Published : 22 Jul 2026, 11:16 PM
ইউনিয়ন পরিষদ-ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
বুধবার নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে হাই কোর্টের রুল জারির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
“রুলের বিষয়ে আপনাদের মাধ্যমে শুনলাম, এটা আগে দেখতে হবে। দেখার প্রেক্ষিতে আমাদের বিদ্যমান আইন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কী অবস্থা আছে এবং এই সম্পর্কিত আর কোনো আইনের ‘রুলিং’ বা ‘জাজমেন্ট’ আছে কিনা, সেগুলো দেখে পরে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।”
ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কেন স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা এক রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রুল জারি করে।
এলজিআরডি সচিব, আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় ভোটের প্রস্তুতি, অক্টোবরে প্রথম ধাপ
স্থানীয় সরকারের নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-বিধি সংস্কারের কাজ চলছে। অক্টোবরে প্রথম ধাপের ভোট করতে চায় ইসি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অগ্রগতির বিষয়ে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো করার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আমরা প্রস্তুত। আমরা আশা রাখি, অক্টোবরে হয়তো প্রথম ধাপের নির্বাচন আমরা করতে পারব। এ উপলক্ষে অগাস্টের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা নিতে পারব।”
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মত ধাপে ধাপে ভোট নেওয়া হতে পারে। কম সময়ে যাতে বেশি নির্বাচন করা যায়, সে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপে কোন নির্বাচন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যেসব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নাই, আইনগতভাবে মেয়াদ শেষ হয়েছে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেব। তবে কোন নির্বাচন আগে হবে, তা আমি নির্দিষ্ট করে বলব না।
“আইনশৃঙ্খলা শতভাগ নিশ্চিত করে যেই যেই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন ওঠানো সম্ভব হবে, সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে আগে করব। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলাদা আলাদা ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।”
সিটি প্রশাসকরা ভোট করতে পারবেন?
লাভজনক পদ হওয়ায় সিটি করপোরেশনের মেয়রের পদে থেকে সিটি মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। তবে পদত্যাগ করে মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর সিটি মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে বিএনপি নেতারা সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।
ইতোমধ্যে লাভজনক পদে থেকে ভোটে অংশ নেওয়া যাবে না-এমন বিধান করে আইন সংশোধন করার প্রস্তাব রয়েছে।
বিদ্যমান আইনে যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়, তবে কি প্রশাসকরা আদৌ নির্বাচন করতে পারবেন?
জবাবে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “এ বিষয়টা যাতে পরিষ্কার হয়, সেই ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশন করবে।”
‘সংশোধন বিলম্বে নির্বাচন বিলম্ব নয়’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধনের জন্য বেশকিছু সুপারিশ দিতে যাচ্ছে ইসি। চলতি মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে সুপারিশগুলো পাঠাবে ইসি।
আইন সংশোধনের বিলম্বের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছানোর কোন সুযোগ নেই বলেছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তিনি বলেন, “আইন সংশোধনের সঙ্গে নির্বাচন পেছানো বা বিলম্বিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো সংশোধন হয়, সে আইনেই বলা থাকবে যে এটি কবে থেকে কার্যকর হবে। আর যদি সংশোধন নাও হয়, বিদ্যমান আইন তো রয়েছেই।
“এই মুহূর্তে যেই আইন রয়েছে, সেটিও দুর্বল না। এই আইন দিয়েও নির্বাচন করা সম্ভব।…আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশে নির্বাচনে যে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পেরেছি, তার মান যাতে উত্তরোত্তর আরো ভালো হয়।”
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে সশস্ত্রবাহিনী স্থানীয় সরকারের সবগুলো আইনে যুক্ত করা, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য হন, ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক ও লাভজনক পদে থেকে অবস্থায় কাউকে ভোট করতে না দেওয়ার প্রস্তাবে সম্মতি রয়েছে ইসির।
আগের খবর:
স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও খেলাপির জামিনদারকেও চায় না ইসি
ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক কেন নয়: হাই কোর্টের রুল