শিশু-কিশোরদের নিয়ে হয়ে গেল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ
প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শিশুদের জন্য স্পেস রোবটিক্স, রোবটিক্স কর্মশালা, রকেটারি কর্মশালা, স্পেস আর্ট এবং বিভিন্ন ইন্টার্যাকটিভ স্পেস সায়েন্স কার্যক্রম ছিল।
মহাকাশবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি শিশু-কিশোরদের আগ্রহ বাড়াতে ঢাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’।
স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প ও বিইউবিটি’র যৌথ এ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন স্কুলের ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুরা অংশ নিয়েছে।
আয়োজনের অন্যতম প্রধান পর্ব ছিল ‘স্পেস স্টোরিটেলিং’ প্রতিযোগিতা। প্রথম ধাপে অংশগ্রহণকারীরা মহাকাশ নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন, চিন্তা, কল্পনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিন মিনিটের উপস্থাপনা করে। সেখান থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা দ্বিতীয় ধাপে পাঁচ মিনিটের চূড়ান্ত স্টোরিটেলিংয়ে অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শিশুদের জন্য ছিল মহাকাশবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন হাতে-কলমে কার্যক্রম। এর মধ্যে স্পেস রোবটিক্স, রোবটিক্স কর্মশালা, রকেটারি কর্মশালা, স্পেস আর্ট এবং বিভিন্ন ইন্টার্যাকটিভ স্পেস সায়েন্স কার্যক্রম ছিল।
ভার্চুয়াল রিয়ালিটির মাধ্যমে শিশুদের মহাকাশের বিভিন্ন অভিজ্ঞতাও দেখানো হয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্প ও কল্পনাভিত্তিক এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিশুদের মহাকাশবিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন আয়োজকরা।
অংশগ্রহণকারীরা ৬ থেকে ৮ বছর, ৯ থেকে ১১ বছর এবং ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী তিনটি দলে অংশ নিয়েছে। দুই ধাপের প্রতিযোগিতা শেষে তিন দল থেকে মোট ১৫ জনকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিইউবিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এ বি এম শওকত আলী। তিনি শিশুদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি কৌতূহলী হওয়ার পাশাপাশি বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক ও মহাকাশ গবেষক। নতুন প্রজন্মকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞানের উদ্ভাবক হিসেবে নিজেদের তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিইউবিটির ফ্যাকাল্টি অফ কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ডিন ড. মুহাম্মদ আমিনুর রহমান।
বিচারকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটি অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেসের সহযোগী অধ্যাপক আল ইমতিয়াজ। শিশুদের উপস্থাপনা, মহাকাশ নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি কৌতূহল ধরে রাখার আহ্বান জানান।
স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট আরিফুল হাসান অপু বলেন, “আমরা চাই শিশুরা মহাকাশ নিয়ে প্রশ্ন করুক, নিজের মতো করে ভাবুক, গল্প বলুক, রোবট তৈরি করুক, রকেট নিয়ে জানুক এবং ভবিষ্যতের পৃথিবী ও মহাকাশকে কল্পনা করুক।”
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও বিচারকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। তিনটি বয়সভিত্তিক দলের ১৫ বিজয়ীর হাতে মেডেলও তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজনে প্রযুক্তি ও এআই পার্টনার হিসেবে ছিল রাইজ আপ ল্যাবস এবং পেমেন্ট পার্টনার হিসেবে ছিল সূর্যপে। অতিথি, বিচারক, স্বেচ্ছাসেবক, অভিভাবক ও অংশগ্রহণকারীদের সহযোগিতায় দিনব্যাপী আয়োজনটি শেষ হয় পুরস্কার বিতরণ, সম্মাননা প্রদান ও দলীয় ছবি তোলার মধ্য দিয়ে।
