেশ ভালো স্কোর পেয়েছে।
মজিলার পর্যবেক্ষণ অনুসারে, এ দুটি অ্যাপ কোনো অবস্থাতেই থার্ড-পার্টির সঙ্গে ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্য তথ্য শেয়ার করে না। তবে কেউ যখন তাদের অ্যাপ ব্যবহার করছেন সেই তথ্যটি তারা বিজ্ঞাপন ও অ্যানালিটিক্স পার্টনারদের জানায়, যা তাদের প্রাইভেসি পলিসি ও কনসেন্ট পপ-আপে স্পষ্ট উল্লেখ থাকে। ব্যবহারকারীরা চাইলে অ্যাপের প্রাইভেসি সেটিং থেকে সহজেই তা বন্ধ করে দিতে পারেন।
তবে ফ্লো ও ক্লু অ্যাপের একটি বিষয়ের সমালোচনা করেছে মজিলা। অ্যাপ দুটি অন্যান্য অ্যাপের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্য তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেগুলো নিজস্ব ক্লাউড সার্ভারে জমা রাখে, যেখানে ইউকি অ্যাপটি সব ডেটা কেবল ব্যবহারকারীর ফোনেই রাখে।
ওডিনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, ফ্লো ও ক্লু যদি এসব তথ্য কখনো শেয়ার নাও করে তাও তাদের সার্ভারে ডেটার এ কপিটি থেকে যাওয়ার কারণে হ্যাকিং বা সরকারি আইনি নোটিশের মাধ্যমে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি থেকেই যায়। ব্যবহারকারীদের এ ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
ফ্লো ও ক্লু-এর মুখপাত্ররা এই ঝুঁকির বিষয় অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ক্লাউডে তথ্য সংরক্ষণ করা তাদের সেবা দেওয়ার জন্য জরুরি এবং এসব ডেটা সুরক্ষিত রাখতে তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।
ফ্লো-এর মুখপাত্র সামান্থা ওয়ানেমাখার বলেছেন, যেসব ব্যবহারকারী ডেটা চেয়ে সরকারি অনুরোধ বা আইনি নোটিশের বিষয়ে চিন্তিত, তারা অ্যাপটির ‘অ্যানোনিমাস মোড’ ব্যবহার করতে পারেন। এ মোড নিশ্চিত করবে, ফ্লো-সহ কেউই একই সময়ে একজন ব্যবহারকারীর আসল পরিচয় ও তার স্বাস্থ্য তথ্য দুটো একসঙ্গে দেখতে পাবে না। ফ্লো এ পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের ডেটা চেয়ে কোনো আইনি সমন পায়নি। পেলেও কোম্পানিটি এর বিরুদ্ধে লড়াই করবে।
ক্লু ও ফ্লো উভয় কোম্পানির সদর দপ্তরই ইউরোপে হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় ডেটা হাতিয়ে নেওয়া বেশ কঠিন।
ক্লু-এর প্রধান নির্বাহী রিয়ানন হোয়াইট বলেছেন, “আমরা কখনোই কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য তথ্য প্রকাশ করিনি এবং ভবিষ্যতেও কখনো করব না।”