Published : 18 Sep 2026, 12:23 PM
এক সপ্তাহ আগেই এই ইতিহাস গড়তে পারতেন কাইরন পোলার্ড। কিন্তু থমকে যান তিনি স্রেফ এক রানের দূরত্বে। সেই ভুল করেননি জস বাটলার। বরং ইতিহাসের হাতছানিতে তিনি ছুটলেন দারুণ গতিতে। পোলার্ডকে ছাড়িয়ে সবার আগে তিনি পা রাখলেন নতুন সীমানায়।
২০ ওভারের ক্রিকেটে ১৫ হাজার রান করা প্রথম ব্যাটসম্যান বাটলার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ইংলিশ ব্যাটসম্যান পূর্ণ করেন এই মাইলফলক।
পোলার্ডের রান এখন ১৪ হাজার ৯৯৯।
সিপিএলে গত ১১ সেপ্টেম্বর ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে ১১ রান করলেই ১৫ হাজারে পা রাখতে পারতেন পোলার্ড। কিন্তু গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচটিতে সেদিন ১০ রানে আউট হয়ে যান ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি।
ব্যর্থ সিপিএল অভিযানে ত্রিনবাগোর শেষ ম্যাচ ছিল সেটি। পোলার্ডকে তাই আপাতত থমকে থাকতে হয় সেখানেই।
১৫ হাজার থেকে ১১০ রান দূরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজটি শুরু করেন বাটলার। প্রথম ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৪ বলে ৮০ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় ম্যাচে ৩০ রান করে পৌঁছে যান কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়।
আউট হয়ে যান তিনি ওই ৩০ রানেই। তবে রেকর্ড ততক্ষণে হয়েই গেছে।
গত কয়েক মাসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি এই দুজনের মধ্যে হাত বদল হয়েছে কয়েক দফায়। সামনেও আার সেই চিত্র দেখা যেতে পারে। তবে একটা সময়ে রেকর্ডটি হয়তো লম্বা সময় ধরে থাকবে বাটলারের। ৩৬ বছর বয়সী কিপার-ব্যাটার এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন চুটিয়ে। বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও তার চাহিদা তুমুল।
পোলার্ড আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়েছেন বেশ আগেই। আইপিএলে এখন তিনি কাজ করছেন কোচ বা মেন্টরের ভূমিকায়। ক্রিকেটার হিসেবেও আগের মতো সব লিগে তাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি এখন নেই। বয়স হয়ে গেছে ৩৯। যদিও কিছু লিগে এখনও পারফর্ম করে চলেছেন। তবে অভাবনীয় কিছু না হলে শেষ পর্যন্ত তাকে থাকতে হবে বাটলারের পেছনেই।
১৫ হাজার রান ছুঁতে ৪৯৭ ইনিংস খেললেন বাটলার। তার চেয়ে ১৭৪ ইনিংস বেশি খেলেছেন পোলার্ড। রান কাছাকাছি হলেও দুজনের ইনিংসের ব্যবধান এত বেশি হওয়ার কারণও বোধগম্য। বাটলার মূলত টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান, বড় ইনিংস খেলার সুযোগ তার বেশি। পোলার্ড ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ ইনিংস খেলেছেন পাঁচ নম্বর বা এর নিচে, মূলত ফিনিশারের ভূমিকায় তাকে দেখা গেছে বেশি।
৪৯৭ ইনিংসের ৩১২টিই ওপেনিংয়ে ও তিনে খেলেছেন বাটলার। আরও ১৩১ ইনিংস খেলেছেন চার-পাঁচে।
পোলার্ড ৬৭১ ইনিংসের ৫৪৫টিই খেলেছে পাঁচ থেকে আট নম্বরে। চারে খেলেছেন ১০৪ ইনিংস। তিনে মাত্র ২২টি।
এই দুজনকে ধাওয়া করছেন অ্যালেক্স হেলস। ৫৩১ ইনিংস খেলে ইংলিশ ব্যাটসম্যানের রান ১৪ হাজার ৫৮১। একসময় সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড যার ছিল, যাকে বলা হয় টি-টোয়েন্টি ব্র্যাডম্যান, সেই ক্রিস গেইল ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ৪৫৫ ইনিংসে ১৪ হাজার ৫৬২ রানে।
তার ঠিক পেছনেই ১৪ হাজার ২৮৪ রান নিয়ে আছেন ডেভিড ওয়ার্নার। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ইনিংস খেলেছেন ৪৩৮টি। ভিরাট কোহলির রান ৪১৩ ইনিংসে ১৪ হাজার ২২৮।
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবার ওপরে তামিম ইকবাল। ২৮০ ইনিংসে ৮ হাজার ২৮৩ রানে ক্যারিয়ার শেষ করেছেন এখনকার বিসিবি সভাপতি। বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বাংলাদেশের দূত সাকিব আল হাসানের রান ৪৩৭ ইনিংসে ৭ হাজার ৮৮৪।
বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যান এখনও সাড়ে ৬ হাজার রানও করতে পারেননি।